ইসতিয়াক আহমেদ
প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে
পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন এই অরণ্যে নদী আর গাছপালার এক অনন্য সহাবস্থান।
বাংলাদেশের সবচেয়ে রহস্যময় অথচ মোহনীয় স্থানগুলোর কথা উঠলে সবার আগে যে নামটি আসে, তা হলো সুন্দরবন। পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন এই অরণ্যে নদী আর গাছপালার এক অনন্য সহাবস্থান। জোয়ার-ভাটার ছন্দে বদলে যাওয়া প্রকৃতি, বাতাসে মিশে থাকা বুনো গন্ধ আর অজানার আহ্বান- সব মিলিয়ে সুন্দরবন যেন এক জীবন্ত বিস্ময়।
এই বিস্ময়কর অরণ্যের খুব কাছেই রয়েছে এমন একটি জায়গা, যেখানে ঢাকা থেকে সকালে রওনা হয়ে দুপুরের মধ্যেই পৌঁছে যাওয়া যায়। নাম পিয়ালি ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড কালচারাল সেন্টার। অসংখ্য রিসোর্টের ভিড়ে এটি আলাদা হয়ে উঠেছে তার নিজস্ব ইকোসিস্টেম, পরিবেশবান্ধব নির্মাণশৈলী এবং প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকা নান্দনিক আবহের কারণে।
যারা শহরের ব্যস্ততা থেকে কিছু সময়ের জন্য মুক্তি খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে আদর্শ আশ্রয়। নদীর ধারে বসে সূর্যাস্ত দেখা, পাখির ডাক শুনে ঘুম ভাঙা, বনাঞ্চলের নীরবতা অনুভব করা কিংবা স্থানীয় টাটকা খাবারের স্বাদ নেওয়া- সব মিলিয়ে এখানে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে স্মরণীয়। ভ্রমণের শুরুটা হয়েছিল খুলনাগামী বাসে যাত্রা শুরুর মাধ্যমে।
এই রুটে চলাচল করে এনা, সোহাগ পরিবহন, টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস, গ্রিনলাইন, ইমাদসহ বিভিন্ন পরিবহন। বাসের ধরন অনুযায়ী ভাড়া শুরু হয় প্রায় ৬৯০ টাকা থেকে। খুলনার পথে ছুটে চলা বাস থেকে ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে দৃশ্যপট। নগর জীবনের কংক্রিটের দেয়াল ছেড়ে চোখের সামনে হাজির হয় সবুজ মাঠ, নদী আর গ্রামীণ জনপদের চিরচেনা সৌন্দর্য। সকাল ৭টায় যাত্রা শুরু করে প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে পৌঁছে গেলাম কাটাখালী মোড়ে। সুন্দরবন বা মোংলা অঞ্চলে যেতে হলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট। কাটাখালী মোড় থেকে মোংলার দূরত্ব প্রায় ৩৩ কিলোমিটার। এই পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য রয়েছে একাধিক বিকল্প।
স্বল্প খরচে যেতে চাইলে লোকাল বাস পাওয়া যায়। আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য মাইক্রোবাস কিংবা ব্যক্তিগত গাড়িও ভাড়া করা যায়। আমরা বেছে নিয়েছিলাম একটি রিজার্ভ হাইস। মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ মিনিটেই পৌঁছে গেলাম মোংলা। পথে দুই পাশে বিস্তৃত সবুজ, নদীর ছোঁয়া আর দক্ষিণাঞ্চলের সহজ-সরল জীবনযাত্রা ভ্রমণের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়। মোংলা ফেরি ঘাটেই আছে পর্যটন করপোরেশনের হোটেল পশুর।
