দীপংকর চক্রবর্তী
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৩ ১২:৪১ পিএম
অলংকরণ : জয়ন্ত সরকার
বিজ্ঞানী লাবুসেন খুব সস্তায় বাড়িটা কিনেছেন। গত চার বছর বাড়ির চেহারায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। ভাঙা লোহার বদলে নতুন গেট লাগানোর পর বাড়তি নিরাপত্তার জন্য দেয়ালের ওপর কাঁটাতার বসানো হয়েছে। রঙ করা হয়েছে বাড়িটাতে। বাড়ি পাহারা দেওয়ার জন্য দুটি রোবট কিনে এনেছেন তিনি।
আজকাল এই এক আজব ব্যাপার। পয়সাওয়ালা মানুষ রোবট কিনছে বাজার থেকে। রোবটগুলো দেখতে হুবহু মানুষের মতো। সব ধরনের কাজের জন্য আলাদা রোবট পাওয়া যায়। রান্না করার রোবট আর পাহারা দেওয়ার রোবট সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে সুপার মার্কেটে।
শহরের উত্তর দিকে এ বাড়িটা। গত তিন বছরে এ বাড়িটা কেনার জন্য কেউ আগ্রহ দেখায়নি। পরপর তিনজন মানুষ এখানে খুন হওয়ার পর সবাই বাড়িটা এড়িয়ে চলতে শুরু করে। এরপর শত চেষ্টা করেও আর বাড়িটার ক্রেতা জোগাড় করা যায়নি। ফলে লাবুসেন খুব কম দাম বললেও বাড়ির মালিক এক কথায় রাজি হয়েছেন এবং বিক্রির টাকা হাতে পেয়ে বিদেশ পাড়ি দিয়েছেন।
লাবুসেনের রোবট দুটি বাড়ি পাহারা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হলেও ওদের প্রোগ্রাম সামান্য বদলে দিয়েছেন তিনি। ফলে ওরা এখন বাড়ির সব কাজ করে। আর লাবুসেন তার গবেষণাগারে বসে নতুন নতুন বিষয় নিয়ে ভাবেন।
এলাকার পুরোনো চোর রতন এক রাতে বাড়িটাতে ঢুকতে গিয়ে খুব বিপদে পড়ল। পাহারাদার রোবটকে ফাঁকি দেওয়ার যাবতীয় কৌশল ওর জানা থাকলেও কেমন যেন গুলিয়ে গেল সব। দুই রোবট মিলে ওকে এমন কাতুকুতু দিতে শুরু করল যে ওর দম বন্ধ হয়ে আসার অবস্থা। অথচ রোবট দুটিকে দেখা যাচ্ছিল না। ফলে রোবট না ভূত, নিশ্চিত হতে পারেনি রতন। কোনোমতে প্রাণ নিয়ে বেঁচে ফিরেছে।
লাবুসেন অবশ্য ভূত নিয়ে চিন্তত নন। তিনি জানেন ভূত বলে কিছু নেই। রোবটদের দিয়ে দিনের কাজ এবং রাতের পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করে আরামেই এলেন তিনি। এরপর একদিন হঠাৎ রাতে সুপার মার্কেটে যাওয়ার দরকার হলো। রোবট দুটিকে অনেক ডেকেও সাড়া না পাওয়ায় ঘরের বাইরে এলেন তিনি। দেখেন বারান্দার এক মাথায় নিশ্চিন্তে ঘুমুচ্ছে ওরা।
চমকালেন না লাবুসেন। তিনি জানেন রোবটরা ঘুমায় না। তাহলে ওরা কারা? খুব বেশি ভাবলেন না। জরুরি কাজ আছে তার। ভাবতে ভাবতে গাড়িতে উঠলেন, গাড়িও চলতে লাগল। শহরের মাঝখানে এসে লক্ষ করলেন ড্রাইভিং সিটে হালকা কুয়াশার মতো একটা চেহারা। ভয়ে অজ্ঞান হয়ে গেলেন বিজ্ঞানী লাবুসেন। গাড়ি এসে থামল সুপার মার্কেটের সামনে।