রুবাইয়া হাসনাইন
প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৩ ০৯:৫৭ এএম
আপডেট : ০৯ জুন ২০২৩ ১০:৪৪ এএম
অলংকরণ : রাইয়্যা খায়ের, অষ্টম শ্রেণি, বগুড়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয়
আরুশা আমার ক্লাসমেট। সবচেয়ে ভালো বন্ধু। একদিন ওদের ফুলবাগানে গেলাম। ওদের বাগানে অনেক রকম ফুলগাছ আছে। গোলাপ, বেলি, রঙ্গন, হাসনাহেনাসহ হরেকরকম ফুলে ভরা ওদের বাগান। একেক সারিতে একেকরকম ফুলের গাছ। সারি সারি গাছগুলো দেখলে মনে হয় তারা যেন একে অন্যের ভাইবন্ধু। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে।
একদিন আরুশাকে বললাম, ‘আচ্ছা, গাছগুলো যে একটানা দাঁড়িয়ে আছে, ওদের পা লেগে যায় না?’ আরুশা বলল, ‘দূর বোকা! ওদের পা আছে নাকি! ওরা কি মানুষ? ওদের পা থাকলে তো হাঁটতে পারত, বসতে পারত।’
আমি আরুশার কথা পুরোপুরি মানতে পারলাম না। বললাম, ‘একেক প্রাণীর একেকরকম পা। গাছেদেরও হয়তো পা আছে। কিন্তু সেটা অন্যরকম। ওদের তো জীবন আছে। বড় হয়।...’
আরুশাও এবার থমকে গেল। চুপচাপ দাঁড়িয়ে কী যেন ভাবছিল। বললাম, এত ভেবে লাভ নেই। আমাকে একটা গাছ দেবে? আমাদের ছাদে লাগাব। আরুশা রাজি হয়ে গেল। বলল, যে গাছটা তোমার পছন্দ! সেটা নিয়ে যাও।
আমি একটা বেলি ফুলের গাছ নিয়ে এলাম। আব্বুকে বললাম, এ গাছটা আমার বন্ধু। ওর নাম বেলি।
আব্বু বলল, বন্ধুকে তো অনেক যত্নে রাখতে হয়। একটু হেসে বললাম, ঠিক আছে। আব্বুও হেসে উঠল। বিকালে আঙিনার এক কোনায় গাছটাকে লাগিয়ে দিলেন। বললেন, তোমার বন্ধুর ঠিকঠাক যত্ন নিয়ো। পানি দিয়ো। আর প্রতিদিন তার খাবার দিয়ো। গাছের খাবার পানি। না হলে অভিমান করতে পারে, বুঝলে!
আব্বুর কথামতো বেলির যত্ন নেওয়া শুরু করলাম। স্কুলে যাওয়ার আগে এবং স্কুল থেকে ফিরে আসার পরে একবার করে দেখা করি। পানি দিই। গায়ে হাত বুলিয়ে দিই। মনে মনে বলি, তুমি ভালো আছো তো বেলি? বেলি কোনো কথা বলে না। বেশ কিছুদিন পর দেখি বেলিগাছে নতুন পাতা গজানো শুরু করেছে। কিছুদিনের মধ্যেই বেশ ঝাপড়া-ঝুপড়া হয়ে গেল। দেখে মনে হলো সে অনেক ভালো আছে। আরও কিছুদিন পর দেখলাম বেলির মাথার ওপর অনেক ফুল ফুটে আছে। বেলিকে বললাম, তোমার একটা ফুল আমাকে দেবে? বেলি মাথা নাড়ল। ভাবলাম বেলি রাজি হয়েছে। তারপর একটা ফুল নিয়ে কানে গুঁজে নিলাম। মাকে দেখালাম, আব্বুকে দেখালাম। তারা খুব খুশি হলো। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখি খুব সুন্দর লাগছে আমাকে। পরদিন দেখি আরও কিছু ফুল ফুটেছে। মনে হচ্ছে ফুলে ফুলে হেসে উঠেছে বেলি।
ষষ্ঠ শ্রেণি, পলাশ সার কারখানা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পলাশ, নরসিংদী