বাইরে কোথাও ঘুরতে গেলে দুশ্চিন্তা হয় শখের বাগানের গাছগুলো নিয়ে। কে গাছে পানি দিবে, গাছ কতদিন ভালো থাকবে- এসব নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই যেন! কেউ কেউ তো গাছের চিন্তায় অদ্ভুত বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করেন, যার দরুন গাছের ভালো তো দূরের কথা, ক্ষতিই হয় বেশি। অথচ এসব বাদ দিয়ে সরাসরি মালচিং করলে গাছ ভালো থাকবে। দুশ্চিন্তা না করলেও চলবে।
মালচিং কী
মালচিং হচ্ছে খড় দিয়ে গাছের গোড়ায় আস্তরণ তৈরি করা। এটা খানিকটা কম্বলের মতো কাজ করে। কারও সাহায্য দরকার হয় না এটা করতে।
কীভাবে মালচিং করবেন
- প্রথমেই গাছের চারদিকে খানিকটা খড় বা গাছের শুকনো পাতা বিছিয়ে দিন। টুকরোগুলো ২-৩ ইঞ্চি লম্বা হলে ভালো। পাতা যদি বড় হয় তাহলে টুকরো করে দিতে পারেন। এতে উড়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না। এতে একবার পানি দিলে মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত থাকবে। এতে সহজে মাটি শুকাবে না, আবার আগাছাও জন্মাবে না।
- আবহাওয়া অনুযায়ী মালচিং-এর ঘনত্ব তৈরি করুন। বারবার বৃষ্টি হলে জলীয় বাষ্পের মাত্রা বেশি থাকে, মালচিং এর ঘনত্ব কম রাখতে হবে। নইলে বেশি পানি জমে থেকে গাছ পচে যেতে পারে। বাতাস যদি শুষ্ক থাকে, তবে মাটি ভিজিয়ে, খড়ের কয়েক পরত বিছিয়ে দিন।
- মালচিং-এর ক্ষেত্রে গাছ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক ধরনের সবজির গাছ যেমন- টমেটো, ক্যাপসিকাম, স্কোয়াশ প্রভৃতির ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি বেশি কাজে দেয়। ফুলগাছেও একইভাবে মালচিং করতে পারেন। তবে শৌখিন কিছু গাছ যেমন- ল্যাভেন্ডার রোজমেরি গাছগুলো খানিকটা সংবেদনশীল। এগুলোর জন্য মালচিং-এর প্রয়োজন নেই। এই গাছগুলোতে পানি সেভাবে দেওয়ার দরকারও হয় না। মালচিং-এ বরং আরও ক্ষতি হতে পারে।