রুবাইয়া হাসনাইন
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৩ ১৮:২২ পিএম
কোথাও যাওয়ার কথা ভাবছিলাম। মাকে বললাম, কোথাও নিয়ে চল। মা রাজি হচ্ছিল না। বাইরে কুয়াশার ভয় দেখাল। দুই দিন পরই দাদির ফোন, ‘স্কুল তো ছুটি হয়ে গেছে, আয় আমারে একটু দেখে যা। অনেক দিন হলো তোর কথা মনে পড়ছে।’
বললাম, আসতে চাই, মা রাজি হচ্ছে না। তুমি একটু বলে দাও।
‘আচ্ছা ফোনটা দে।’
আমি ফোনটা মাকে ধরিয়ে দিলাম। মা রাজি হলো। মনটা ঝাপটা দিয়ে উঠল। মনে হয় এখনি পাখির মতো উড়ে উড়ে দাদুবাড়ি যাই।
অবশেষে বন্ধু আরশা, জান্নাত আর মিফতাহুল সঙ্গে নিয়ে দাদু বাড়ির পথে রওনা দিলাম। বাসের ভেতরে কিছুটা পথ বই পড়ে আর হইচই করে কেটে গেল। কিছুক্ষণ পর মিফতাহুল ডাক দিয়ে বলল, দেখ আমরা যমুনা সেতুতে এসে গেছি। গেরামটেরাম কিছু দেখা যাচ্ছে না। কেবল থোকা থোকা চর আর পানি। আহা! কী বিশাল যমুনা! দেখতে দেখতে আমারা পৌঁছে গেলাম দাদুবাড়ি। ততক্ষণে সন্ধ্যা নামছে। রাতে ঘুম দিলাম।
সকালে দাদুভাই বাজার থেকে রস আনল। সঙ্গে কয়েকটি পাউরুটি। পাউরুটি দিয়ে রস খাওয়ার অন্যরকম মজা। দাদুভাইকে বললাম, কী করে জানলে, পাউরুটি দিয়ে রস খেতে পছন্দ করি? দাদুভাই হাসি দিয়ে বলল, ‘ওটা কি আর বলতে হয়? আমার দাদুভাইয়ের মনের খবর আমি নিজে নিজেই বুঝে গেছি।’
বললাম, বিকালে সরিষার ফুল দেখতে যাব। সেইটাও কি বুঝে গেছ?
‘হ্যাঁ, সেটাও বুঝে গেছি। তোমরা রেডি হয়ে থেকো। আমি বিকালে এসেই তোমাদের নিয়ে বের হব।’
দাদুভাই আর এলো না। মনটা খারাপ হলে গেল। কেমন কেমন করে যেন মা সেটা বুঝে গেল। মা বলল, চিন্তা কোরো না, আমি তোমাদের নিয়ে যাব। তাই মার সঙ্গেই বের হলাম। মাঠভর্তি সরিষার ফুল। মনে হচ্ছিল যেন এটা হলুদ কাঁথার বিছানা। কে যেন বিছিয়ে রেখেছে। পরক্ষণেই মনে হলো, এটা একটা বিরাট বাগান, কেউ এ ফুলগুলোর চাষ করেছে। চারদিকে থইথই করা ম-ম গন্ধ। মুহূর্তেই মন ভালো হয়ে গেল। মনে হলো, আমরা যেন হলুদ- গোলাপের বনে ঢুকেছি।
শিক্ষার্থী : ষষ্ঠ শ্রেণি, পলাশ সার কারখানা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নরসিংদী