× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মেঘকন্যা আর রোবট

মাসুম বিল্লাহ

প্রকাশ : ২০ ঘণ্টা আগে

আঁকা: সুবাইতা বিল্লাহ, অষ্টম শ্রেণি, সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, খুলনা

আঁকা: সুবাইতা বিল্লাহ, অষ্টম শ্রেণি, সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, খুলনা

অনেক অনেক দিন আগের কথা নয়, পরের কথা। তখন পৃথিবীতে ডানাওয়ালা ঘোড়া বা রাক্ষস-খোক্কস আর ছিল না। তার বদলে ছিল উড়ন্ত গাড়ি আর কথা বলা রোবট।

        সেই শহরের এক উঁচু দালানের ছাদে থাকত ছোট্ট মেয়ে তুলি। তুলির খুব মন খারাপ, কারণ সে কোনোদিন নীল আকাশ দেখেনি। শহরের ধোঁয়া আর কালো মেঘে আকাশ সব সময় ঢাকা থাকে। শহরের বড় বড় দালানের আড়ালে আকাশ ঢাকা পড়ে গেছে। 

তুলির একমাত্র বন্ধু হলো তার ছোট রোবট রিন্টু। রিন্টুর পেটে একটা স্ক্রিন আছে, সেখানে সে সারা দিন কার্টুন দেখায়। 

এক দিন তুলি বলল, ‘রিন্টু, নীল আকাশ কেমন হয়? দাদি বলতেন, নীল আকাশে নাকি তুলোর মতো সাদা মেঘ ভাসে। আমি কি কোনোদিন মেঘ ছুঁতে পারব?’ 

রিন্টু তার যান্ত্রিক হাত নেড়ে বলল, ‘আমার মেমোরিতে নীল আকাশের ছবি আছে তুলি। কিন্তু আসল মেঘ তো অনেক ওপরে। চলো, আমরা মেঘ খুঁজতে যাই!’ 

রিন্টু তার পায়ের নিচ থেকে ছোট দুটো রকেট ইঞ্জিন বের করল। তুলি রিন্টুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। ‘শুঁউউউ করে’ তারা উড়ে চলল ওপরের দিকে। কালো ধোঁয়া আর কুয়াশা পেরিয়ে তারা যখন অনেক ওপরে উঠল, তুলি অবাক হয়ে দেখল, সেখানে এক বিশাল মেঘের রাজ্য!

সেখানে মেঘেরা পাহাড়ের মতো জমে আছে। ঠিক তখনই তুলি দেখল, একটা মেঘের কোণে বসে কাঁদছে এক ছোট্ট মেঘবালিকা। তার নাম ছিল নীলিমা। নীলিমার ডানাগুলো কেমন ধূসর হয়ে গেছে।

তুলি কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি কাঁদছ কেন, মেঘবালিকা?’ 

নীলিমা ভেজা চোখে বলল, ‘নিচের শহরের মানুষগুলো এত ধোঁয়া ছাড়ছে যে, আমার ডানাগুলো ময়লা হয়ে গেছে। আমি আর উড়তে পারছি না। আকাশটা কালো হয়ে যাচ্ছে।’ 

রিন্টু তার রোবট-মস্তিষ্ক দিয়ে এক মুহূর্ত ভাবল। তারপর সে বলল, ‘চিন্তা করো না! আমার কাছে একটা সমাধান আছে।’ 

রিন্টু তার ভেতর থেকে একটা ছোট্ট ‘হাওয়া-পরিষ্কারক’ মেশিন বের করল। সে নীলিমার ডানার চারপাশের বাতাস পরিষ্কার করে দিল। তুলি তার রুমাল দিয়ে মেঘবালিকার ডানাগুলো মুছে দিল। দেখতে দেখতে নীলিমার ডানা আবার আগের মতো সাদা আর নরম হয়ে উঠল। 

খুশিতে নীলিমা নীল আকাশজুড়ে নেচে বেড়াল। সে তুলিকে উপহার দিল একমুঠো ‘জাদুকরী বৃষ্টির বীজ’। সে বলল, ‘এগুলো নিয়ে নিচে যাও। যেখানেই এই বীজ ফেলবে, সেখানেই সুন্দর সবুজ গাছ জন্মাবে। আর গাছ থাকলে বাতাসও পরিষ্কার থাকবে।’ 

তুলি আর রিন্টু নিচে ফিরে এলো। তারা শহরের আনাচে-কানাচে সেই বৃষ্টির বীজ ছড়িয়ে দিল। কয়েক দিন পর দেখা গেল, ধূসর শহরটা সবুজে ভরে উঠেছে। বাতাস থেকে সব ধোঁয়া হাওয়া হয়ে গেল।

এখন তুলি রোজ সকালে জানালা খুললে নীল আকাশ দেখতে পায়। আর রিন্টু? 

সে এখন শুধু কার্টুন দেখায় না, সে এখন তুলির সঙ্গে বাগান করে আর পাখিদের গান শোনায়।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা