× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ঈদুল আজহা

শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

মাহবুবা মিতু

প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬ ১৩:৫৮ পিএম

কিছু প্রস্তুতি নিয়ে রাখলে ঈদের সময়টাও উপভোগ্য হয়ে উঠবে 	ছবি- ইমেজবাজার

কিছু প্রস্তুতি নিয়ে রাখলে ঈদের সময়টাও উপভোগ্য হয়ে উঠবে ছবি- ইমেজবাজার

ঈদুল আজহা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি ত্যাগ, সহমর্মিতা ও পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য উপলক্ষ। কোরবানির ঈদ ঘিরে প্রতিটি পরিবারেই থাকে নানা ধরনের প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও ব্যস্ততা। কেউ পশু কেনার চিন্তায়, কেউ রান্নাঘরের আয়োজন নিয়ে, আবার কেউ অতিথি আপ্যায়নের প্রস্তুতিতে সময় কাটান। তবে সব ব্যস্ততার মধ্যেও যদি একটু সচেতনতা ও পরিকল্পনা থাকে, তাহলে ঈদের আনন্দ যেমন বাড়ে, তেমনই কমে অপ্রয়োজনীয় চাপও।

মানসিক ও আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি

কোরবানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হলো মানসিক প্রস্তুতি। ঈদের অন্তত সপ্তাহখানেক বা তারও আগে থেকে নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ও তাকবির পাঠের অভ্যাস বাড়ানো উচিত। ‘কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়, নিজের ভেতরের পশুত্বকে জবাই করার প্রতীক’ এই কথাটি মনে রাখলে প্রস্তুতি আরও সার্থক হয়। গরিব-দুঃখীদের প্রতি সহানুভূতি বাড়ানো, পারিবারিক কলহ মিটিয়ে ফেলা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করা এই সময়ের অংশ। অনেক পরিবার এ সময়ে সদকা ও ফিতরা আগাম দিয়ে দেন যাতে ঈদের দিন কেউ না খেয়ে থাকে।

আর্থিক প্রস্তুতি

কোরবানির ঈদ মানেই বাড়তি খরচের চাপ। পশু কেনা থেকে শুরু করে রান্না, অতিথি আপ্যায়ন, মাংস সংরক্ষণ- সব মিলিয়ে বেশ বড় একটি বাজেটের প্রয়োজন হয়। অনেক সময় আবেগের বশে প্রয়োজনের বাইরে খরচ হয়ে যায়, যা পরে অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তাই আগে থেকেই একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে রাখা ভালো। ছোট পরিবারের জন্য ছাগল বা ভেড়া উপযুক্ত। দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির জন্য কোরবানির টাকা আলাদা হিসাবে রাখুন।

পশু কেনার ক্ষেত্রে সচেতনতা

কোরবানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো উপযুক্ত পশু নির্বাচন। বর্তমানে অনেকেই সরাসরি হাটে গিয়ে পশু কিনছেন, আবার অনেকে অনলাইন প্লাটফর্ম বা খামার থেকেও পশু সংগ্রহ করছেন। তবে যেখান থেকেই পশু কেনা হোক না কেন, পশুর স্বাস্থ্য ও বয়সের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শুধু বড় বা আকর্ষণীয় দেখলেই পশু ভালো হবে এমন না। পশুর চোখ পরিষ্কার কি না, দাঁত ঠিক আছে কি না, হাঁটাচলা স্বাভাবিক কি নাÑ এসব বিষয় খেয়াল করা জরুরি। অসুস্থ বা দুর্বল পশু এড়িয়ে চলা উচিত।

সরঞ্জামাদি ও কসাইয়ের বন্দোবস্ত 

ঈদের প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং দক্ষ কসাই নিশ্চিত করা। কোরবানির পশু জবাই থেকে শুরু করে মাংস প্রস্তুত করা পর্যন্ত ধারালো ছুরি, চাপাতি, দা এবং হাড় কাটার জন্য কাঠের গুঁড়ির প্রয়োজন হয়। তাই ঈদের অন্তত কয়েক দিন আগেই পুরনো সরঞ্জামগুলো শাণ দিয়ে ধারিয়ে নেওয়া উচিত, যাতে শেষ মুহূর্তে কোনো বিড়ম্বনায় পড়তে না হয়। পাশাপাশি ঈদের দিন অভিজ্ঞ কসাইয়ের তীব্র সংকট তৈরি হয়; তাই আগেভাগেই বিশ্বস্ত কোনো কসাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে বুকিং চূড়ান্ত করা ভালো। সঠিক সময়ে সরঞ্জাম ও কসাই নিশ্চিত করা গেলে কোরবানির পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি গোছানো এবং দ্রুত সম্পন্ন হয়।

