রাজা আহমেদ
প্রকাশ : ৮ ঘণ্টা আগে
বর্তমান যুগে তথ্যই সব। তবে ব্যক্তিগত তথ্য একবার চুরি হয়ে গেলে, যেকোনো ধরনের দুর্যোগ নেমে আসতে পারে। ফেসবুক বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম। প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ এখানে ছবি, ভিডিও, মতামত ও ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করে। তাই ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই উদ্দেশ্যে ফেসবুক প্রাইভেসি চেকআপ নামের একটি বিশেষ টুল প্রদান করেছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সহজেই তাদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা সেটিংস পর্যালোচনা এবং নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
প্রাইভেসি চেকআপ টুলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফিচার হলো ‘হাউ ক্যান সি হোয়াট ইউ শেয়ার’। এই অংশে ব্যবহারকারী তার প্রোফাইলের তথ্য যেমনÑ ফোন নম্বর, ইমেইল ঠিকানা, জন্মদিন, কর্মস্থল এবং শিক্ষাগত তথ্য কারা দেখতে পারবে তা নির্ধারণ করতে পারেন। এ ছাড়া ভবিষ্যতে প্রকাশিত পোস্টের দর্শক নির্ধারণ, পুরনো পোস্টের গোপনীয়তা সীমিত করা এবং ব্লক করা ব্যক্তিদের তালিকা পর্যালোচনা করার সুযোগও এখানে রয়েছে। এর ফলে ব্যবহারকারী নিজের তথ্যের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার হলো অ্যাকাউন্ট নিরাপত্তা (অ্যাকাউন্ট সিকিউরিটি)। এই অংশে ব্যবহারকারী তার পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে পারেন এবং শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পরামর্শ পান। পাশাপাশি টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (টুএফএ) চালু করার সুযোগ থাকে, যা অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত নিরাপত্তা যোগ করে। কোনো অচেনা ডিভাইস বা অবস্থান থেকে লগইন করার চেষ্টা হলে সতর্কবার্তা পাওয়ার ব্যবস্থাও এখানে রয়েছে। ফলে হ্যাকিং বা অননুমোদিত প্রবেশের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।
প্রাইভেসি চেকআপের আরেকটি দরকারি অংশ হলো ‘হাউ পিপল ক্যান ফাইন্ড ইউ ওন ফেসবুক’। এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারী নির্ধারণ করতে পারেন কে তাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতে পারবে এবং ফোন নম্বর বা ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করে কে তাকে খুঁজে পাবে। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগ ও স্প্যাম কমে যায় এবং ব্যবহারকারী নিজের সামাজিক যোগাযোগের পরিধি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
এ ছাড়া ‘ইয়োর ডাটা সেটিং অন ফেসবুক’ নামের ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারী দেখতে পারেন কোন কোন অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে লগইন করা হয়েছে। প্রয়োজন না হলে এসব অ্যাপের অ্যাক্সেস বাতিল করা যায়। এর ফলে ব্যক্তিগত তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে অপ্রয়োজনীয়ভাবে পৌঁছানোর সম্ভাবনা কমে যায় এবং ডেটা সুরক্ষা বৃদ্ধি পায়।
প্রাইভেসি চেকআপে বিজ্ঞাপন সম্পর্কিত নিয়ন্ত্রণ (বিজ্ঞাপন পছন্দ) ও একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার। ব্যবহারকারী জানতে পারেন ফেসবুক তার কোন তথ্য বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য ব্যবহার করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেটি পরিবর্তন করতে পারেন। কোন ধরনের বিজ্ঞাপন দেখতে চান বা দেখতে চান না, তাও নির্ধারণ করা সম্ভব। এতে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা আরও ব্যক্তিগত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।
এই টুলের আরেকটি সুবিধা হলো এটি ব্যবহার করা অত্যন্ত সহজ। ধাপে ধাপে নির্দেশনার মাধ্যমে ফেসবুক ব্যবহারকারীকে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস পর্যালোচনা করতে সাহায্য করে। ফলে প্রযুক্তিগত জ্ঞান কম থাকলেও একজন সাধারণ ব্যবহারকারী সহজেই নিজের প্রাইভেসি সেটিংস ঠিক করতে পারেন।
ফেসবুকের প্রাইভেসি চেকআপ টুল ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা, অ্যাকাউন্ট নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং অনলাইন গোপনীয়তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত এই টুল ব্যবহার করলে ব্যবহারকারী তার অ্যাকাউন্টকে আরও নিরাপদ রাখতে পারেন এবং সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে অধিক আত্মবিশ্বাসী হতে পারেন।