মোংলা ফেরি ঘাটে পৌঁছেই দেখি অলরেডি চলে এসেছে রিসোর্ট থেকে নৌকা আমাদের নিতেই। দলবল বেঁধে আমরা উঠে পড়লাম নৌকায়। এর পর যাত্রা শুরু। এই পথে ব্যবহার করা হয় মূলত ফাইবারের নৌকাগুলো; যা বেশ নিরাপদ। মোংলার একটা আলাদা সৌন্দর্য আছে। এখানে বাতাসেও একটা শান্তভাব অনুভব করা যায়। চারপাশে নদী, জেটি, ছোট ছোট ট্রলার আর সুন্দরবনের আবহÑ সবকিছু মিলিয়ে জায়গাটা সত্যিই অন্যরকম।
আমাদের বোট শুরুতেই পাড়ি দিতে শুরু করল পশুর নদী। আমাদের গন্তব্য নদীর ওপারেই গভীর বনঘেঁষা বানিয়াশান্তা ইউনিয়ন। কারণ সেখানেই নদীর ধারে আছে আমাদের আজকের ঠিকানা পিয়ালি ইকো রিসোর্ট। মোংলা ছাড়িয়ে যখন নদী আর সরু খালপথ ধরে পিয়ালি রিসোর্টের দিকে এগোতে থাকবেন, তখন থেকেই শুরু হয় আসল সুন্দরবনকে অনুভব করার গল্প। চারপাশে শুধু সবুজের স্তব্ধতা, পানির ওপর ভেসে থাকা আলো-ছায়া আর দূরে কোথাও জেলের ছোট নৌকা কিংবা মৌয়ালদের জীবনের লড়াই। মনে হবে প্রকৃতি এখানে এখনও নিজের পুরনো ছন্দে বেঁচে আছে।
খালের দুই পাশে ঘন গাছপালার ফাঁকে ফাঁকে হঠাৎ দেখা মেলে হরিণের, কোথাও দলবেঁধে ছুটে বেড়ানো বানর, আবার কখনও রোদ পোহাতে থাকা বিশাল গুইসাপ। আকাশজুড়ে উড়ে বেড়ায় অচেনা কত পাখি; তাদের ডাক আর নদীর শব্দ মিলিয়ে পুরো যাত্রাকেই করে তোলে এক জীবন্ত বন্য অভিজ্ঞতা। আর সুন্দরবনের এই পথে চলতে চলতে ভাগ্য খুব ভালো হলে দেখা মিলতে পারে নোনাপানির কুমির কিংবা রয়েল বেঙ্গল টাইগারেরও।
আমাদের যাত্রাটাও ছিল ঠিক তেমনই রোমাঞ্চে ভরা। শুরুতে বানর, পাখি আর গুইসাপ দেখে মুগ্ধ হলেও কিছুক্ষণ পর নদীর কিনারে হঠাৎ চোখে ধরা দিল বিশাল এক নোনাপানির কুমির। সেই মুহূর্তে চারপাশ যেন কয়েক সেকেন্ডের জন্য থমকে গিয়েছিল। দূর থেকে তাকে পানির ধারে নিশ্চুপ পড়ে থাকতে দেখা- সত্যিই এমন এক অনুভূতি, যা ক্যামেরায় ধরা যায়, কিন্তু পুরোটা ভাষায় বোঝানো যায় না। এ যেন প্রকৃতির একেবারে কাছাকাছি চলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা।
এই পথটা প্রায় দেড় ঘণ্টার। দেড় ঘণ্টা পেরোতেই দূর হতে চোখে পড়ল ইকো রিসোর্টের ঘাট। অন্য অনেক রিসোর্টের মতো শুরুতেই নদী দখল করে দালানের উপস্থিতি নয়, পিয়ালি রিসোর্টের ব্যতিক্রম ধরা দেয় ঠিক তার ঘাটেই। যেখানে অধিকাংশ রিসোর্ট নদীর বুক কেটে, বনের গাছপালা সরিয়ে নিজেদের জন্য আলাদা ভিউ তৈরি করেছে, সেখানে পিয়ালি নদীর সেই সৌন্দর্যকে উন্মুক্তই রেখেছে সবার জন্য। নদীর ওপর কোনো ভারী স্থাপনা নেই, নেই প্রকৃতিকে আটকে ফেলার চেষ্টা। চারপাশ ঘিরে এখনও দাঁড়িয়ে আছে গোলপাতা, কেওড়া আর বুনো গাছগাছালি। মনে হবে মানুষ এখানে প্রকৃতির ওপর আধিপত্য করতে আসেনি, বরং প্রকৃতির সঙ্গেই সহাবস্থান করতে এসেছে।
সবচেয়ে সুন্দর বিষয় হলো- এখানে নদী আর বনের ভিউ কোনো নির্দিষ্ট দামি রুমের জন্য সংরক্ষিত নয়। এই সৌন্দর্য সবার জন্য সমানভাবে খোলা। নদীর হাওয়া, বনের নীরবতা আর সূর্যাস্তের রঙ এখানে কোনো বিলাসিতা নয়, বরং প্রতিটি অতিথির প্রাপ্য।
