শনিবারের হাসি
আবদুর রব শরীফ
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:১৯ পিএম
আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:২০ পিএম
আমার খুব কাছের বন্ধু। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলে একসঙ্গে পড়তাম, সে ফার্স্ট হতো আর আমি লাস্ট। তো এই বন্ধু আমার আত্মহত্যা করার জন্য পাঁচ তলার ছাদে উঠেছে। পাশের ফ্ল্যাটে দাঁড়িয়ে অনেকে বোঝাতে লাগল, আত্মহত্যা মহাপাপ। কোনো কাজ হলো না। হাতে সময় খুব কম। বাড়িওয়ালার সুন্দরী মেয়ে ছাদে উঠে জিজ্ঞেস করছে ঘটনা কী? ঘটনা বোঝানোর মতো সময় হাতে নেই। তাকে বললাম, আমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকো আর যা বলব তা-ই করবে।
বন্ধুকে বললাম, দোস্ত মরার আগে একটু পেছনে তাকিয়ে দেখ!
বন্ধু পেছনে তাকিয়ে বলল, কী রে মামা, কত নম্বর?
- ‘কত নম্বর মানে? দূরে গিয়ে মর!’
- মরতেই তো আইছি! এক্ষুনি লাফ দেব!
সত্যি সত্যি এক পা একটু করে আলগা করছে সে!
বললাম, মরার আগে কারণটা অন্তত একটু জানিয়ে দিয়ে যা দোস্ত। ফেসবুকে কিছুদিন ধরে লেখার টপিক পাচ্ছি না!
বন্ধু আমার দিকে হতাশ চোখে তাকালো একবার। এরপর আরো একটু এগিয়ে গেল কার্ণিশের ধারে। তার আগেই বাড়িওয়ালার মেয়েটি চিৎকার করে বলল, ‘এই লক্ষ্মী ছেলে শোনো, বোকামি কোরো না! কী হয়েছে আমাকে বল!’
ম্যাজিকের মতো কাজ হলো। বন্ধুটি ‘লক্ষ্মী ছেলে’র মতো সিঁড়ি বেয়ে নেমে আমাদের বিল্ডিংয়ে চলে এলো।
এই ঘটনা বছর দুয়েক আগের। আগামী শুক্রবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেললাইনসংলগ্ন যে নতুন কমিউনিটি সেন্টার হয়েছে সেখানে তাদের বিয়ে। তাদের জন্য দোয়া করবেন। জিজ্ঞেস করলাম, যার জন্য লাফ দিতে চেয়েছিলি তার কী খবর? সে বলল, ‘দূর হ শয়তান।’