ইকরামুজ্জামান ভূঁইয়া
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৩ ১৭:১৯ পিএম
যেদিকে চোখ যায় শুধু পানি আর পানি নিকলী হাওরে
ঢাকা থেকে অনেকে এক দিনের ভ্রমণের জন্য দর্শনীয় স্থান খোঁজেন, তাদের জন্য দারুণ এক উপভোগ্য স্থান কিশোরগঞ্জের নিকলী, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম হাওর।
বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ মিঠাপানির জলাভূমি এ হাওর। কিশোরগঞ্জ হাওর ভ্রমণ পর্যটকদের জলজ সৌন্দর্যের স্বাদ প্রাণভরে আস্বাদন করতে দেয়। মুগ্ধতার প্রধান বৈশিষ্ট্য যখন জল তখন সর্বোচ্চ উপযোগিতা পাওয়ার একমাত্র সময় হচ্ছে বর্ষাকাল। যেদিকে চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। হাওরে নৌকায় করে ঘুরে বেড়ানোর সময় এখানকার গ্রামের বাড়িগুলো দেখতেও লাগে বেশ। হাওরে বর্ষা থাকে বছরের ছয় মাস। পানি আসতে শুরু করে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠে। শেষ হয় আশ্বিন-কার্তিকে।
এ সময় জুড়েই হাওরে পর্যটকের ভিড় থাকে। তবে ঈদের সময় ভিড় বেশি থাকে। কিশোরগঞ্জের বড় হাওরগুলো ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলায়। হাওরবেষ্টিত এ জনপদে থইথই পানি থাকে পাঁচ-ছয় মাস। পানি নেমে যাওয়ার পর সবুজ পালকে ভরে ওঠে পুরো হাওর। সারা বছর হাওরের সৌন্দর্য অটুট থাকলেও মূলত বর্ষাকালই ভ্রমণপিপাসুদের মূল আকর্ষণ। হাওরে প্রকৃতিপ্রেমীর ভিড় জমে বর্ষায়। কিশোরগঞ্জ শহর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা অটোয় যেতে হয় চামড়াবন্দর।

চামড়াবন্দর থেকে নৌকায় বা স্পিডবোটে ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম যাওয়া যায়। আমরা প্রথমে ইটনার দিকে যাত্রা করি। প্রায় সোয়া ঘণ্টা পর ইটনা পৌঁছাই। একটু বিশ্রাম নেওয়ার পর বের হয়ে পড়ি ইটনার কিছু ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখতে। দুপুরের খাবারের পর আবার ইটনা থেকে বের হই মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের হাওর দেখতে। হাওরের মধ্য দিয়ে ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম দ্বীপের মতো তিন উপজেলাকে সংযুক্ত করেছে অলওয়েদার সড়ক। দুই পাশে বিস্তৃত নীল জলরাশি, মাঝ দিয়ে এ রাস্তা প্রকৃতিপ্রেমীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় হাওরের বিশালতা।
যেভাবে যাবেন
কিশোরগঞ্জে বেশ কয়েকটি রুটে হাওরে যাওয়া যায়। তবে সহজ হলো সায়েদাবাদ বা গোলাপবাগ বা মহাখালী থেকে বাসে সরাসরি কিশোরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড। ঢাকা থেকে কিছুক্ষণ পরপর বাস কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। কমলাপুর থেকে সকাল ৭টা ১৫ ও ১০টা ৪৫ এবং সন্ধ্যা ৬টা ৪০-এ ট্রেনে সরাসরি কিশোরগঞ্জ শহরে। বাসে বা ট্রেনে কিশোরগঞ্জ শহরে যেতে সাড়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মতো লাগে। কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে রিকশায় ৫ মিনিট গেলেই একরামপুর। বাসে এলে গাইটাল বাসস্ট্যান্ড নেমে অটোরিকশার মাধ্যমে একরামপুর আসতে লাগবে ১০ মিনিটের মতো। এখান থেকে অটোরিকশায় বা সিএনজিতে চামড়াঘাট। চামড়াঘাট থেকে ট্রলারে করে মিঠামইন, অষ্টগ্রাম, ইটনা ও নিকলী ঘুরে আসতে পারেন। ইচ্ছা করলে মিঠামইন, অষ্টগ্রাম, ইটনা মহাসড়ক মোটরসাইকেল বা অটোরিকশার মাধ্যমেও ঘুরতে পারেন।
থাকবেন কোথায়
হাওর ভ্রমণ ভালো করে উপভোগ করতে চাইলে কমপক্ষে দুই দিন সময় নিয়ে বের হতে হবে আপনাকে। থাকার জন্য ভালো মানের বেশ কিছু আবাসিক হোটের রয়েছে। মিঠামইনে থাকতে চাইলে উপজেলা পরিষদের ডাকবাংলো, মিঠামইন বাজারে কয়েকটি উন্নতমানের আবাসিক হোটেল ও গেস্টহাউস আছে। তা ছাড়া মিঠামইনে প্রেসিডেন্ট রিসোর্টেও থাকতে পারেন। তবে এর জন্য সেখানে এক রাত কাটাতে ন্যূনতম ৮ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা লাগতে পারে।
কোথায় খাবেন
মিঠামইন, ইটনা, অষ্টগ্রাম বাজারে উন্নতমানের কিছু হোটেল রয়েছে। নিকলীতে হোটেল ক্যাফে আছে, হোটেল সেতুসহ আরও হোটেল পাবেন। হাওরের সবকটি হোটেলে হাওরের তাজা মাছের নানা পদ দিয়ে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় ভরপেট খেয়ে নিতে পারবেন।