গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৩ ১৪:০৮ পিএম
‘পুরো পৃথিবী একদিকে আর আমি অন্যদিকে/সবাই বলে করছো ভুল আর তোরা বলিস ঠিক/তোরা ছিলি, তোরা আছিস, জানি তোরাই থাকবি/বন্ধু বোঝে আমাকে, বন্ধু আছে আর কী লাগে?’ গানটি কণ্ঠশিল্পী তপুর। মানুষ বন্ধুপ্রিয়।
বেশিরভাগ মানুষই চায় তার খুব কাছের কেউ থাকুক। যাকে সে সব বলতে পারে, বিপদে-আপদে, সুখে-দুঃখে তার পাশে পাবে। কিন্তু কখনও কখনও এমনও হয় তুমি কোনো একজনের খুব প্রিয় বন্ধু, তার পাশে সব সময় ছিলে। কিন্তু জীবন বাস্তবতায় আজ সেই মানুষটিকে আর পাশে পাচ্ছ না। বন্ধুটি হঠাৎ পরিবর্তন হয়ে গেছে। তার মাঝে দেখতে পেলে অস্বাভাবিক আচরণ। যদি তার বদলে যাওয়াটা খুব প্রকটভাবে দেখা দেয়, তখন তাকে ফিরিয়ে আনার দায়িত্বও বন্ধুর। আবার বন্ধু যদি কোনো কারণে টানা বিষণ্ন আচরণ করে, তা থেকে বেরিয়ে আনতেও সাহায্য করতে পারে বন্ধুরা। এজন্য কিছু বিষয়ের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। বন্ধু দিবসে বন্ধুদের জন্য রইল সেই পরামর্শ-
মনের কথা মনে রয়
তোমার বন্ধু তোমার কাছ থেকে এমন কিছু গোপন করছে বা এমন কোনো মিথ্যা বলছে, যা তুমি সহজেই ধরে ফেলতে পারছ। তখন তুমি তোমার বন্ধুর সঙ্গে লুকোচুরি না করে সরাসরি কথা বলো। কী বা কেন গোপন করছে তা নিয়ে আলাপ করো। তখন সমস্যা সমাধানের নিশ্চয়ই কোনো পথ বেরিয়ে আসবে।
কথায় অস্বাভাবিকতা
বন্ধুটির কথায় কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ করছ কি না। খেয়াল করো, হঠাৎ সে উগ্রবাদী, সাম্প্রদায়িক কথা বলা শুরু করেছে কি না এবং এসব নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়ছে কি না। যদি এ ধরনের কোনো সমস্যা লক্ষ করো, তাহলে বন্ধুটির সঙ্গে আলাপ করো। যদি মনে হয় সে এতে আরও বিগড়ে যাবে তাহলে পরিস্থিতি বুঝে তার অভিভাবক কিংবা নিকটজনের সঙ্গে আলোচনা করো।
হঠাৎ নিখোঁজ
বন্ধুটি তোমাকে বা বাড়িতে কাউকে না বলে দিন কয়েকের জন্য নিখোঁজ হচ্ছে কি না এবং তখন তার মুঠোফোন বন্ধ আছে কি না। এমনও হতে পারে বিষয়টি স্বাভাবিক, কিন্তু অস্বাভাবিকতা লক্ষ করলে বের করতে হবে কেন সে এমনটি করছে।
ঘুমের পরিবর্তন
সারা রাত জেগে থাকা আর সারা দিন ঘুমাচ্ছে কি না, চোখ লাল থাকছে কি না, কথা জড়িয়ে যাচ্ছে কি না। এ ধরনের কোনো লক্ষণ বন্ধুটির মাঝে খেয়াল করে থাকলে তাকে আরও বেশি করে সঙ্গে দাও। একসঙ্গে আড্ডা দেওয়ার অবসরে মুভি দেখতে যেতে পারো। কোথাও কোনো চিত্রপ্রদর্শনী হচ্ছে, বন্ধুকে নিয়ে ঘুরে এসো।
নম্বর পরিবর্তন
ঘন ঘন মোবাইল ফোনের নম্বর পরিবর্তন করছে। এক নম্বর বেশিদিন ব্যবহার করছে না। এমন কিছু নিয়মিত করে থাকলে কেন করছে, কোনো সমস্যা কি না বন্ধুকে জিজ্ঞেস করো। বন্ধুত্বের পরিবর্তন আগে যাদের সঙ্গে মিশত তাদের সঙ্গে মেশা বন্ধ করে রহস্যজনক নতুন বন্ধুদের সঙ্গে মিশছে কি না এবং এই নতুন বন্ধুদের কাউকে পরিবার বা আগের বন্ধুদের সঙ্গে পরিচয় করাচ্ছে কি না। এমনকি আগে যদি কারও সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কও থেকে থাকে, তবে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া তাতেও ভাঙন ধরেছে কি না।
কী করতে পারি...
বন্ধু হতে পারে বিভ্রান্ত। হতে পারে বিপথগামী। মাদক, জঙ্গিবাদ, অপরাধজগতে জড়িয়ে পড়ে সে হারিয়ে যেতে পারে অন্ধকার জগতে। বন্ধু হিসেবে তাকে সঠিক পথে রাখার দায়িত্ব আরেক বন্ধুরই।
যা করা প্রয়োজন
বিচ্ছিন্নতা নয় : বন্ধুর সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা নয়, বরং বন্ধুত্ব বজায় রেখেই তাকে সুপথে আনতে হবে। তাকে বোঝাতে হবে। বন্ধুত্বের দাবি নিয়ে তুমি তাকে বোঝাও, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিপথগামিতার হাত থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব।
নিজের নিরাপত্তা : বন্ধুকে সাহায্য করবে, তবে নিজের নিরাপত্তার দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। অনেক সময় বন্ধুর অপরাধের দায় নিতে হতে পারে নিজেকেও। তাই মুঠোফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইত্যাদিতে এই ঝুঁকিপূর্ণ বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগে সতর্ক থাকা বাঞ্ছনীয়।
ব্যঙ্গ করবে না : বন্ধুর কোনো বিষয় নিয়ে তাকে ব্যঙ্গ করবে না, উত্ত্যক্ত করা ঠিক হবে না। তার দুর্বল দিক নিয়ে হাস্যপরিহাস করা যাবে না।
ইতিবাচক কাজে অংশগ্রহণ : বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাজে বন্ধুরা মিলে অংশ নাও। ইতিবাচক কাজ বেশি বেশি করো, তাহলে বিভ্রান্ত তোমাকে বা বন্ধুটিকে স্পর্শ করার সুযোগ কম পাবে। মাদকের বিরুদ্ধে, অপরাধের বিরুদ্ধে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বন্ধুরা সবাই মিলে আলোচনা করো। তাতে যে বন্ধুর মনে এসব নিয়ে অস্পষ্টতা আছে, তা কেটে যাবে।