ডা. ঈশিতা বিশ্বাস
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬ ১৩:৪৯ পিএম
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের খাবার খেতে হবে বুঝেশুনে
ঈদুল আজহায় বাকি আর অল্প কয়েকদিন। আল্লাহর আনুগত্য লাভের আশায় মুসলিমরা সাধ্যমতো পশু কোরবানি করেন এই ঈদে। স্বাভাবিকভাবেই ঘরে ঘরে চলে মাংসের নানা পদের বাহারি ভোজন। তবে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস ও লবণের ব্যবহার আমাদের সবার স্বাস্থ্যের নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে হাই প্রেশার ও ডায়াবেটিস রোগীদের এ সময় বেশি সতর্ক থাকা উচিত। নইলে প্রেশার ও ডায়াবেটিস বেড়ে গিয়ে শরীরে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা দেখা যেতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক ঈদে সুস্থ থাকতে হাই প্রেশার ও ডায়াবেটিস রোগীরা কী কী নিয়ম মানবেন।
খাবার বাছাই (কোরবানির মাংস খাওয়ার নিয়ম)
পরিমিত আহার
উৎসবের দিনগুলোতে ক্যালরি মেপে আহার করুন। বিশেষ করে কার্বোহাইড্রেট সম্পৃক্ত খাবার যেমন- পোলাও, খিচুড়ি, মিষ্টান্ন, তেহারি, বিরিয়ানি ইত্যাদি।
স্বাস্থ্যকর মিষ্টান্ন
সচরাচর যেসব মিষ্টান্ন রক্তে সুগার বৃদ্ধি করে তা পরিহার করুন। (ডেজার্টে রাখুন টকদই, একমুঠো বাদাম, ফলের সালাদ ইত্যাদি)
কোমল পানীয় নির্বাচনে সতর্কতা
অতিরিক্ত সুগারযুক্ত কার্বোনেটেড সফট ড্রিংকস পরিহার করুন। তার পরিবর্তে চলতে পারে ডাবের পানি, গ্রিনটি, আদা চা। এ গরমে যথেষ্ট ও পরিমাণমতো পানি পানের ব্যাপারটা লক্ষ্য রাখতে হবে।
অতিরিক্ত ভোজন পরিহার
যখন আপনার ক্যালরি অনুযায়ী খাবার খাওয়া হয়ে যাবে, তখনই আপনি টেবিল ছেড়ে উঠে পড়ুন। সাধারণত এ ধরনের উৎসবে সবার সঙ্গে বসে অতিরিক্ত ভোজন হয়ে যায়, কারও অনুরোধে খাদ্য তালিকার বাইরে অতিরিক্ত ভোজন করবেন না।
দৈনন্দিন ব্যায়াম বা হাঁটার কথা ভুলবেন না। অনেকেই মনে করেন উৎসবের দিনগুলোতে অন্যান্য দিনের মতো ব্যায়াম বা না হাঁটলেও চলবে। কিন্তু এ সময়গুলোতে অতিরিক্ত ভোজন করলে বা না হাঁটলে রক্তে সুগার বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ে, তাই অন্যান্য দিনের মতো এ উৎসবেও নিয়মিত হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন।
প্রতিদিন খাদ্য গ্রহণের সময় অপরিবর্তিত রাখা
অন্যান্য দিনের মতো উৎসবের দিনগুলোতেও দৈনন্দিন খাদ্য গ্রহণের সময়সূচি মেনে চলুন। দিনের বেলাতে অতিভোজন হয়ে গেলে রাতের খাবার হালকা রাখুন।
প্রতিদিনের ওষুধ গ্রহণে অবহেলা নয়
ঈদের এই সময় সারা দিন প্রেশার, ডায়াবেটিসের রোগীরাও ঘরে বা বাইরে ব্যস্ত সময় পার করেন। তাই বলে প্রতিদিনের ওষুধ গ্রহণে অবহেলা করলে চলবে না। সময়মতো প্রেশার ও ডায়াবেটিস বা অন্যান্য ওষুধ বা ইনসুলিন গ্রহণ করতে হবে। রক্তে শর্করা প্রেশার পরীক্ষা করুন নিয়মিত।
পানি পান ও জীবনযাপনে সতর্কতা
কখন সতর্ক হবেন
হঠাৎ ব্লাড প্রেশার খুব বেশি বা ব্লাডসুগার খুব কম/বেশি হলে দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।