প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৬ ১৩:১৫ পিএম
পেট প্যারেন্ট হওয়ার আগে খেয়াল রাখতে হবে কিছু বিষয়ে
বাড়িতে শখ করে কুকুর বা বিড়াল নিয়ে এলেন, অল্প কয়েক দিনেই বিরক্ত লাগা শুরু হলো। এমন হলে শুধু আপনার নিজেরই না, যে প্রাণীটি এনেছেন তারও কষ্ট হয়। তাই বাড়িতে পোষা প্রাণী আনার আগে খেয়াল রাখতে হবে কয়েকটি বিষয়ে।
খরচের হেরফের
বাড়িতে পোষ্য প্রাণী নিয়ে এলে পরিবারের একজন সদস্যের মতোই তার দেখভাল করতে হয়। আর এজন্য খরচের দিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। নিজের সব খরচের পাশাপাশি প্রতি মাসে খাবার, চিকিৎসা, খেলনা ইত্যাদির জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আলাদা করে রাখতে হবে। এ ছাড়া কোনো কিছু ভেঙে ফেললে তা মেরামত করার জন্য, হুট করে অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য বাড়তি খরচ হয়েই যায়।

বাড়তি সাবধানতা
পোষা প্রাণী একদম বাচ্চাদের মতো। কোন জিনিসটা দরকার হুট করে বুঝে উঠতে পারে না। আর এ কারণে তাদের দ্বারা দুর্ঘটনা ঘটার শঙ্কা বেশি থাকে। তাই বেশ কিছু সাবধানতা আগে থেকেই বজায় রাখতে হবে। বারান্দায় ঝোলানো গাছগুলোর উচ্চতা যদি কম হয়, তাহলে সেগুলো সরিয়ে পোষ্যর হাতের নাগালের বাইরে রাখুন। ফার্নিচারের পেছনে বা দেয়ালে ঝোলানো ইলেকট্রিক কর্ডগুলো যতটা সম্ভব ঢেকে রাখুন, যেন টান দিয়ে ছিঁড়ে না ফেলে। এ ছাড়া বারান্দা ও জানালায় নেট লাগানো এখনকার ফ্ল্যাটগুলোতে নিরাপত্তার প্রধান শর্ত।
কোয়ালিটি টাইম বা সময় দেওয়া
শহরের ব্যস্ত জীবনে নিজের জন্য সময় পাওয়া যেখানে দায়, সেখানে একটি প্রাণীকে সময় দেওয়া বড় ব্যাপার। নিয়মিত তাকে হাঁটানো, আদর করা কিংবা খেলাধুলা করার জন্য আপনার হাতে সময় আছে কি না, তাকে ঘরে আনার আগেই ভাবুন। আপনি দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকলে পোষ্য বিষণ্নতায় (Separation Anxiety) ভুগতে পারে।
ঘুমানোর জায়গা ও লিটার ট্রেনিং
পোষ্যকে বাড়িতে আনার আগেই ঘরের একটি নির্দিষ্ট কোণ বরাদ্দ করুন। সেখানে তার ঘুমানোর জন্য বিছানা, খাবারের বাটি, স্ক্রিয়াচিং পোস্ট এবং মলমূত্র ত্যাগের জন্য ‘লিটার বক্স’ রাখুন। অ্যাপার্টমেন্টে দুর্গন্ধ এড়াতে আনার সঙ্গে সঙ্গে শুরু থেকেই তাকে নির্দিষ্ট স্থানে টয়লেট করার প্রশিক্ষণ দিতে হবে। নইলে পরিবারের বাকি সদস্য তাকে ঝামেলার মনে করতে পারে।
খাবার
পোষা প্রাণীদের প্রতিদিনের খাবারে কী দেবেন, তা আগে থেকেই ভালোভাবে জেনে নিন। সিদ্ধ, টিনজাত বা কাঁচা খাবার যাই দেন না কেন, শুরু থেকে খেয়াল রাখতে হবে পোষ্য তা পছন্দ করছে কি না। নতুন জায়গার কারণে প্রথমে কয়েকবার ব্যর্থ হতে পারেন। তবে এতে চিন্তার কিছু নেই। হুটহাট কোনো খাবার দিয়ে তাদের অভ্যাস করিয়ে ফেলবেন না। এতে বদহজম হতে পারে।
গোসল ও পরিচ্ছন্নতা
অধিকাংশ প্রাণীই গোসল করতে অনীহা প্রকাশ করে। অ্যাপার্টমেন্টে ছোট বাথরুমে তাদের গোসল করানো এবং লোম পরিষ্কার রাখা বেশ ধৈর্যসাপেক্ষ কাজ। লোম পড়ার সমস্যা থাকলে নিয়মিত ব্রাশ করার মানসিক প্রস্তুতি রাখুন। গোসল করানোর জন্য আগে থেকেই সব প্রস্তুত রাখুন।
ভেট কেয়ার
পোষ্যর স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য একজন নির্ভরযোগ্য পশু চিকিৎসক থাকা প্রয়োজন। বাড়ির কাছাকাছি একটি ক্লিনিক খুঁজুন, টিকা দিন এবং নিয়মিত চেকআপ করুন। পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়মিত মেনে চলতে হবে। বমি করা, কোথাও কেটে যাওয়া, শরীরে পোকা হওয়া খুব সাধারণ সমস্যা। তবু এই সমস্যাগুলো দেখা দিলে দেরি না করে ভেটের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। জরুরি প্রয়োজনে কোথায় নিতে হবে, সেই ফোন নম্বরগুলো আগে থেকেই সেভ করে রাখুন।