রিসোর্টে পা রাখতেই গোলপাতা দিয়ে তৈরি এক মুকুট পরিয়ে আমাদের স্বাগত জানানো হলো। মুহূর্তটা ছিল একদম অন্যরকম, যেন সুন্দরবনের নিজস্ব ভাষায় বনরাজ্যে প্রবেশের আনুষ্ঠানিক অনুমতি মিলল। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে এলো স্থানীয় তরমুজ দিয়ে বানানো ওয়েলকাম ড্রিংকস। ক্লান্ত ভ্রমণের পর সেই ঠান্ডা শরবতের স্বাদ যেন পুরো শরীরজুড়ে ছড়িয়ে দিল এক প্রশান্তি।
এই রিসোর্টে রয়েছে দুটি এসি ফ্যামিলি কটেজ, তিনটি নন-এসি ফ্যামিলি কটেজ, দুটি কাপল নন-এসি ডুপ্লেক্স কটেজ এবং বন্ধুদের জন্য আলাদা দুটি ফ্রেন্ডস রুম। সব মিলিয়ে প্রায় চল্লিশ জনের থাকার ব্যবস্থা। তবে সংখ্যার চেয়ে এখানে বেশি মুগ্ধ করবে এর নির্মাণশৈলী। বাঁশ, বেত, কাঠ আর গোলপাতা দিয়ে তৈরি প্রতিটি কটেজ যেন সুন্দরবনের প্রকৃতিরই একটি অংশ। আধুনিকতার প্রয়োজনীয়তা রেখেও কোথাও প্রকৃতির স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট করা হয়নি। মাত্র ২৩০০ টাকা জনপ্রতি থেকেই শুরু যে, এই রিসোর্টের ফুলবোডিং প্যাকেজ।
সবকিছুর পরও সবচেয়ে বেশি ভালো লাগবে সেই নীরবতা; যেখানে রাতে শুধু বাতাসের শব্দ আর দূরের জঙ্গলের আবছা ডাক শোনা যায়। রিসোর্টের মাঝখানের পুকুরে চাইলে সাঁতার কাটা যায় কিংবা ছিপ ফেলে মাছ ধরার অভিজ্ঞতাও নেওয়া যায়। শহুরে জীবনে হারিয়ে যাওয়া ছোট ছোট আনন্দগুলো এখানে আবার নতুন করে ফিরে আসে।
লাঞ্চ শেষে বের হলাম আশপাশের গ্রামীণ জীবন দেখতে। সরু পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে দেখা মিলল নানা রকম মানুষের, তাদের ভিন্ন জীবনযাপন, সংস্কৃতি আর প্রতিদিনের সংগ্রামের। সুন্দরবনের পাশের এই জনপদ যেন শহরের ব্যস্ত পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এক বাস্তবতা।
রিসোর্টের কাছেই রয়েছে বনবিবির মন্দির, গোলপাতা আর বনের সবুজে ঘেরা, একদম নদীর ধারে। জায়গাটিতে পা রাখলেই এক ধরনের রহস্যময় শান্তি অনুভব হয়। সুন্দরবনের এই অঞ্চলে বনবিবি ঘিরে প্রচলিত আছে অসংখ্য কিংবদন্তি। জেলে, মৌয়াল, কাঠুরিয়া; যারা জীবিকার জন্য প্রতিদিন বনের গভীরে যায়, তারা বাঘের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে বনবিবির কাছে প্রার্থনা করে।
প্রতি বছর মাঘ-ফাল্গুন মাসে এখানে বনবিবির পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হলো- এই পূজায় ধর্মের কোনো বিভাজন নেই। হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে এখানে মানত করে, প্রার্থনা করে। এখানে মন্ত্রের সঙ্গে যেমন শোনা যায় দোয়া দরুদ, তেমনি বিশ্বাসের সঙ্গে মিশে থাকে সহাবস্থানের গল্প। মনে হয় সুন্দরবনের গভীরে এসে দুটি ভিন্ন ধর্ম নয়, বরং মানুষ আর প্রকৃতিই এক হয়ে গেছে বনবিবির আশ্রয়ে।
দুপুরের নীরব বিশ্রাম শেষে যখন বিকালের আলো ধীরে ধীরে নরম হয়ে এলো, আমরা আবার বেরিয়ে পড়লাম এক নতুন অভিজ্ঞতার পথে- ক্যানেল ক্রুজিং। সবাই মিলে দলবেঁধে উঠে পড়লাম নৌকায়, আর শুরু হলো খালের বুক চিরে এগিয়ে চলা এক রোমাঞ্চকর যাত্রা। পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট পরে নিরাপত্তার আশ্বাস নিয়েই নৌকা এগোতে লাগল ধীরে ধীরে, পানির ঢেউয়ের শব্দ আর বৈঠার ছন্দ মিলিয়ে তৈরি হলো এক মায়াবী পরিবেশ।
