প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ১৪ ঘণ্টা আগে
গতকাল রবিবার (২৮ জুন) আনুমানিক রাত পৌণে এগারোটায় রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাহিত্যিক ভাস্কর চৌধুরী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।
গুণী এই লেখকের প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘রক্তপাতের ব্যাকরণ’ প্রকাশ হয় ১৯৮৪ সালে। এই গ্রন্থের মধ্য দিয়ে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। গল্প দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও সাহিত্যের নানা শাখায় নিজস্ব স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। তার গল্প, কবিতা, উপন্যাস মিলিয়ে গ্রন্থের সংখ্যা ৪০টিরও।

তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে ‘বাষট্টি বিঘা নদী’, কোথায় নিবাস, পতনের সময়, শনিবারে বৃষ্টি, লালমাটি কালো মানুষ, স্বপ্নপুরুষ, মীমাংসা পর্ব, আষাঢ়ের জীবনদর্শন, ভূমি, কৃষ্ণপুরাণ, কখনও কখনও এরকম ঘটে, আমার কেবলই সমর্পণ, নিরঞ্জন আমার বন্ধুর নাম, আমার ভেতরে আঁধার, পরাণের গহীন, তোর বড় কষ্টরে প্রভৃতি।
ভাস্কর চৌধুরীর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সাহিত্যিক ও শুভাকাঙ্ক্ষিরা। অনেকেই সমাজ মাধ্যমে শোকবার্তায় লিখেছেন, বাংলা সাহিত্য স্বতন্ত্র এক কণ্ঠকে হারালো।
সোমবার বাদ ফজর ঢাকার উত্তর আদাবরের ঢাকা হাউজিং জামে মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রয়াতের অনুজ চক্ষু বিশেষজ্ঞ জিয়াউল আহসান জাকারিয়া মুক্তা জানান, এদিন বাদ আসর গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের ভবানীপুরে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
ভাস্কর চৌধুরী পরিবার নিয়ে রাজধানীর ঢাকা হাউজিং এলাকায় নিজের বাড়িতে বসবাস করতেন। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। প্রয়াতের পরিবার জানান, অসুস্থবোধ করায় ভাস্কর চৌধুরীকে গত ১৫ জুন রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ভাস্কর চৌধুরী জন্ম ১৯৫২ সালের ১৭ নভেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের ভবানীপুর গ্রামে। তার আনুষ্ঠানিক নাম আশরাফুল ইসলাম। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পড়াশোনা শেষে সরকারি চাকরির পাশাপাশি লেখালেখি অব্যাহত রাখেন তিনি।
বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি, মানুষ, লোকজ সংস্কৃতি এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনসংগ্রামকে উপজীব্য করে সারাজীবন সাহিত্য সাধনায় ব্যপ্ত ছিলেন ভাস্কর চৌধরী। সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর জীবন, সংস্কৃতি ও সংগ্রাম নিয়ে রচিত তার মহাকাব্যিক উপন্যাস ‘ধনসা মাতি ও তার জীবনবৃক্ষ’ ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক তার স্মৃতিকথা ‘মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ’ প্রকাশিত হয় ২০১৫ সালে।