× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রচ্ছদ

বন্ধু আমার...

সাদিয়া আফরিন

প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৩ ১৬:২৯ পিএম

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৩ ১৬:৩২ পিএম

মডেল : ইমরান, তামান্না ও হৃদিকা; পোশাক : লারিভ; মেকআপ : বিন্দিয়া; ছবি : ফারহান ফয়সাল; কৃতজ্ঞতা গ্রিডাল ক্যাফে

মডেল : ইমরান, তামান্না ও হৃদিকা; পোশাক : লারিভ; মেকআপ : বিন্দিয়া; ছবি : ফারহান ফয়সাল; কৃতজ্ঞতা গ্রিডাল ক্যাফে

তুমি আমার পাশে বন্ধু হে বসিয়া থাকো... একটু বসিয়া থাকো- এ গানটির মতোই মনে হয় বন্ধু একটু পাশে বসে থাক। একজন প্রকৃত বন্ধু সুখ কিংবা দুঃখ ভাগাভাগি করে নেয়। প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে কাটানো সময় মনে এক শান্তির পরশ এনে দেয়

বন্ধু শব্দটি শুনলেই চোখে ভাসে এমন কিছু মানুষের চেহারা যাদের কাছে নির্দ্বিধায় নিজেকে মেলে ধরা যায়, খুলে বলা যায় মনের যেকোনো কথা। এমন সব কথা যা কি না বাবা-মাকেও আমরা বলতে পারি না, অথচ নিঃসংকোচে বলে ফেলি বন্ধুকে। সুখে-দুঃখে সব সময় একে অন্যের পাশে থাকার অঙ্গীকার থেকে শুরু হয় বন্ধুত্বের। আর এ সুন্দর সম্পর্কটিকে উদযাপন করার জন্য বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব বন্ধু দিবস।

বন্ধু মানে নিছক আড্ডার সঙ্গী হওয়া নয়, বরং বন্ধুর খুশিতে খুশি হওয়া, বন্ধুর দুঃখের সঙ্গী হওয়া। বন্ধুকে সফলতার পথে এগিয়ে দেওয়া। জীবনে একজন ভালো বন্ধু খুঁজে পাওয়া অনেক বড় অর্জন। আর সে বন্ধুত্বকে টিকিয়ে রাখতে সম্পর্কে দিতে হবে মর্যাদা

বন্ধু দিবসের শুরু হয়েছিল অনেক আগে। ১৯১৯ সালের আগস্টের প্রথম রবিবার বন্ধুরা নিজেদের মধ্যে কার্ড, ফুল, উপহার বিনিময় করেছিল। শোনা যায়, ১৯৩৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিল। দিনটি ছিল আগস্টের প্রথম শনিবার। তার প্রতিবাদে পরদিন ওই ব্যক্তির এক বন্ধু আত্মহত্যা করেন। এর পর থেকে জীবনের নানা ক্ষেত্রে বন্ধুদের অবদানের প্রতি সম্মান জানাতে মার্কিন কংগ্রেসে আগস্টের প্রথম রবিবারকে বন্ধু দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৫৮ সালে প্যারাগুয়েতে প্রথম এ দিনটি উদযাপন করা হয়। ডা. রামন আর্টেমিও ব্রাকো ২০ জুলাই তার বন্ধু পুয়ার্ত পিনাস্কের সঙ্গে নৈশভোজন করে এ দিনটি পালন করেন। সে রাতেই বিশ্বব্যাপী বন্ধু দিবস পালনের জন্য জাতিসংঘে প্রস্তাব পাঠান তিনি। প্রায় ৫৩ বছর পর ২০১১ সালের ২৭ জুলাই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ৩০ জুলাইকে ‘বিশ্ব বন্ধু দিবস’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। সেদিন থেকেই ৩০ জুলাইকে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস হিসেবে পালন করা হয়। যদিও এখনো অনেক দেশে এ দিনটি অন্য তারিখে পালন করা হয়। যেমন বাংলাদেশ, ভারতে এ দিনটি পালন করা হয় আগস্টের প্রথম রবিবার। আবার কোনো কোনো দেশে ৮ এপ্রিল বন্ধু দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এ দিবসে বন্ধুরা একে অন্যকে ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ড ও নানা রকম উপহার দেয়।

