এম ডব্লিউ ম্যাগাজিন বাংলাদেশ এবং স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের ন্যাচারাল ওয়েলনেস ব্র্যান্ড মায়ার যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয় বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান ‘সঙস অব বেঙ্গল: প্রাণ বন্ধের সনে’। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বিশ্ব সংগীত দিবস উপলক্ষে বাংলার সমৃদ্ধ লোকসংগীতের ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যে আয়োজন করা হয় বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান ‘সঙস অব বেঙ্গল: প্রাণ বন্ধের সনে’।
এম ডব্লিউ ম্যাগাজিন বাংলাদেশ এবং স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের ন্যাচারাল ওয়েলনেস ব্র্যান্ড মায়ার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় ১২ জুন ২০২৬ তারিখে আলোকি কনভেনশন সেন্টারে।
এবারের আয়োজন উৎসর্গ করা হয় বাংলা লোকসংগীতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মরমি কবি ও গীতিকার দেওয়ান হাছন রাজা চৌধুরীকে।
এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তার গান ভালোবাসা, বৈরাগ্য, আত্মচেতনা ও জীবনের গভীর সত্যের সন্ধান দিয়ে মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
সেই কালজয়ী সৃষ্টিকে সমসাময়িক উপস্থাপনার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম লক্ষ্য।
সংগীত, গল্পকথন এবং সৃজনশীল শিল্পভাবনার সমন্বয়ে হাছন রাজার জীবনদর্শন, চিন্তাভাবনা ও সংগীতের চিরন্তন আবেদনকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের মিউজিক ডিরেক্টর ও কিউরেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক শায়ান চৌধুরী অর্ণব। তার শিল্পসম্মত সংগীত বিন্যাসে হাছন রাজার কালজয়ী গানগুলো নতুন আবহে পরিবেশিত হয়ে দর্শকদের জন্য সৃষ্টি করে এক অনন্য সংগীতানুভূতি।
সন্ধ্যাজুড়ে পরিবেশিত হয় হাছন রাজার জনপ্রিয় ও কালজয়ী গান।
সুর, দর্শন ও আবেগের মেলবন্ধনে দর্শকরা যেন ফিরে যান প্রকৃতি, হাওর সংস্কৃতি, লোকজ জীবনবোধ এবং আধ্যাত্মিক ভাবধারার সেই জগতে, যা হাছন রাজার সৃষ্টিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।
হাছন রাজার গানের কেন্দ্রীয় বিষয় ‘মনের মানুষ’, আত্মঅনুসন্ধান এবং মরমি জীবনদর্শনও বিভিন্ন পরিবেশনার মধ্য দিয়ে নতুনভাবে উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এম ডব্লিউ ম্যাগাজিন বাংলাদেশের সম্পাদক ও প্রকাশক রুমানা চৌধুরী।
তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে অর্থবহভাবে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “শুরু থেকেই এম ডব্লিউ বিশ্বাস করে, সংস্কৃতি কেবল তার মূল রূপে সংরক্ষণ করার বিষয় নয়; বরং তা নতুন প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে ব্যাখ্যা, অনুভব ও পৌঁছে দেওয়ারও বিষয়। এই আয়োজন সেই বিশ্বাসেরই বহিঃপ্রকাশ।”
তিনি আরও বলেন, এম ডব্লিউ-এর সাংস্কৃতিক উদ্যোগগুলো বরাবরই এমন একটি পরিসর তৈরির চেষ্টা করেছে, যেখানে সাহিত্য, সংগীত, শিল্প ও ঐতিহ্য সমসাময়িক দর্শকের সঙ্গে অর্থবহ সংযোগ স্থাপন করতে পারে।
একই সঙ্গে তিনি স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরীর সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল উদ্যোগে অব্যাহত সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মালিক মোহাম্মদ সাঈদ।
তিনি বাংলা লোকসংগীতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও উদ্যাপনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “‘সঙস অব বেঙ্গল: প্রাণ বন্ধের সনে’-এর মতো আয়োজন নতুন প্রজন্মকে দেশের মূল্যবান সংগীত ঐতিহ্যের সঙ্গে পুনরায় পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়।”
তিনি শিল্প, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল চর্চার প্রতি মায়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের কমিউনিকেশন পার্টনার হিসেবে কাজ করেছে সান কমিউনিকেশনস লিমিটেড। আয়োজনটি প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে উদ্যাপন করে এমন উদ্যোগগুলোর সঙ্গে মায়ার চলমান সম্পৃক্ততারও প্রতিফলন ঘটায়।
বিশ্ব সংগীত দিবস উপলক্ষে বিশেষ এই অনুষ্ঠানটি আগামী ২১ জুন ২০২৬, রাত ৮টা ৩০ মিনিটে মাছরাঙা টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হবে।
সংগীত, সংস্কৃতি ও আত্মঅন্বেষণের এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের মাধ্যমে এম ডব্লিউ ম্যাগাজিন বাংলাদেশ এবং মায়া আবারও প্রমাণ করেছে যে বাংলার ঐতিহ্য কেবল সংরক্ষণের বিষয় নয়; বরং তা নতুন প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে পৌঁছে দেওয়ার এক চলমান প্রয়াস।
বাংলার সংগীত, দর্শন ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জীবন্ত, প্রাসঙ্গিক ও অনুপ্রেরণাদায়ক করে তোলার প্রত্যয়ই ছিল আয়োজনটির মূল শক্তি।