ঘর সাজাতে পারেন স্নিগ্ধভাবে 

ঘর ও রান্নাঘরের প্রস্তুতি

কোরবানি ঈদের প্রধান আকর্ষণ হরেক পদের মাংসের রান্না। এজন্য গৃহিণীদের প্রস্তুতি শুরু হয় অনেক আগে থেকেই। ঈদের আগে ঘর ও রান্নাঘর গুছিয়ে রাখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। অনেক সময় দেখা যায়, কোরবানির দিন প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বা ফ্রিজে জায়গা নেই। তাই আগে থেকেই ফ্রিজ পরিষ্কার করা, প্রয়োজনীয় পাত্র ধুয়ে রাখা, ছুরি-বঁটি ধার দেওয়া এবং মাংস সংরক্ষণের ব্যাগ বা পাত্র সংগ্রহ করে রাখা উচিত। রান্নাঘরের কাজ যত গুছানো থাকবে, ঈদের দিনের চাপও তত কম হবে। এ ছাড়া আদা, রসুন, পেঁয়াজ এবং গরম মসলার জোগান নিশ্চিত করুন। ব্লেন্ডার, প্রেসার কুকার ঠিকঠাক কাজ করছে কি না চেক করে নিন। মাংস বিলিবণ্টনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ বড় ও মজবুত পলিথিন ব্যাগ বা পরিবেশবান্ধব বক্স সংগ্রহে রাখুন।

কোরবানির পশু রাখার ব্যবস্থা

কোরবানির পশু কিনে আনার পর তার নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা করুন। এরপর কোথায় জবাই হবে, কে জবাই করবেন এসবকিছু আগে থেকেই ঠিক করে রাখুন। এতে কাজ অনেকটাই এগিয়ে থাকবে। জবাইয়ের পর কাটাকুটির জন্য যদি কাউকে দরকার হয়, তাকেও আগে থেকে বলে রাখুন। প্রয়োজনের সময় মানুষ না পাওয়া গেলে মুশকিলে পড়তে হতে পারে। তাই এমন কাউকে বলে রাখুন, যিনি আপনাকে সাহায্য করতে পারবেন।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

পরিবেশ রক্ষায় কোরবানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা। মেঝেতে প্লাস্টিক শিট বিছিয়ে নিলে পরিষ্কার করা সহজ হয়। নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা করুন। তাই ব্লিচিং পাউডার ও বড় বর্জ্য ব্যাগ মজুদ রাখা আবশ্যক।

মাংস সংরক্ষণ ও বিতরণ 

কোরবানির পর মাংস সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেকেই একসঙ্গে বড় বড় অংশ ফ্রিজে রেখে দেন, যা পরে ব্যবহার করতে অসুবিধা হয়। তাই ছোট ছোট প্যাকেটে ভাগ করে লেবেল লাগিয়ে রাখাই ভালো। মাংস ধোয়ার পর অতিরিক্ত পানি ঝরিয়ে সংরক্ষণ করলে তা দীর্ঘদিন ভালো থাকে। অন্যদিকে মাংস বিতরণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ঈদের অন্তত দু-তিন দিন আগেই একটি খসড়া তালিকা তৈরি করে ফেলুন। এতে ঈদের দিন বিতরণের সময় তাড়াহুড়ো বা বিশৃঙ্খলা এড়ানো যায়। বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখবেন আশপাশের মানুষের প্রতি। অনেক সময় আমরা দূরের আত্মীয়দের মনে রাখি, কিন্তু যারা প্রতিদিন আমাদের পাশে থাকে তাদের ভুলে যাই। তাদের প্রতি সদয় হলে ঈদের আনন্দ সত্যিকার অর্থে সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ে এবং সমাজে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সামাজিকতা ও দায়িত্বশীল বণ্টনের মাধ্যমেই কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ হয়।

উৎসবের রান্নার প্রস্তুতি নেয়ার জন্য আগে থেকেই মসলা গুছিয়ে নিন

মাংস রাখার জন্য আলাদা পাত্র

বাড়িতে কোরবানির মাংস রাখার জন্য বড় বড় বারকোশ, প্লাস্টিকের বোল, অ্যালুমিনিয়ামের ডিশ ও ডেকচির ব্যবহার হয়। এ পাত্রগুলোকে ডিশওয়াশিং লিকুইড দিয়ে গরম পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে। রান্নাঘরের মেঝে থেকে তেল চিটচিটে ভাব দূর করা যায় না প্রথম দিনেই। তাই সব কাজ শেষে মেঝে গরম পানি এবং ফ্লোর ক্লিনার দিয়ে মুছে ফেলা হলেও পরদিন পুনরায় মেঝেটি একই নিয়মে মুছে ফেলুন। ফ্লোর মপগুলোকেও সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে বারবার ধুয়ে নেওয়া জরুরি।

কোরবানির পরের পরিচ্ছন্নতা

লিকুইড এবং সলিড ডিশওয়াশ, ব্লিচিং পাউডার, চুন, ঈষদুষ্ণ পানি, ফ্লোর ক্লিনার, মপ, ঝাড়ু, পানি দিয়ে কোরবানি দেওয়ার স্থান পরিষ্কার করার জন্য হোসপাইপ ইত্যাদি উপকরণ হাতের কাছে আগে থেকেই গুছিয়ে রাখুন। এতে আপনার কোরবানি ক্লিনিং দ্রুততার সঙ্গে হবে।