বন্ধুদের মাঝে নানা রকম আনন্দ উদযাপন করতে দেখা যায় যেমন একসঙ্গে ট্যুরে যাওয়া, একরকম পোশাক পরে ঘুরতে যাওয়া, একসঙ্গে বিশেষ দিনগুলোর খুশি ভাগাভাগি করে নেওয়া ইত্যাদি। একসঙ্গে গ্রুপ স্টাডি করারও বেশ চল রয়েছে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে চাকরি জীবনে পদার্পণ করেও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো যেন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। জীবনে পরিবারের পরই বন্ধুত্বের অবস্থান। বন্ধু মানে নিছক আড্ডার সঙ্গী হওয়া নয়, বরং বন্ধুর খুশিতে খুশি হওয়া, বন্ধুর দুঃখের সঙ্গী হওয়া। বন্ধুকে সফলতার পথে এগিয়ে দেওয়া। জীবনে একজন ভালো বন্ধু খুঁজে পাওয়া অনেক বড় অর্জন। চলার পথে শত শত মানুষের সঙ্গে আমাদের পরিচয় হয়। এদের কেউ অল্প কিছুদিন পরই হারিয়ে যায় আর কেউ কেউ থেকে যায় বছরের পর বছর। কে যে আসল বন্ধু আর কে যে স্বার্থান্বেষী, তা আমরা অনেক সময় বুঝে উঠতে পারি না। যার ফলে আমরা শিকার হই নানা রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতির, যা আমাদের মানসিক প্রশান্তি নষ্ট করে।

মডেল : হৃদিকা ও তামান্না

একেক বয়সে বন্ধুত্বের চাহিদা একেক রকম, গভীরতাও ভিন্ন রকম হয়। তবে সব বন্ধুত্বেই একটা বিষয় নিয়ে ভীতি কাজ করে তা হলো, বন্ধু হারানোর ভয়। কৈশোরে মনে হয় এই বন্ধুরা আজীবন থাকবে, কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন হবে না। কিন্তু সত্যি কথা হলো, চলার পথে অনেক বন্ধুই হারিয়ে যায়। ধীরে ধীরে আমরা বুঝতে শিখি, জীবনে সবাই প্রকৃত বন্ধু নয়। তবে যে বন্ধুদের সঙ্গে একদম আত্মার সম্পর্ক তাদের হারানো মানে জীবনের একটা অংশই হারিয়ে যাওয়া। তাই আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করি যাতে বন্ধুত্বে ফাটল না ধরে। কিছু লক্ষণে বুঝতে পারবেন প্রিয় বন্ধুটির সঙ্গে তৈরি হয়েছে দূরত্ব। যেমন-

একসঙ্গে সময় কাটানোর উৎসাহ কমে যাওয়া : যখন প্রতিদিন দেখা হওয়ার সুযোগ থাকার পরও আপনি বা আপনার বন্ধু একে অন্যের সঙ্গে সময় কাটাতে উৎসাহ পাচ্ছেন না তখন বুঝতে হবে কোথাও একটা ফাটল তৈরি হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে এমন হয় যে বন্ধুদের নিয়মিত দেখা হওয়ার সুযোগ নেই কিন্তু ফোনেও তেমন যোগাযোগ হচ্ছে না, হলেও আগের মতো সম্পর্কের মাধুর্য নেই, তখন ধীরে ধীরে বন্ধুত্বের বাঁধন হালকা হতে থাকে। দুয়েকবার এমন হতে পারে, বন্ধু নানা কারণে একদমই সময় দিতে পারছেন না। তবে যদি প্রতিবারই দেখেন বন্ধুর পক্ষ থেকে আগ্রহ আসছে না, তিনি আপনাকে আর গুরুত্ব দিচ্ছেন না তখন বুঝবেন এ বন্ধুত্বটা হয়তো কেবল আপনি একাই ধরে রেখেছেন। 

দুজনের সমস্যা কথা বলে সমাধানের চেষ্টা না করা : বন্ধুত্বে ঝগড়াবিবাদ বা মনোমালিন্য হতেই পারে। তবে এর সমাধানও বের করতে হবে দুজনে মিলে। একজন যদি ভুল বোঝে তাহলে অন্যজনের দায়িত্ব তাকে সঠিকটা বোঝানো। কিন্তু অধিকাংশ সময়ই রাগের বশবর্তী হয়ে দুই পক্ষই মৌন থেকে বন্ধুত্বের ইতি টেনে দেয়। 

তৃতীয় পক্ষের প্রাধান্য বিস্তার : অনেক সময় দেখা যায়, দুজন বন্ধুর মধ্যে তৃতীয় একজন নিজের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ফাটল ধরানোর চেষ্টা করে। সেই তৃতীয় ব্যক্তির অসদুদ্দেশ্য ধরতে না পারায় বন্ধুদের মাঝে নানা রকম ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। এর পরিণতি হিসেবে বন্ধুত্ব ভেঙেও যেতে পারে। তবে যেকোনো মূল্যে বন্ধুত্ব ধরে রাখতেই হবে ব্যাপারটা এমনও নয়। মনে রাখবেন, দুই পক্ষের অনুভূতি যদি পরস্পরের জন্য একই না হয় তবে সেখানে বন্ধুত্বের বিকাশ হয় না। 


বন্ধু শব্দটি আকারে ছোট হলেও এর গভীরতা অনেক। ইরানের বিখ্যাত মনীষী শেখ সাদি (রহ.) বলেছেন, ‘সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ’। এ উক্তির মূলকথা হচ্ছে, একজন উত্তম বন্ধু যেমন জীবনের গতি পাল্টে দিতে পারে, তেমনি একজন অসৎ বন্ধু জীবনকে ধ্বংসের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে দিতে পারে। তাই বন্ধু হিসেবে কাউকে গ্রহণ করার আগে তাকে যাচাইবাছাই করে নিতে হবে।

