রংপুরের ঐতিহ্যবাহী শতরঞ্জি
এহসানুল হক সুমন, রংপুর
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৬ ১৪:২৯ পিএম
আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬ ১৪:৩১ পিএম
রংপুরে শতরঞ্জির কারখানায় কর্মরত নারী শ্রমিকরা
ঘাঘট নদীর পাশে রংপুর নগরীর উপকণ্ঠে দাঁড়িয়ে আছে এক ইতিহাসবাহী গ্রাম নিসবেতগঞ্জ। সময়ের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে যেখানে এ গ্রামে আজও বেঁচে আছে সুতায় আঁকা স্বপ্ন আর রঙে রঙে গাঁথা জেলার ঐতিহ্য শতরঞ্জি। বাঁশ, রশি ও সুতা ব্যবহার করে এ বুনন শিল্পের প্রতিটি নকশার ভেতরে লুকিয়ে আছে শত বছরের গল্প, রাজা-বাদশাদের আভিজাত্য আর বাংলার লোকশিল্পের গর্ব। ব্রিটিশ আমলে কালেক্টরেট মি. নিসবেতের মুগ্ধতা থেকে যে শিল্প পেয়েছিল নতুন পরিচয়। সেই শতরঞ্জিই আজ রংপুরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক; যা বিশ্বদরবারে বহন করছে বাংলার শৈল্পিক আত্মপরিচয়। এ হস্তশিল্প মাথা উঁচু করে চলার পথ করে দিয়েছে গ্রামীণ নারীদের।
শতরঞ্জির আঁতুড়ঘর নিসবেতগঞ্জ
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের মধ্যে একটি হচ্ছে বয়ন শিল্প। আর বয়ন শিল্পে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত নাম শতরঞ্জি। ১৯১২ সালে প্রকাশিত রংপুর গেজেটিয়ারে ইতিহাসবিদ উইলিয়াম হান্টার উল্লেখ করেন, ১৮৩০ সালে তৎকালীন রংপুর জেলার কালেক্টর মি. নিসবেত সরেজমিন শতরঞ্জি দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। তার নাম ধারণ করে ওই গ্রামের নামকরণ করা হয় নিসবেতগঞ্জ। ১৯১৩ সালে রংপুরের ডেপুটি কালেক্টর তার রংপুর বিবরণী গ্রন্থে উল্লেখ করেন, রংপুর শহরের উপকণ্ঠে নিসবেতগঞ্জ গ্রামে পাঁচ শতাধিক মানুষ শতরঞ্জি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করত। ব্রিটিশ শাসনামলে শতরঞ্জি এত বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করে যে, সেসময় নদীপথে নিসবেতগঞ্জের শতরঞ্জি রপ্তানি হতো ভারত, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। এখন বংশপরম্পরায় হাজার হাজার শ্রমিক, কারিগরি ও পরিবার শতরঞ্জি তৈরির কাজে নিয়োজিত। এ ছাড়া ত্রয়োদশ শতাব্দীতেও রংপুর এলাকায় শতরঞ্জির প্রচলন ছিল। মোগল সম্রাট আকবরের দরবারে শতরঞ্জি ব্যবহার করা হতো বলে ইতিহাসে কথিত আছে। সম্রাট আকবরের সভাকক্ষে এবং ব্রিটেনের রাজদরবারেও তা শোভাবর্ধন করত। শতরঞ্জি পণ্যের ঐতিহ্য বা ঐতিহাসিক ভিত্তি হচ্ছে আভিজাত্য।
অতীতে বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের ঘরে এই শিল্পপণ্যটি দেখা যেত না। জমিদার পরিবারে শতরঞ্জি সামাজিক মর্যাদা ও আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বাংলোবাজি, খাজাঞ্চিখানা, গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বসার স্থান, শয়নকক্ষ কিংবা বৈঠকখানায় সতেরো রঙের সুতায় বোনা শতরঞ্জিকে আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হতো। আভিজাত্যের এই বর্ণনা পাওয়া যায় তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ধাত্রী দেবতা’ উপন্যাসে। এখানে বর্ণিত রয়েছে যে, ক্ষয়িষ্ণু জমিদার পরিবারে শতরঞ্জি ‘সোনার কৌটায় ভোমরা’ হিসেবে সমাদৃত। রাজা-বাদশাদের প্রাসাদে এর ব্যাপক কদর ছিল।

শতরঞ্জি উৎপাদন
