প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
গভীর সমুদ্রের অন্ধকার ও খাদ্যস্বল্প পরিবেশে বসবাসকারী প্রাণী আইসোপড। ছবি: মোট
গভীর সমুদ্রের অন্ধকার ও খাদ্যস্বল্প পরিবেশে বসবাসকারী বিশালকায় আইসোপড নামের এক ধরনের ক্রাস্টেশিয়ান প্রাণী পাঁচ বছরেরও বেশি সময় না খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিশালাকারের পাকস্থলী, অত্যন্ত ধীর বিপাকক্রিয়া এবং ব্যাকটেরিয়া থেকে পাওয়া একটি বিশেষ জিনের সমন্বয়ে তারা এই অসাধারণ সক্ষমতা অর্জন করেছে।
গভীর সমুদ্রের প্রাণীদের বেঁচে থাকার কৌশল নিয়ে নতুন গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি সম্প্রতি বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী ‘সেল’-এ প্রকাশিত হয়েছে।
চীনের বিজ্ঞান একাডেমির ইনস্টিটিউট অব ওশানোলজির গবেষক জিয়ানহাই শিয়াং বলেন; গভীর সমুদ্র মূলত ঠান্ডা, অন্ধকার মরুভূমির মতো, যেখানে খাদ্য খুবই দুর্লভ। উপরের স্তর থেকে মৃত জৈব পদার্থের ক্ষুদ্র কণা ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসে এবং সেটিই এসব প্রাণীর প্রধান খাদ্য।
গত শুক্রবার সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন এসব তথ্য জানা গেছে।
গবেষণায় ‘বাথিনোমাস ডয়েডারলাইনি’ এবং ‘বাথিনোমাস জেমসি’ নামক দুটি প্রজাতির আইসোপড নিয়ে কাজ করা হয়। এর মধ্যে দ্বিতীয় প্রজাতিটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৯০০ মিটার গভীরে বাস করে।
গবেষকদের মতে, গভীর সমুদ্রের আইসোপডরা ‘বেশি সঞ্চয়, কম ব্যয়’নীতিতে চলে। গভীর জলের প্রজাতিটির পাকস্থলী শরীরের অভ্যন্তরীণ গহ্বরের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জায়গা দখল করে থাকে। ফলে খাবার পাওয়া গেলে তারা বিপুল পরিমাণ তা জমা রাখতে পারে। পরে ধীরে ধীরে তা থেকে শক্তি গ্রহণ করে।
গবেষণার প্রধান লেখক জিয়ানবো ইউয়ান বলেন, অত্যন্ত কম বিপাকক্রিয়া, ধীর হজম এবং পুষ্টির দক্ষ ব্যবহারের কারণে একটি বড় খাবারই কয়েক বছর পর্যন্ত শক্তির জোগান দিতে পারে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, আইসোপডের শরীরে থাকা ‘ক্ল্যামাইডিয়া’ নামের কিছু ব্যাকটেরিয়া চর্বি সঞ্চয়ে সহায়তা করতে পারে, যা দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি সরবরাহ করে।
এ ছাড়া বিজ্ঞানীরা এনডিওয়ান নামের একটি বিশেষ জিন শনাক্ত করেছেন। এই জিনটি শক্তি উৎপাদন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।