খালের এক পাশে যত দূর চোখ যায়, ঘন গভীর বন। মনে হয় যেন মানুষ থেকে বহু দূরে, একেবারে প্রকৃতির হৃদয়ের ভেতরে চলে এসেছি। কোথাও পাখির ডাক, কোথাও পাতার নড়াচড়াÑ সব মিলিয়ে এক বুনো থ্রিলিং অনুভূতি, যা শুধু দেখা নয়, পুরো শরীর দিয়ে অনুভব করার মতো।
ক্যানেল ক্রুজিং শেষ করে ফিরে এলাম রিসোর্টে। সন্ধ্যার সময় চারপাশে সবুজ বন আর নরম আলোয় ঘেরা কটেজগুলো এক অদ্ভুত শান্ত আবহ তৈরি করে। ধীরে ধীরে সন্ধ্যা গড়িয়ে যখন রাত নামতে শুরু করল, প্রকৃতির আলো নিভে গেলেও রিসোর্ট জ্বলে উঠল কৃত্রিম আলোর ঝলকে। হাজার তারার নিচে কেউ হ্যামকে শুয়ে, কেউ দোলনায় বসে, কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠল। এমন একটি মুহূর্ত, যেখানে সময় যেন নিজের গতিই ভুলে যায়।
দুর্ভাগ্য বলতে এটুকুই- আমরা পূর্ণিমার রাত পাইনি। পূর্ণিমার আলোয় নদীর পাশে এই পরিবেশ কতটা জাদুকরী হয়ে ওঠে, তা কল্পনাও হয়তো পুরোপুরি ধরতে পারবে না। তবু এই অর্ধচাঁদের রাতেও সৌন্দর্যের কোনো কমতি ছিল না। নদীর ধারে বসে, মাথার ওপর অসংখ্য তারা আর চারপাশের নিস্তব্ধতা মিলে সময় যেন থেমে গিয়েছিল। কখন যে গভীর রাত হয়ে গেল, টেরই পাওয়া যায়নি। আমরা অপেক্ষায় রইলাম নতুন এক সকালেরÑ যেখানে আবার শুরু হবে প্রকৃতির আরেক নতুন গল্প।
আরেকটি সকাল শুরু হলো শান্ত সবুজে ঘেরা প্রকৃতির মাঝে। সুন্দরবনে আমাদের দ্বিতীয় দিন। আজ আর তাড়াহুড়ো নেই, তাই একটু আলসেমিকেই সঙ্গী করে দেরি করেই উঠলাম ঘুম থেকে। গ্রামবাংলার ঘরোয়া স্বাদ নেওয়া শেষে আবারও গল্প আর আড্ডায় কেটে গেল কিছুটা সময়। নদীর হাওয়া, চারপাশের নীরবতা আর প্রিয় মানুষের সঙ্গে ছোট ছোট মুহূর্ত- এই সৌন্দর্যগুলোই হয়তো ভ্রমণের আসল প্রাপ্তি।
আজ ফিরব একটু দেরি করে। আমাদের বাস কাটাখালী থেকে সন্ধ্যা ৬টায়, আর বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে মোংলায় আমাদের জন্য অপেক্ষা করবে নির্ধারিত হাইস। তাই ঠিক হলো, লাঞ্চ শেষ করেই আমরা রওনা হলাম মোংলার পথে। তবে ফেরার আগে আরেকবার প্রকৃতির আরও গভীরে ঢুঁ মারতে চললাম করমজলে। Karamjal Wildlife Centre, যেখানে রয়েছে হরিণ প্রজননকেন্দ্র, কুমির প্রজননকেন্দ্র এবং বিখ্যাত মানকি ট্রেইল।
সবকিছু ঘুরে দেখে আবারও উঠে বসলাম নৌকায়। নদীর জল কেটে নৌকা এগিয়ে চলল ধীরে ধীরে। বেলা বাড়তে বাড়তে বিকাল হয়ে এলো। আলো বদলাতে শুরু করল আকাশের রঙ। আর তখনই মনে হলোÑ এবার সত্যিই ঘরে ফেরার পালা। তবু সুন্দরবন যেন থেকে যায় মনে। তার নদী, বন, খাল, পাখির ডাক, বুনো নীরবতা আর মানুষগুলোর সরলতাÑ সবকিছু মিলিয়ে এই যাত্রা শুধু একটি ট্যুর ছিল না, ছিল প্রকৃতিকে নতুন করে অনুভব করার এক সুযোগ।
দেশবাসী, ঘুরতে যান। ট্যুরে যান, ট্রেকিংয়ে যান, পাহাড়ে যান, সাগরে যান, যেখানে মন চায় সেখানেই যান। কিন্তু দয়াকরে প্রকৃতি আর পরিবেশের ক্ষতি হয়- এমন কিছু করবেন না। কারণ এই সৌন্দর্য শুধু আমাদের না, আগামী প্রজন্মেরও অধিকার। সময় পেলেই বেরিয়ে পড়ুন। ঘুরতে থাকুন, জানতে থাকুন, জানাতে থাকুন।