পরিবারের সবার অংশগ্রহণ ও শিশুদের শিক্ষা

ঈদের প্রস্তুতি ও আনন্দ কেবল বড়দের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এতে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সাধারণত এই সময়ে নারীদের ওপর রান্নাবান্না ও অতিথি আপ্যায়নের বাড়তি চাপ থাকে; তাই পরিবারের পুরুষ সদস্য ও সন্তানরা যদি ছোটখাটো কাজে হাত বাড়ান, তবে কাজের চাপ কমার পাশাপাশি পারিবারিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়। পাশাপাশি কোরবানির ঈদ শিশুদের জন্য জীবনমুখী শিক্ষার এক অনন্য সুযোগ। তাই কোরবানিকে কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে না দেখে, এর পেছনের নৈতিক শিক্ষা যেমনÑ প্রিয় বস্তু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করা এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্ব তাদের সামনে সহজভাবে তুলে ধরা উচিত। এতে শিশুদের মনে ছোটবেলা থেকেই দায়িত্ববোধ, মানবিকতা এবং পরোপকারের মানসিকতা গড়ে ওঠে, যা ঈদের আনন্দকে প্রকৃত অর্থেই সার্থক করে তোলে।

ব্যক্তিগত গোছগাছ

ঈদের দিন সাজতে পারেন হালকা সাজে 

ঈদের প্রস্তুতির চূড়ান্ত ধাপে ব্যক্তিগত গোছগাছ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সব ঝক্কি সামলে নিজের ও পরিবারের আনন্দকে সতেজ রাখা চাই। ঈদের নামাজের জন্য নির্ধারিত পোশাক আগেভাগেই ইস্ত্রি করে রাখা এবং সেই সঙ্গে জায়নামাজ, টুপি ও আতর এক জায়গায় গুছিয়ে রাখলে শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়ো এড়ানো সম্ভব হয়। কোরবানির ঈদের দিন কাজের চাপে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তাই পর্যাপ্ত বিশ্রামের পাশাপাশি খাবারের ব্যাপারেও সচেতন হওয়া জরুরি। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার বা অতিভোজন এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে দিনভর প্রফুল্ল থাকা যায়। মূলত নিজের এই ছোট ছোট গুছিয়ে নেওয়া পদক্ষেপগুলোই ঈদের দিনটিকে আরও বেশি উপভোগ্য ও শান্তিময় করে তোলে।

অতিথি আপ্যায়ন

ঈদের দিনে অতিথি আপ্যায়নের একটি পর্ব থাকে। বাড়িতে অতিথি এলে তাদের আপ্যায়ন করতে হবে। এ ছাড়া উৎসবের দিন নিজেদের জন্যও ভালো খাবারের ব্যবস্থা থাকে। তাই কিছু খাবার আগের দিনই তৈরি করে রাখুন। যেমনÑ ফিরনি, পায়েস, পুডিং আগের দিন তৈরি করে ফ্রিজে রাখতে পারেন। যেসব পাত্রে পরিবেশন করা হবে সেগুলো আগে থেকেই ধুয়েমুছে রাখুন।

কেনাকাটা 

যদিও কোরবানির ঈদ রমজানের ঈদের মতো নয়। অর্থাৎ অত বেশি পোশাক কেনাকাটা করা হয় না এই ঈদে। কিন্তু কারও কারও পোশাক বা অন্যান্য জিনিস কেনার প্রয়োজন হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জিনিসটি আগেই কিনে ফেলুন। হয়তো আপনার খাবার পরিবেশনের জন্য তৈজসপত্র প্রয়োজন কিংবা অন্য কিছু, প্রয়োজন অনুযায়ী সেটি কিনে নিন। এতে ঈদের দিনের কাজগুলো সহজ হয়ে যাবে।

নিজের যত্ন

ঈদে যতই ব্যস্ততা থাকুক, নিজের দিকে খেয়াল রাখতে ভুলবেন না। নিজের যত্ন নিন। নিজের খেয়াল রাখুন। সম্ভব হলে আগেভাগেই কিছু পরিচর্যা করুন যাতে নিজেকে দেখতে সুন্দর ও অনন্য লাগে। ঈদের দিন নতুন পোশাক পরা সম্ভব না হলে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর একটি পোশাক পরুন। কাজ যতই করুন, নিজেকে দেখতে বেমানান লাগে এমন কিছু পরবেন না। পরিপাটি থাকার চেষ্টা করুন। ঈদের আগে ত্বক ও চুলের যত্নের দিকেও নজর দিতে পারেন। নিজেকে দেখতে সুন্দর লাগলেÑ তা আপনার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে তুলবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা