ফারুক হোসেন, পৃথ্বীশ চক্রবর্ত্তী, আবেদীন জনী
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৩ ২১:২৯ পিএম
অলংকরণ: মামুন হোসাইন
প্রশ্ন করি মাকে
ফারুক হোসেন
প্রশ্ন করি মাকে,
পাচ্ছি যখন যাকে।
যে আমাদের জন্য রাঁধে
সে কেন খায় মেঝে,
আমরা খাচ্ছি টেবিলে তাই
কেমন লাগছে এ যে?
যার কোলে রোজ খুব আরামে
আমার সময় কাটে,
ঘুমাচ্ছে সে মাটির ওপর
আমি ঘুমাই খাটে।
যার হাতে খুব আদর-যত্নে
পরছি জামা আমি,
তার জন্য ভিন্ন জামা
ফ্যাকাশে কম দামি।
যার সাথে সব খেলাধুলা
ভাল্লাগে যার কাছে,
ভিন্ন কেন তার বাথরুম
ছোট্ট, কেন আছে?
আমাকে যে খাওয়ায় মুখে
যে ছাড়া সব খাঁ-খাঁ,
তার জন্য তুচ্ছ খাবার
ভিন্ন করে রাখা।
সে হেরে যায় সবকিছুতে
আমিই থাকি জিতে,
পারো না মা তোমরা এসব
সমান করে দিতে?
মায়ের ডাকে
পৃথ্বীশ চক্রবর্ত্তী
মায়ের ডাকে ঘুম হতে রোজ উঠি
মায়ের হাতের পরশ পেয়ে
ফুলের মতো
রোজ সকালে ফুটি।
মায়ের কথায় হাত-মুখ ধুয়ে
নাশতা খেয়ে
লেখা-পড়ায় বসি
নিজের হাতেই গোসল করান মা
জোছ্না দিয়ে ভেজায় যেমন শশী।
মায়ের মুখের মধুর ভাষা নিয়ে
পড়া- শোনায় মগ্ন থাকি
ইশকুলে রোজ গিয়ে।
মায়ের হাতে খাই প্রতিদিন ভাত
ঘুমপাড়ানি গান গেয়ে মা
ঘুম পাড়িয়ে দেন যে আমায়
যখন আসে রাত।
মায়ের মতো সোহাগ যেমন
করে না কেউ আর
দুষ্টুমিটা করলে বেশি
তখন ঠিকই বকুনি খাই মা’র।
মায়ের মতো, বলতে পারো
ভালো কি কেউ পৃথিবীতে আছে?
মাকে কাছে পেলে আমার
মনটা যেনো
খুব খুশিতে, পাখির মতোই নাচে।
মা
আবেদীন জনী
মায়ের আঁচল ছায়ার মতো
সুখ যে কোথাও নাই
মা হারানো খোকা আমি
কষ্টে আছি তাই।
কোথায় থাকি, খাই বা না খাই
কেউ করে না খোঁজ
মা আমাকে যত্ন করে
খাওয়াতো হররোজ।
আমার হলে অসুখ-বিসুখ
ফেলে মা সব কাজ
আনতো খুঁজে এগাঁও-ওগাঁও
বদ্যি-কবিরাজ।
রাজা-রানির গল্প বলে
ঘুম পাড়াত মায়
মা হারানো খোকা আমি
নির্ঘুমে রাত যায়।
দুঃখগুলো সব পালাত
দেখলে মায়ের হাসি
মা হারিয়ে এখন আমি
চোখের জলে ভাসি।