শতরঞ্জির উৎপাদন চারটি ভাগে ভাগ করা হয়। প্রথমত. কাঁচামাল সংগ্রহ ও বুনন উপযোগী করে গড়ে তোলা, দ্বিতীয়ত. প্রাথমিক উৎপাদনের প্রস্তুতি, তৃতীয়ত, প্রকৃত উৎপাদন ও নকশা, চতুর্থত. উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বাজারজাতকরণের উপযোগী করা। সাধারণত সুতি, মখমল ও পাট দিয়ে শতরঞ্জি তৈরি করা হয়। প্রথমটিতে কার্পাস সুতার তুলা দিয়ে, দ্বিতীয়টি সুতা ও উলের মিশ্রণে মখমল দিয়ে এবং তৃতীয়টি পাটের সুতা দিয়ে তৈরি করা হয়। বাজার থেকে সুতা কিনে তা প্রয়োজনীয় রঙ করা হয়। এরপর তা শুকিয়ে বাঁশের ফ্রেমে টানা দেওয়া হয়। টানার দৈর্ঘ্য ১০ থেকে ৩৫ ফুট হয়ে থাকে। এরপর সুতা চরকায় বসানো হয় বান্ডিল তৈরি করতে। এরপর শতরঞ্জি তাঁতে বা মেঝেতে বিছিয়ে নকশা অনুযায়ী সুতলির সাহায্যে হাতে বোনা হয় শতরঞ্জি। হাতের কৌশলেই শতরঞ্জি নির্মাণের ভিত্তি। তবে সুতার গাঁথুনি শক্ত করার জন্য পাঞ্জা ব্যবহার করা হয়। এভাবে শতরঞ্জি তৈরিতে নিয়োজিত শ্রমিকরা এক বর্গফুট শতরঞ্জি প্রস্তুত করতে এক থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। শতরঞ্জি সর্বনিম্ন দৈর্ঘ্য ৩০ ইঞ্চি ও প্রস্থ ২০ ইঞ্চি থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ৩০ ফুট ও প্রস্থ ২০ ফুট পর্যন্ত জোড়া লাগা ছাড়াই যেকোনো মাপের বুনন হতে পারে। শতরঞ্জি এমনভাবে তৈরি হয় যে, এর কোনো উল্টো দিক নেই। দুই দিকেই সমান নকশা ও রঙ থাকে এবং দুই দিকেই ব্যবহার করা যায়। শতরঞ্জিতে ডিজাইন ও ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৭টি রঙের সুতা ব্যবহার করা হয়। তবে বেশিরভাগ শতরঞ্জিতে তিন থেকে চারটি রঙের সুতা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। গ্রামীণ কারুশিল্পীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই নিজস্ব মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বংশপরম্পরায় শতরঞ্জি তৈরি করে আসছেন। শিল্পীদের সুনিপুণ হাতের ছোঁয়ায় আগে প্রাচীন নকশা হিসেবে হাতির পা, জাফরি, ইটকাটি, নাটাই, রাজা-রানী, দেব-দেবী, প্রজাপতি, ঘুড়ি, নারীর মুখ, পালকি, মোড়া ফুল, গ্রামবাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হতো। বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ, শাড়ির নকশার মতো বুটিদার জরি ও তেরছি নকশা, বিভিন্ন উপদেশ বাণী, দোয়া-সূরা ইত্যাদি শতরঞ্জিতে স্থান পাচ্ছে। মেঝেতে বিছানোর পাশাপাশি শতরঞ্জি দিয়ে টেবিল ম্যাট, ওয়ালম্যাট, বিভিন্ন আসবাবপত্রের কাভার তৈরি করা হচ্ছে।
নারীর হাতে রঙিন শতরঞ্জি
শতরঞ্জি বুননে শতভাগ নারীরা কাজ করেন। তৃণমূলের গ্রামীণ নারীর ঘর-গৃহস্থালির কাজ শেষে বাড়ির পার্শ্ববর্তী কারখানায় শতরঞ্জি উৎপাদন করছেন। হাত ও পা ব্যবহার করে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত তাঁতে শতরঞ্জি বুনে চলেছেন। তবে সময় নিয়ে এতে ধরাবাধা নিয়ম নেই। শতরঞ্জি তৈরির ওপর ভিত্তি করেই পারিশ্রমিক পান নারীরা। রংপুর নগরীর রাধাকৃষ্ণপুর এলাকার জেবিন আক্তার দীর্ঘ ৭ বছর ধরে শতরঞ্জি উৎপাদন করে চলছেন। ওই এলাকার একটি শতরঞ্জি উৎপাদন কারখানায় কথা হয় তার সঙ্গে। জেবিন আক্তার বলেন, কারখানায় একজন মাস্টার আছেন, যিনি তাঁতে শতরঞ্জি সুতার একটি টানা দিয়ে আমাদের ডিজাইন দিয়ে যান। আমরা সেই ডিজাইন ধরে রিল থেকে সুতার গজ করে নেই। এরপর তাঁতে বোনা শুরু করি। শতরঞ্জির প্রায় ১৮ থেকে ২০টি কালার রয়েছে। তবে আমরা শতরঞ্জিতে ৩ থেকে ৪টি কালারের সুতা নিয়ে বুনি। এখানে দৈর্ঘ্য ২৪ ফুট ও প্রস্থ ১৮ ফুট থেকে শুরু করে বিভিন্ন মাপের শতরঞ্জি তৈরি হয়।

