মাহবুবা মিতু
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬ ১৬:১৬ পিএম
গরমের তীব্রতা কমাবে যেসব পর্দা
আধুনিক বাড়ির জানালাগুলো বেশ বড় হয়, যা আলো-বাতাসের জন্য উন্মুক্ত থাকে। কিন্তু কাচের জানালা দিয়ে সূর্যের তাপ দ্রুত ঘরে প্রবেশ করে। ফলে ক্রমশ ঘরের তাপমাত্রা বাইরের চেয়ে বেশি হয়ে যায়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুসারে, জানালা দিয়ে গ্রীষ্মকালে প্রায় ৭৬% সূর্যালোক তাপ হিসেবে ঘরে প্রবেশ করে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই এয়ার কন্ডিশনারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন, এটি নিঃসন্দেহে আরামদায়ক। তবে বিদ্যুতের বাড়তি খরচ, লোডশেডিং এবং পরিবেশগত নানা চিন্তার কারণে মানুষ এখন বিকল্প উপায়ের দিকেও নজর দিচ্ছেন। আর সেই বিকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছে আধুনিক পর্দা। পর্দা শুধু ঘরের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, ঘন কাপড়, সঠিক রঙ ও উন্নত ফেব্রিকের পর্দা বাইরের তাপ অনেকটাই প্রতিরোধ করতে সক্ষম। কিছু বিশেষ ধরনের পর্দা এই কাজে অত্যন্ত কার্যকরÑ
থার্মাল বা ইনসুলেটেড পর্দা
ঘর গরম হওয়ার প্রধান কারণ হলো ‘গ্রিনহাউজ ইফেক্ট’ জানালার কাচ ভেদ করে সূর্যের ইনফ্রারেড রশ্মি ভেতরে ঢোকে এবং তাপ আটকে পড়ে। থার্মার ইনসুলেটেড পর্দা এখানে বর্ম হিসেবে কাজ করে। এই পর্দায় সাধারণত কয়েক স্তরের ফেব্রিক থাকেÑ রিফলেক্টিভ লেয়ার, যা সূর্যের আলোকে প্রতিফলিত করে বাইরে পাঠিয়ে দেয়। ফোম লেয়ার যা তাপ কুপরিবাহী হিসেবে কাজ করে বাইরের লু-হাওয়াকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিক থার্মাল পর্দা জানালার মাধ্যমে আসা তাপ প্রায় ৩০-৪০% পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে।
ব্ল্যাকআউট পর্দা
যারা দিনের বেলাতেও ঘরকে অন্ধকার ও শীতল রাখতে চান, তাদের জন্য এটি সেরা পছন্দ। এই পর্দাগুলো মূলত মোটা ও ঘন বুননের হয়, যা ৯০-১০০% সূর্যালোক এবং তাপ শোষণ করে। এর পেছনের দিকে প্রায়শই একটি বিশেষ আস্তরণ থাকে, যা তাপকে ঘরের বাইরে প্রতিফলিত করে। এটি ঘরের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সাহায্য করে।
মোটা সুতি বা লিনেন পর্দা
প্রাকৃতিক তন্তু যেমন সুতি বা লিনেন দিয়ে তৈরি মোটা পর্দাগুলো সূর্যের তীব্র আলো ও তাপ শোষণ করে ঘরকে শীতল রাখে। এদের বুনন ঘন হওয়ায় তাপ সহজে প্রবেশ করতে পারে না।
ডাবল লেয়ার পর্দা
দুটি ভিন্ন স্তরের পর্দা ব্যবহার করলে তাপ নিয়ন্ত্রণ আরও ভালো হয়। ভেতরের দিকে পাতলা বা হালকা রঙের পর্দা এবং বাইরের দিকে মোটা বা ব্ল্যাকআউট পর্দা ব্যবহার করা যেতে পারে।
হালকা রঙের পর্দা ও রিফ্লেক্টিভ ব্যাকিং
রঙের সাথে তাপের সম্পর্ক চিরন্তন। গাঢ় রঙ (কালো, নেভি ব্লু বা গাঢ় খয়েরি) তাপ শোষণ করে ঘরকে আরও গরম করে তুলতে পারে। অন্যদিকে সাদা বা অফ হোয়াইট সূর্যের আলোকে সবচেয়ে বেশি প্রতিফলিত করে।
বাঁশ বা বেতের চিক
বাঁশ বা বেতের চিক এখন আর শুধু গ্রামীণ ঐতিহ্যের অনুষঙ্গ নয়; এটি আধুনিক অন্দরসজ্জাতেও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে না। ফলে ঘরের ভেতরে স্বাভাবিক বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। একই সঙ্গে সরাসরি রোদের তাপ অনেকটাই শোষণ করে নেয়, যার কারণে ঘর তুলনামূলক শীতল থাকে।
ইভাপোরেটিভ কুলিং
ঘরকে স্বাভাবিকভাবে শীতল রাখার জন্য পুরনো দিনের একটি কার্যকর কৌশল হলো পর্দায় হালকা পানির ছিটা দেওয়া। বিশেষ করে দুপুরের তীব্র গরমে পর্দার নিচের অংশ সামান্য ভিজিয়ে রাখলে বাইরের বাতাস সেই ভেজা কাপড়ের ভেতর দিয়ে ঘরে প্রবেশের সময় তুলনামূলক ঠান্ডা অনুভূত হয়। একেই বলা হয় ইভাপোরেটিভ কুলিং। এই পদ্ধতিতে পানি বাষ্পে পরিণত হওয়ার সময় আশপাশের তাপ শোষণ করে নেয়। ফলে বাতাসের উষ্ণতা কিছুটা কমে আসে।