ডা. তানভীর আহমেদ
প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৬ ১৭:২৩ পিএম
ঈদের হুল্লোড়ে পোষ্যর যত্ন
প্রতি বছরই ঈদের সময় অসচেতনতা, অনিয়মিত খাবার, অতিরিক্ত মানসিক চাপ কিংবা অনিরাপদ ভ্রমণের কারণে অনেক পোষা প্রাণী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা ও সুস্থতার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।
স্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি
ঈদের সময় অতিরিক্ত শব্দ, মানুষের ভিড়, কোরবানির প্রস্তুতি এবং রক্ত ও অন্যান্য বর্জ্য পদার্থের গন্ধ প্রাণীদের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। অনেক কুকুর-বিড়াল আতঙ্কিত হয়ে লুকিয়ে থাকে, খাবার কম খায় কিংবা আচরণগত পরিবর্তন দেখায়। তাই বাসার ভেতরে তাদের জন্য শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। নিরিবিলি একটি কক্ষে পরিচিত বিছানা, খেলনা ও খাবারের পাত্র রাখলে তারা তুলনামূলক স্বস্তিতে থাকে। অনেক সময় কোরবানির প্রাণী আক্রমণাত্মক আচরণ করে থাকে। তাই কোরবানির প্রাণী থেকেও পোষা প্রাণীকে দূরে রাখা উচিত।
খাবারে সতর্কতা
খাবারের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। ঈদের সময় অতিরিক্ত মাংস, চর্বিযুক্ত খাবার বা রান্না করা হাড় কুকুর-বিড়ালের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এতে বমি, ডায়রিয়া, প্যানক্রিয়াটাইটিসসহ পেটে নানাবিধ সমস্যা, এমনকি গলায় হাড় আটকে যাওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত ও সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ। পাশাপাশি কোরবানির বর্জ্য, রক্ত বা কাঁচা নাড়িভুঁড়ির সংস্পর্শ থেকেও তাদের দূরে রাখা উচিত। যেকোনো ধরনের অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখামাত্র নিকটস্থ ভেটেরিনারিয়ানের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
ভ্রমণের আগে সাবধানতা
ঈদের ছুটিতে অনেকেই পোষা প্রাণীকে সঙ্গে নিয়ে যান। যাত্রার আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় টিকা ও কৃমিনাশক নিশ্চিত করা জরুরি। দীর্ঘ ভ্রমণের সময় পর্যাপ্ত পানি, খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং পরিচিত খেলনা সঙ্গে রাখা উচিত। গাড়িতে ভ্রমণের সময় প্রাণীকে নিরাপদ ক্যারিয়ার বা হারনেসে রাখতে হবে। চলন্ত গাড়িতে প্রাণীকে মুক্তভাবে চলাফেরা করতে দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। কখনোই গরম গাড়ির ভেতরে একা ফেলে রাখা যাবে না। এতে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হিটস্ট্রোক হতে পারে।
বাস, ট্রেন বা বিমানে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পরিবহনে পোষা প্রাণী সঙ্গে রাখার অনুমতি আছে কি নাÑ তা আগেভাগেই নিশ্চিত হয়ে নেওয়া উচিত। ভ্রমণকালে অবশ্যই টিকাপ্রদানের কার্ড এবং রেজিস্টার্ড ভেটেরিয়ানের স্বাক্ষর সম্বলিত স্বাস্থ্য সনদ সঙ্গে রাখতে হবে।
ফস্টার কেয়ারে রাখার আগে
অন্যদিকে অনেক পরিবার ভ্রমণ বা গ্রামের বাড়ি যাওয়ার সময় পোষা প্রাণীকে ফস্টার কেয়ার বা পেট বোর্ডিং হাউসে রেখে যান। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিরাপদ ও দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা। বোর্ডিং সেন্টার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কি না, সেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস আছে কি না এবং অসুস্থ প্রাণী আলাদা রাখার ব্যবস্থা আছে কি নাÑ এসব বিষয় আগে থেকেই যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রাণীকে বোর্ডিংয়ে দেওয়ার আগে অবশ্যই টিকা আপডেট থাকতে হবে। কুকুরের ক্ষেত্রে ডিএইচপিপিএল এবং বিড়ালের ক্ষেত্রে কম্বাইন্ড কোর ভ্যাকসিন (এফভিআরসিপি) এবং উভয়ের ক্ষেত্রে র্যাবিস ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা জরুরি। অনেক সংক্রমণ বোর্ডিং পরিবেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবহেলা করা উচিত নয়।
প্রথমবার বোর্ডিংয়ে গেলে অনেক প্রাণী মানসিক চাপ অনুভব করে। তাই তাদের পরিচিত খাবার, বিছানা, খেলনা বা মালিকের ব্যবহৃত কাপড় সঙ্গে দিলে মানিয়ে নিতে সুবিধা হয়। পাশাপাশি প্রাণীর স্বভাব, খাদ্যাভ্যাস, অ্যালার্জি, ওষুধ বা বিশেষ আচরণগত তথ্য বোর্ডিং কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো উচিত।