ওই কারখানায় কাজ করা প্রমিলা রাণী বলেন, গ্রামে তো মহিলাদের জন্য অন্য কোনো কাজ নেই। আমি বাড়িতে বসে না থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে শতরঞ্জি তৈরি করি। এখান থেকে যা পাচ্ছি তা দিয়ে বাচ্চাদের লেখাপড়া করাই, সঞ্চয় করছি; যা বাচ্চাদের ভবিষ্যতের জন্য কাজে লাগবে। আমাদের মজুরি একটু কম, যদি এটি বাড়ানো যেত, তাহলে ভালো হতো।
গোপিনাথপুর এলাকার শতরঞ্জি শিল্পী ঝর্ণা বেগম বলেন, দৈর্ঘ্যে ৬ ফুট ও প্রস্থে ৪ ফুটের শতরঞ্জি বানাতে দেড় থেকে দুই দিন লাগে। এই শতরঞ্জি তৈরি করে দিলে ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে কারখানা থেকে ৩৬০ টাকা থেকে শুরু করে ৪৩০ টাকা পর্যন্ত দেয়। এতে করে গড়ে আমরা দিনে ২০০ টাকা আয় করি। যার হাত যত বেশি চলে, সে তত বেশি উপার্জন করে।
শতরঞ্জির ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ প্রতিষ্ঠান
শতরঞ্জির চাহিদা দিন দিন বাড়তে থাকায় এটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার ঘর থেকে শুরু করে বড় প্রতিষ্ঠানে তাঁতে তৈরি করছেন নারীরা। এর মধ্যে কারুপণ্য রংপুর লিমিটেড অন্যতম। এ প্রতিষ্ঠানের ৫টি কারখানায় কয়েক হাজার নারী তাঁতে শতরঞ্জি তৈরি করছেন। এ ছাড়া নিসবেতগঞ্জের ‘চারুশী শতরঞ্জি’, ‘শতরঞ্জি পল্লী’, ‘রংপুর ক্রাফট’সহ ছোট ছোট উদ্যোক্তার ঘরে তৈরি হচ্ছে শতরঞ্জি। বর্তমানে কমপক্ষে ৮ হাজার নারী-পুরুষ শতরঞ্জি উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত।
শতরঞ্জির কদর দেশ-বিদেশে
রংপুরের ঐতিহ্যবাহী ও গৌরবময় পণ্য দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে সুনাম কুড়িয়েছে। দৃষ্টিনন্দন বুননশৈলী ও গুণগত মানের জন্য বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে বড়সড় জায়গা করে নিয়েছে শতরঞ্জি। বিশ্বের প্রায় ৭৭টি দেশে এ হস্তশিল্প রপ্তানি হচ্ছে। এর মধ্যে জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, স্পেন, ডেনমার্ক, সুইডেন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদিআরব, আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা রয়েছে। ২০২১ সালে রংপুরের শতরঞ্জি বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে বিশ্ববাজারে এর ব্র্যান্ডভ্যালু ও চাহিদা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি বছর বর্হিবিশ্বে শতরঞ্জি রপ্তানি করে প্রায় ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করছে বাংলাদেশ।
নিসবেতগঞ্জের চারুশী শতরঞ্জির স্বত্বাধিকারী প্রকৌশলী মাসুদার রহমান মানিক বলেন, আমার কারখানায় প্রশিক্ষিত নারী শিল্পীরা তাঁতের মাধ্যমে শতরঞ্জি তৈরি করেন। এর চাহিদা দেশ-বিদেশে রয়েছে। আমার শোরুম থেকে প্রতিদিন শতরঞ্জি বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া আশপাশের জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা শতরঞ্জি বিক্রির জন্য কিনে নিয়ে যায়। আমার কারখানায় উৎপাদিত কিছু শতরঞ্জি জাপান, অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছে ঢাকার রপ্তানিকারকদের মাধ্যমে। সরকার যদি শতরঞ্জি উৎপাদনে বিশেষ ঋণের ব্যবস্থা, রপ্তানি সহজীকরণ করত, তাহলে আমরাই রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারতাম।
