× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চোখের সংক্রমণ বর্ষার অস্বস্তি

তাসিয়া মোসাহিদ

প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে

চোখের সংক্রমণ বর্ষার অস্বস্তি

চোখের সংক্রমণ বর্ষার অস্বস্তি

বর্ষা এলেই প্রকৃতিতে যেমন স্বস্তির ছোঁয়া লাগে, তেমনি বাড়ে নানা ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকিও। টানা বৃষ্টি, বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা, জমে থাকা পানি ও ধুলাবালির কারণে এ সময় চোখের সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে কনজাংটিভাইটিস বা চোখ ওঠা, অ্যালার্জি, চোখ লাল হওয়া, চুলকানি, পানি পড়া, ব্যথা কিংবা চোখে জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা বর্ষাকালে অনেকের মধ্যেই দেখা দেয়। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, ডায়াবেটিস রোগী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম; তারা এ ধরনের সংক্রমণে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

কীভাবে সংক্রমণ হতে পারে 

চোখ অত্যন্ত সংবেদনশীল অঙ্গ। সামান্য অসতর্কতাও চোখের বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। যেসব কারণে সংক্রমণ বাড়তে পারে-  

  • বর্ষাকালে বাতাসে জীবাণুর উপস্থিতি বাড়ে এবং আর্দ্র পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস দ্রুত ছড়ায়। 
  • বাইরে বের হলে বৃষ্টির পানি, কাদা, ধুলাবালি বা দূষিত পানি চোখে লাগতে পারে।
  • অনেকে ভেজা হাতে চোখ মুছেন বা ঘষেন, যা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। 

চোখে সংক্রমণ হলে তা দ্রুত একজনের কাছ থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়াতে পারে, বিশেষ করে পরিবারের সদস্য, স্কুলের শিশু বা অফিসের সহকর্মীদের মধ্যে।

চোখ ওঠার লক্ষণ 

চোখ ওঠার সাধারণ লক্ষণ হলো চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া, পুঁজের মতো ময়লা জমা, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চোখের পাতা লেগে থাকা, চুলকানি ও জ্বালাপোড়া। অনেক সময় আলো সহ্য করতে কষ্ট হয় এবং চোখে ভারী ভাব অনুভূত হয়। এসব লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়। অনেকে নিজে নিজে ফার্মেসি থেকে চোখের ড্রপ কিনে ব্যবহার করেন, যা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে স্টেরয়েডযুক্ত ড্রপ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করলে চোখের ক্ষতি হতে পারে।

করণীয় 

বর্ষায় চোখ ভালো রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা। বাইরে থেকে এসে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে। অপরিষ্কার হাতে চোখ স্পর্শ করা যাবে না। চোখ চুলকালে হাত দিয়ে ঘষার বদলে পরিষ্কার টিস্যু বা জীবাণুমুক্ত কাপড় ব্যবহার করা উচিত। কারও চোখ ওঠা থাকলে তার তোয়ালে, রুমাল, বালিশের কভার, চশমা বা প্রসাধনী অন্যদের ব্যবহার করা উচিত নয়। একইভাবে নিজের ব্যবহৃত জিনিসও অন্যের সঙ্গে ভাগ করা যাবে না।

বাইরে বেশ ধুলাবালির পরিবেশে থাকলে নরম সুতির কাপড় খাবারের বিশুদ্ধ ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে চোখ বারবার পরিষ্কার করে নিলে চোখের বিভিন্ন প্রদাহ সহজেই এড়ানো যায়। মনে রাখতে হবে, বাজারে যে ওয়েট টিস্যুগুলো পাওয়া যায় এগুলোতে প্রদাহ সৃষ্টিকারী নানা রকম রাসায়নিক উপাদান থাকে, তাই এগুলো চোখে ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি অনেক ফেসিয়াল টিস্যুতেও সুগন্ধি জাতীয় রাসায়নিক উপাদান থেকে থাকে, এক্ষেত্রে এসব টিস্যু চোখে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। 

বৃষ্টির দিনে বাইরে বের হলে চোখে সানগ্লাস বা প্রটেকটিভ চশমা ব্যবহার করা ভালো। এতে ধুলাবালি, দূষিত পানি ও জীবাণু থেকে চোখ কিছুটা সুরক্ষিত থাকে। যারা কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন, তাদের বর্ষাকালে আরও সতর্ক থাকতে হবে। ভেজা হাতে লেন্স ধরা, অপরিষ্কার সলিউশন ব্যবহার বা দীর্ঘ সময় লেন্স পরে থাকা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। চোখে সামান্য অস্বস্তি থাকলেও লেন্স ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

চোখ পরিষ্কার রাখতে পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধোয়া যেতে পারে, তবে চোখে সরাসরি নোংরা বা সন্দেহজনক পানি দেওয়া যাবে না। পুকুর, ডোবা বা জলাবদ্ধ স্থানের পানি চোখে লাগলে দ্রুত পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা দরকার, কারণ তারা বারবার চোখে হাত দেয় এবং স্কুলে অন্যদের কাছ থেকে সংক্রমিত হতে পারে। শিশুর চোখ লাল হলে তাকে স্কুলে পাঠানো থেকে বিরত রাখা ভালো, যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে।

পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার ও পানি পানও চোখের সুস্থতায় ভূমিকা রাখে। ভিটামিন এ, সি ও ই সমৃদ্ধ খাবার, যেমন গাজর, সবুজ শাকসবজি, আম, পেঁপে, লেবু, বাদাম ও ডিম চোখের জন্য উপকারী। দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটার স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে চোখ শুকিয়ে যেতে পারে, তাই মাঝে মাঝে চোখকে বিশ্রাম দিতে হবে।

চোখে ব্যথা, দৃষ্টির ঝাপসা ভাব, অতিরিক্ত পুঁজ, আলোতে অস্বস্তি বা কয়েক দিনেও সমস্যা না কমলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, চোখের সংক্রমণ সাধারণ মনে হলেও অবহেলায় তা গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই বর্ষায় সামান্য সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং সময়মতো চিকিৎসাই পারে চোখকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে।


শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা