সায়েরা জাহান সুপ্রি
প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৬ ১৭:২০ পিএম
ছোটখাটো স্বাস্থ্য সমস্যায় ফার্স্ট এইড বক্স সাথে রাখুন
ঈদের সময় অতিরিক্ত মাংস, তেল-মসলাযুক্ত খাবার, অনিয়মিত ঘুম এবং কম পানি পান করার কারণে অনেকেই ছোটখাটো শারীরিক সমস্যায় ভোগেন। একটু সচেতন থাকলে সহজেই এসব সমস্যা এড়ানো সম্ভব।
বদহজম ও গ্যাস্ট্রিক সমস্যা
ঈদের সময় সাধারণত খাবারের পরিমাণ বেড়ে যায়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন বাসায় দাওয়াত, ভারী খাবার ও কোমলপানীয় খাওয়ার কারণে বদহজম, গ্যাস, বুক জ্বালা কিংবা পেট ফাঁপার সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ সমস্যা এড়াতে একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। মাংসের পাশাপাশি শাকসবজি ও সালাদ রাখুন খাবারের তালিকায়। বেশি করে পানি পান করুন। আদা, লেবু বা মৌরি হজমে সহায়তা করে। খাবার খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে না গিয়ে কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করা ভালো।
ডায়রিয়া ও পেট খারাপ
ঈদের সময় রান্না করা খাবার অনেকক্ষণ বাইরে পড়ে থাকে। আবার অনেকে বাইরে বিভিন্ন খাবারও খেয়ে থাকেন। এতে খাবারে জীবাণু জন্মাতে পারে, যা ডায়রিয়া বা পেট খারাপের কারণ হয়। তাই খাবার সব সময় ঢেকে রাখুন এবং বাসি খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলুন। ডায়রিয়া হলে বেশি বেশি খাবার স্যালাইন পান করতে হবে। হালকা খাবার যেমন খিচুড়ি, জাউ, কলা বা স্যুপ খেতে পারেন। সমস্যা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কোষ্ঠকাঠিন্য
ঈদের কয়েক দিন মাংস বেশি খাওয়ার কারণে অনেকের কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। কারণ তখন আঁশযুক্ত খাবার ও ফলমূল কম খাওয়া হয়। এ সমস্যা এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। ইসবগুলের ভুসি বা ফাইবারজাতীয় খাবার খেলে উপকার পাওয়া যায়।
জ্বর, সর্দি ও কাশি
ঈদের সময় ভ্রমণ, মানুষের ভিড় এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে জ্বর-সর্দি-কাশির সমস্যা বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। জ্বর হলে বিশ্রাম নিন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। গরম চা, আদা-লেবু বা মধু গলায় আরাম দিতে পারে। তবে দীর্ঘদিন জ্বর থাকলে বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিক রোগীদের সতর্কতা
যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগ রয়েছে, তাদের জন্য ঈদের অতিরিক্ত খাবার ঝুঁকির কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ও মিষ্টিজাতীয় খাবার রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তাই পরিমিত খাবার খেতে হবে এবং নিয়মিত ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে। হালকা ব্যায়াম ও হাঁটাচলা বন্ধ করা যাবে না। প্রয়োজনে রক্তচাপ ও সুগার পরীক্ষা করতে হবে।
ফার্স্ট এইড বক্স সঙ্গে রাখা
ছুটিতে বাড়িতে বা বাইরে গেলে হাত-পায়ে হালকা আঘাত লাগতে পারে, কাটাছেঁড়া, হাত-পা ছিলে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে শিশুদের। কাটাছেঁড়া ও আঘাতের জন্য ফার্স্ট এইড বক্স রাখা যেতে পারে। যার মধ্যে গজ-ব্যান্ডেজ, ব্যান্ড-এইড ও অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম থাকবে। শিশুদের দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখুন যেন আগুন বা পানির কাছে না যায়।
মোশন সিকনেস হলে
যাদের মোশন সিকনেস আছে বা যাত্রাপথে বমি ভাব হয়, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ; যেমন মাথা ঘোরা বা বমির ওষুধ রাখতে পারেন। অনেক সময় আদা খেলেও বমিভাব অনেকখানি কমে যায়।