বাংলাদেশের হস্তশিল্প রপ্তানি বাণিজ্য শিল্প খাতে বর্তমানে প্রায় সিংহভাগ রপ্তানি করে থাকে রংপুরের কারুপণ্য লিমিটেড। এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সফিকুল আলম সেলিম ও পরিচালক শুরাফা হোসাইন শীলা দম্পতি বলে, ২০০২ সালে জার্মানিতে ডোমোটেক্স নামে বৃহত্তর কার্পেট এক্সপোতে কারুপণ্য অংশ নেয়। সেখানে বহির্বিশ্বের ক্রেতাদের শতরঞ্জি দারুণ পছন্দ হয়। একটু একটু করে বর্হিবিশ্বের বাজারে বাড়তে থাকে শতরঞ্জির কদর। বর্তমানে কারুপণ্য থেকে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার ৭৭টি দেশে শতরঞ্জি রপ্তানি হচ্ছে।
শতরঞ্জির উন্নয়নে উদ্যোগ
শতরঞ্জির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর। শতরঞ্জির গুণগত মান উন্নয়ন, আকর্ষণীয় করে তোলা, বহির্বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী রঙ ও বিভিন্ন পরিমাপের শতরঞ্জি তৈরি, নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, বাজার সম্প্রসারণে কাজ করছেন তারা। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড ও বিসিকের উদ্যোগে প্রশিক্ষণ, ঋণ বিতরণ ও মার্কেট লিংকেজ নিয়ে নানা কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছে।
রংপুর বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক এহছানুল হক বলেন, শতরঞ্জি শিল্পের বিকাশে আমরা কর্মীদের প্রশিক্ষণসহ উদ্যোক্তাদের ঋণের ব্যবস্থা করেছি। ফলে গ্রামে গ্রামে শতরঞ্জি কারখানা গড়ে উঠেছে। তারা রংপুরসহ দেশ-বিদেশে তা বিক্রি করছে। অনেকে অনলাইনের মাধ্যমে সরাসরি বিদেশের ক্রেতার কাছে শতরঞ্জি বিক্রি করছেন; যা রংপুরের অর্থনীতির চাকাকে আরও গতিশীল করেছে।
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের উদকনিক কর্মসূচির রংপুরের পরিচালক সহিদুর রহমান সুমন বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলের দরিদ্রদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ কর্মসূচী-এর আওতায় যাদের বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে তাদের শতকরা ৯০ ভাগ নারী। সেই সঙ্গে প্রশিক্ষণের অন্যতম ট্রেড হলো শতরঞ্জি। আমরা ইতোমধ্যে কর্মসূচির দুটি ধাপে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। দ্বিতীয় ধাপে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার নারীকে শতরঞ্জি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সেই সব প্রশিক্ষণার্থীদের উৎপাদিত শতরঞ্জি বিক্রির জন্য বিআরডিবি ভবনে প্রদর্শনী ও বিক্রিয় কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। উদকনিক প্রকল্পের তৃতীয় ধাপ শুরু হলে রংপুর বিভাগের ৬টি জেলার ৩৮টি উপজেলায় নারীদের হস্তশিল্পের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, শতরঞ্জির উদ্যোক্তাদের মার্কেট লিংকেজ করে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন পণ্যের প্রদর্শনী করা হয়। এতে শতরঞ্জিও যুক্ত করা হবে। এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে একটি ওয়েবসাইট চালু হবে। এতে বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন ও সরাসরি গ্রাহক উৎপাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে। আমরা মনে করি, এটি ফুল ফর্মে চালু হলে বহির্বিশ্বে শতরঞ্জির চাহিদা আরও বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, আগে গ্রামের নারীরা শুধুমাত্র সাংসারিক কাজে সীমাবদ্ধ ছিলেন। শতরঞ্জির প্রশিক্ষণ ও ঋণ পেয়ে গ্রামে নারীরা উদ্যোক্তা হয়ে উঠছেন। একজন উদ্যোক্তার আওতায় কমপক্ষে ৫০ জন নারী শতরঞ্জি তৈরি করছেন। একটি শতরঞ্জি তৈরি করতে ৩ থেকে ৫ দিন সময় লাগে এবং লাভ হয় উৎপাদন খরচের দ্বিগুণ। শতরঞ্জি গ্রামীণ নারীদের জীবনে আর্থিক সচ্ছলতা এনে দিয়েছে।