প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬ ১১:১৫ এএম
তরুণ জীববিজ্ঞান অনুরাগীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় জাতীয় জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ২০২৬
দেশের তরুণ জীববিজ্ঞান অনুরাগীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় শুক্রবার (৮মে) অনুষ্ঠিত জাতীয় জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ২০২৬-এ।
লিথুয়ানিয়ায় আগামী ১২–১৯ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী জাতীয় দল নির্বাচনকে সামনে রেখে 'আশা জাগানিয়া লিথুয়ানিয়া' স্লোগানে বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কমিটির আয়োজনে রাজধানীর আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (AIUB) ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
গত এপ্রিল মাসজুড়ে আয়োজিত দেশের ১০টি আঞ্চলিক জীববিজ্ঞান উৎসব থেকে নির্বাচিত বিজয়ী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ জাতীয় অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত সহস্রাধিক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক এতে অংশ নেন। প্রতিযোগিতায় আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের পাঠ্যক্রম অনুসারে কোষতত্ত্ব ও প্রাণরসায়ন, প্রাণী ও উদ্ভিদের অঙ্গসংস্থান ও শারীরতত্ত্ব, প্রাণী আচরণবিদ্যা, বাস্তুসংস্থান, জৈব অভিব্যক্তি ও বংশগতিবিদ্যা, বায়োসিস্টেমেটিক্স এবং বায়োইনফরমেটিক্স—এই সাতটি বিষয়ের ওপর সৃজনশীল ও বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়।
দিনের কার্যক্রম শুরু হয় সংক্ষিপ্ত প্রশ্নভিত্তিক লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে। পরে বহুনির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং মধ্যাহ্নবিরতির পর দুপুর ২টা ১০ মিনিটে শুরু হয় বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রশ্নোত্তর পর্ব। পর্বের শুরুতে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। প্রশ্নোত্তর পর্বে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী, গবেষক, চিকিৎসক ও শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ পর্ব পরিচালনা করেন ডা. সৌমিত্র চক্রবর্তী।
সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. হাসিনা খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আব্দুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর ড. রাখহরি সরকার। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রফেসর ড. মৃত্যুঞ্জয় কুণ্ডু।
আয়োজকরা জানান, তরুণদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা, গবেষণামুখী মানসিকতা এবং আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে আরও শক্তিশালী করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চায় আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যৎ বিজ্ঞান নেতৃত্ব গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
দিনব্যাপী প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয় এবং তাদের হাতে সনদ ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। নির্বাচিত ২০ জন শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ১৩–১৬ মে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজিতে অনুষ্ঠিতব্য বায়োক্যাম্পে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। এছাড়া জাতীয় জীববিজ্ঞান উৎসবের জুনিয়র, সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে মোট ১০০ জন শিক্ষার্থী চ্যাম্পিয়ন, রানার্স-আপ ও সেকেন্ড রানার্স-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
এ ছাড়াও বরেণ্য বাঙালি জীববিজ্ঞানী আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু, উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী, গোপালচন্দ্র ভট্টাচার্য, একেএম নুরুল ইসলাম এবং এসএম হাসানুজ্জামানের নামে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা হয় অসামান্য কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখা শিক্ষার্থী আরিজ আনাস (সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ), মো. সিনান সাইফি রহমান (সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল), আহনাফ দাইয়ান (ম্যাপল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল), মো. শাহরিন আল-মুহাইমিন (নেভি অ্যাংকরেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ) এবং শাফিনা কবির ইপ্সিতা (মুমিনুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজ)-কে।
এ অনুষ্ঠানের আয়োজক বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কমিটি। ভেন্যু পার্টনার হিসেবে ছিল আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ, ট্রেনিং পার্টনার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি, টেকনিক্যাল পার্টনার ল্যাব বাংলা।