নাজমুন নাহার তন্বী
প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৬ ১৭:২৫ পিএম
উৎসবে শিশুর প্রতি বাড়তি খেয়াল রাখা জরুরি
ঈদ আনন্দের এই সময়ে প্রতি বছরই অসতর্কতার কারণে শিশুদের সঙ্গে নানা দুর্ঘটনা ঘটে। তাই শিশুদের নজরে রাখতে হবে, নিতে হবে বাড়তি কিছু সতর্কতা।
ডিহাইড্রেশন থেকে বাঁচতে
গ্রামে গেলে বাচ্চারা গরমে ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়তে পারে। তাই এ সময় ডাবের পানি, লেবু ও বেলের শরবত খাওয়াতে হবে বাচ্চাদের। শরীরে লবণ ও পানির ঘাটতি পূরণে বারবার পানীয় ও তরল খাবার দিতে হবে। স্যালাইন সব সময় বাসায় রাখবেন যেন পানিশূন্যতা হলেই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া যায়। গরমে বাচ্চাদের ডায়রিয়া হলে ORS, ডাবের পানি, খিচুড়ি, চিড়ার পানি, ভাতের মাড়, আলু-কলার ভর্তা খাওয়াতে হবে।
পোশাকে থাকুক স্বাচ্ছন্দ্য
বাচ্চাদের পোশাক বাছাই করার সময় অবশ্যই সুতি ও পাতলা কাপড়কে প্রাধান্য দিতে হবে, কারণ বাচ্চারা যেন বারবার না ঘেমে যায়, সঙ্গে শরীরে যেন বাতাস চলাচল করে। এ সময় হুটহাট ঝড়বৃষ্টিও হতে পারে, তাই রেইনকোট ও স্লিপার সঙ্গে রাখতে হবে।
পানি থেকে দূরে
বাড়িতে গেলে খোলা জায়গায় শিশুরা যেমন খেলাধুলা করে, তেমনই পুকুর বা জলাশয়ের দিকে সবার অলক্ষ্যে চলে যায়। পানির কাছে খেলতে গিয়ে বা হাঁটতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যাওয়ার ঘটনা অনেক ঘটে। তা ছাড়া বড় বালতি, ড্রাম বা বড় বালতিতে পানি রাখা থাকলে কৌতূহলী শিশুরা দেখতে গিয়েও দুর্ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্য ও উপস্থিত সবাইকেই এই বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন হতে হবে।
বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে সাবধান
বাড়িতে গেলে বৈদ্যুতিক নানা সরঞ্জাম ও কারেন্টের তার থেকে শিশুদের অবশ্যই দূরে রাখুন। বিপজ্জনক কোনোকিছু নজরে এলে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানান।
আগুন, গ্যাস ও গরম তরলের সংস্পর্শে যেন না আসে
শিশুকে সব সময় আগুন, গ্যাস ও গরম তরলের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখুন। ঈদের সময় অনেকেই বাড়িতে বারবিকিউ করবেন। শিশুর নিরাপত্তার বিষয়ে এ সময় সাবধান থাকতে হবে। আতশবাজি, ফানুশ দিয়ে আনন্দ করার অভ্যাস বদলান। এতে শিশুরা যেমন ঝুঁকিতে থাকে, তেমনই পরিবেশে থাকা পাখি ও অন্যান্য পশুপাখিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কোনো পাতিল বা বালতিতে গরম তরল বহন করতে চাইলে সাবধানে করুন। শিশু আশপাশে থাকলে তাকে সরিয়ে দিন। নইলে তরল ছিটে শিশুর গা পুড়ে যেতে পারে। সন্ধ্যার পর কয়েল না জ্বালিয়ে মশারি লাগিয়ে শিশুকে ভেতরে রাখার অভ্যাস করুন বাড়িতে গিয়ে। নইলে শ্বাসকষ্ট বাড়তে পারে।
শিশু কী মুখে দিচ্ছে খেয়াল রাখুন
কোনোকিছু মুখে দেওয়ার আগে শিশুরা সেভাবে ভাবে না। চোখের আড়াল হয়ে ওষুধ, কেমিক্যাল, ফলের বীজ, মার্বেল বা বালু মুখে দিতে পারে। সেগুলো শিশুর গলায় আটকে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে এসব দিকেও।
শিশুকে একা রাখবেন না
আমাদের চারপাশেই এখন পরিচিত-অপরিচিতদের দ্বারা শিশুরা নানা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। বিশ্বস্ত আপনজন ছাড়া শিশুকে একদমই একা ছাড়া যাবে না। ছেলে বা মেয়ে যেকোনো শিশুই এখন নির্যাতনের শিকার হতে পারে। শিশুকে গুড টাচ, ব্যাড টাচ সম্পর্কে অল্প বয়স থেকেই জানান।