জীবনে চলার পথে ভালো বন্ধু থাকা খুব জরুরি। অনেক সময় বাবা-মা কিংবা কাছের মানুষ হয়তো আমাদের বোঝেন না। তখন একজন প্রকৃত বন্ধু লাইফ সেভার হতে পারে। ভালো বন্ধু পুরো জীবন পাল্টে দিতে পারে। অনেক সময় অন্তর্মুখীরা বন্ধুত্ব করতে পারে না বলে হীনম্মন্যতায় ভোগে। মনে করে তাদের কোনো বন্ধু নেই। সবার অনেক বন্ধু থাকতে হবে এমনটা নয়। দুই-তিন জন ভালো বন্ধু থাকাই যথেষ্ট। যারা বলেন বন্ধুত্ব করতে পারেন না, তাদের জন্য পরামর্শ- ক্লাসমেটদের সাহায্য করুন কোনো স্বার্থ ছাড়াই। আস্তে আস্তে ভালো বন্ধুত্ব গড়ে উঠবে।
ডা. সাঈদুল আশরাফ কুশল
মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ, লাইফস্প্রিং 


জীবনের নতুন কিছুর শুরুতে স্বাভাবিকভাবে বাধার সম্মুখীন হলেও প্রকৃত বন্ধুরা কখনও হতাশ করবে না। বিপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় বন্ধুরাই। আর এ বন্ধুত্ব যখন অটুট থাকে তখন দূরত্ব কিংবা সময় কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। বন্ধুত্বের বন্ধন যেন অটুট থাকে সেজন্য অবলম্বন করতে পারেন কিছু পন্থা-

  • সবাই যে জীবনে ভালো বন্ধু হবে তা নয়। কিন্তু যদি বোঝেন আপনার বন্ধু আসলেই প্রকৃত ভালো মনের মানুষ তবে তাকে কোনো পরিস্থিতিতে ভুল বুঝবেন না। যদি ভুল বোঝাবুঝি হয়, তা নিজেরা কথা বলে ঠিক করে নেবেন।
  • তৃতীয় ব্যক্তির কথায় বন্ধুর মনে কষ্ট দেবেন না। ভালো বন্ধু পাওয়া কঠিন কিন্তু হারিয়ে ফেলা অনেক সহজ। আশপাশে অনেক মানুষ পাবেন যারা নিজের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য আপনার বন্ধুত্ব ভাঙতে চেষ্টা করবে। এ ক্ষেত্রে একে অন্যের প্রতি আস্থা রাখাটা জরুরি।
  • কেবল বন্ধুত্বের সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, যেকোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রেই একে অন্যের প্রতি সৎ থাকার কোনো বিকল্প নেই। বন্ধুত্বে সততা থাকলে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা থাকে না।
  • বন্ধুর সুসময়ে পাশে থাকতে না পারলেও দুঃসময়ে সে যেন আপনাকে ছায়ার মতো কাছে পায় খেয়াল রাখবেন। কারণ দুঃসময়ে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় কাছের মানুষকে।
  • বন্ধুত্ব ‘জাজমেন্ট ফ্রি’ রাখুন। হয়তো আপনার বন্ধুর অনেক সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন, তাই বলে যে বাগড়া বসাবেন বা নিজের সিদ্ধান্ত জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাবেন, এমনটা নয়। বন্ধুর সিদ্ধান্তকে সম্মান করুন। তাকে ‘বিচার’ করতে যাবেন না। বন্ধু তো বন্ধুই।
  • বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো একজন ভালো শ্রোতা হওয়া। অনেক সময় বন্ধু আপনার কাছ থেকে অন্য কিছুই চান না। এমনকি আপনার মতামত বা সমর্থনও নয়। কেবল চান তার মনের কথা কারও সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে। জানেন কি, কেবল মনের কথা ভাগ করে নেওয়ার কেউ নেই বলে অনেক মানুষ মানসিক সমস্যা, বিষণ্নতা ও হতাশায় ভোগে। একটা সুস্থ সম্পর্ক চালিয়ে নেওয়ার জন্য অন্য পক্ষের কথা শোনার কোনো বিকল্প নেই।
  • যদি একাধিক বন্ধুর গ্রুপ হয়ে থাকে সেখানে সব সময় নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করবেন।
  • মজার ছলে এমন কোনো কথা বলবেন না যা বন্ধুর মনে চাপা কষ্টের উদ্রেক করে।
  • বন্ধুর সঙ্গে দূরত্বের আভাস পেলে কীভাবে সেগুলো দূর করে সব আগের মতো করে নেওয়া যায় তার পথ খুঁজতে চেষ্টা করুন। বন্ধুত্ব বজায় রাখতে দুজনের পক্ষ থেকেই সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করতে হবে। নয়তো ঝামেলাগুলো বাড়তে থাকবে এবং বন্ধুত্বে বাধা সৃষ্টি করবে।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা