রেহেনুমা নুরাইয়া তান্নি
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৩ ১২:৪১ পিএম
পথশিশুদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ উদযাপন করেছেন সংগঠনের সদস্যরা ছবি : লেখক
ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি। ঈদ কখনোই বৈষম্যের নয়, সমতার উৎসব। ছোটবেলায় ঈদের খুশি ছিল অন্যরকম। এখনও মনে পড়ে চাঁদরাতে ভাই-বোন সবাই মিলে চাঁদ দেখতে যাওয়া, মেহেদি দেওয়া, ঈদের দিন ভোরে উঠে মজার মজার নাশতা খেয়ে নতুন জামা পরে পরিবার-আত্মীয়দের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে সালামি নেওয়াসহ কতশত আবেগ জড়ানো এই শৈশবকাল।
শৈশব আমরা যে আনন্দে কাটিয়েছিলাম, যে অকৃত্রিম আনন্দ অনুভব করেছিলাম তা হয়তো অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত, অনাথ, হতদরিদ্র কিংবা পথশিশুদের কাছে অপরিচিতই থেকে যায়। পরিবার-পরিজনের আড়ালে চাপা পড়ে যায় তাদের স্বপ্নগুলো। সাম্যের এই উৎসব পথশিশুদের নিয়ে পালনের চেষ্টা করেছি।
অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত, এতিম কিংবা হতদরিদ্র যে শিশুগুলো আমাদের চারপাশে দেখি- তাদের জন্য এক ভিন্ন ধরনের ঈদ উপহার দিতে চেয়েছিলাম আমরা। এই অনিন্দ্যসুন্দর অনুভূতি ও অকৃত্রিম সুন্দর হাসিগুলো উপহার পেয়েছিলাম স্বপ্নদের ঈদ আনন্দে। তাদের মেহেদি, সালামি, নতুন জামা, খেলনা, ফল, নাশতা দেওয়ার মাধ্যমে ছোট ছোট স্বপ্নগুলোকে ছুঁতে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
বাচ্চাদের মেহেদি পরিয়ে দেওয়ার সময় তাদের মাঝে এক অন্যরকম আনন্দ ছিল, এক অকৃত্রিম আনন্দ। চারপাশ এক অনিন্দ্য সুন্দর ভালোবাসা ঘেরা পরিবেশে সবাই মেতে উঠেছিল সেদিন। ‘আপু আপু, আমাকে চাঁদ এঁকে দেন, আমাকে মসজিদ এঁকে দেন, আমাকে ঈদ মোবারক লিখে দেন’- তাদের এসব সুন্দর আবদারের কোনো তুলনা হয় কিনা আমার জানা নেই। কারণ আমাদের কাছে এসব অমূল্য, এসব চাওয়া অপূর্ব সুন্দর।
আমরা তাদের এসবকে ‘স্বপ্ন’ বলেই সম্বোধন করি। কারণ তারাও স্বপ্ন দেখে, আর তাদের সেসব স্বপ্ন এখন আমাদেরও স্বপ্ন। তারাও স্বপ্ন দেখে বড় হওয়ার, মানুষের মতো মানুষ হওয়ার, স্বাভাবিক সব প্রয়োজনীয়তা উপভোগ করার- হোক তা শিক্ষা কিংবা হোক সেটা মৌলিক সব অধিকারের।
ঈদের আনন্দের অন্যতম সংজ্ঞা হলো, পরনে নতুন টকটকে সুন্দর লাল জামা, মেহেদি পরা, নতুন টাকার ঘ্রাণ কিংবা সেমাই-পোলাও। তারাও হয়তো এমনটাই চেয়েছিল। আর আমরা তাই তাদের জন্য তেমনই আয়োজনের চেষ্টা করেছি। তাদের পরনে ছিল নতুন জামা, হাতে লাল-খয়েরি মেহেদি, নতুন চকচকে টাকা, ফল, ফুল, খেলনা, নাশতায় ভরপুর ছিল স্বপ্নবিলি স্টলগুলো।
দিবা-স্বপ্নচারীর স্বপ্নবিলি স্টল ১-এ ছিল খেলনাসামগ্রী, স্বপ্নবিলি স্টল ২-এ ছিল বিভিন্ন ধরনের ফল এবং স্বপ্নবিলি স্টল ৩-তে ছিল নানা ধরনের নাশতার আয়োজন। এ ছাড়া ছিল লটারির ব্যবস্থা, যেখানে বিনামূল্যে লটারির মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পুরস্কার।
এই ঈদে ছিল কিছু বাচ্চার সুন্দর হাসি, আনন্দ ও সুন্দর মুহূর্ত। যে মুহূর্তের কাছে পৃথিবীর যেকোনো সুন্দর মুহূর্ত হার মেনে নিতে বাধ্য। ‘এসো স্বপ্ন বিলিয়ে দেই, এসো স্বপ্ন কুড়িয়ে নেই।’