প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ মে ২০২৬ ১৫:১২ পিএম
ভাড়ার দাসত্ব থেকে মুক্তি এবং 'আজকের গ্রহীতা, আগামীকালের দাতা' হওয়ার এ যেন এক অনুপ্রেরণামূলক গল্প।
আমাদের সমাজের অনেক সুবিধাবঞ্চিত জেলে ভাড়ার নৌকা বা দিনমজুরির উপর নির্ভরশীল।যা তাদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয় এবং তাদের দারিদ্র্যের চক্রে আটকে রাখে । মৎস্যজীবী সম্প্রদায়গুলোতে একটি টেকসই জীবনযাপনের জন্য মাছ ধরার সম্পদের মালিকানা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । এই প্রেক্ষাপটেই, অভাবগ্রস্ত জেলেদের নিজস্ব নৌকার মালিকানা প্রদানের মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী, আয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে 'প্রজেক্ট স্বপ্নের তরী ২.০' ডিজাইন করা হয়েছে।
এই প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে জেসিআই ঢাকা মেট্রো। একটি সফলতার গল্প: সমৃদ্ধির চক্র ও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই
এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সাফল্য ও আবেগের জায়গাটি হলো এর প্রথম ধাপের (ফেজ ১) সুবিধাভোগীদের অভূতপূর্ব রূপান্তর। প্রজেক্ট স্বপ্নের তরীর প্রথম ধাপে, ৫টি অভাবগ্রস্ত জেলে পরিবারকে নিজস্ব নৌকা প্রদানের মাধ্যমে ক্ষমতায়ন করা হয়েছিল, যা তাদের ঋণ এবং দৈনিক ভাড়ার চক্র থেকে মুক্ত করেছিল । কঠোর পরিশ্রম এবং নিজেদের সম্পদের মালিকানার মাধ্যমে তারা আজ আর্থিকভাবে শুধু স্বাধীনই হননি, বরং উদ্বৃত্ত আয় করতেও সক্ষম হয়েছেন ।
সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক বিষয়টি হলো, এই ৫ জন জেলে তাদের আয় থেকে ৪৫,০০০ টাকা একত্র করেছেন যেন তাদের অভাবী প্রতিবেশীরা নতুন নৌকা পেতে পারেন। এই অবদান প্রমাণ করে যে, প্রজেক্ট স্বপ্নের তরী কেবল একবারের কোনো অনুদান নয়, বরং এটি একটি টেকসই অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি। পূর্ববর্তী সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে এই ১১% অবদান (৪৫,০০০ টাকা) দাতাদের কাছে প্রমাণ করে যে এটি একটি ‘ঘূর্ণায়মান তহবিল’ (Revolving Fund) মডেল ।
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও আয় বৃদ্ধি: সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোকে মাছ ধরার নৌকার মালিকানা সফলভাবে হস্তান্তরের ফলে তাদের কাঁধ থেকে দৈনিক নৌকা ভাড়ার বোঝা চিরতরে দূর হবে এবং তাদের মুনাফা সর্বোচ্চ হবে । ভাড়ার খরচ বেঁচে যাওয়ায় পরিবারগুলোর আয় ৩০-৪০% বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে ।
পুনর্বিনিয়োগ: সুবিধাভোগীরা তাদের ভবিষ্যৎ উদ্বৃত্ত আয়ের একটি অংশ ‘স্বপ্নের তরী রিভলভিং ফান্ড’-এ জমা দেওয়ার একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা নিশ্চিত করে যে এই ফান্ড থেকেই পরবর্তী প্রজন্মের নৌকার জন্য অর্থায়ন করা হবে ।
সামাজিক ক্ষমতায়ন: এই উদ্যোগ সুবিধাভোগীদের নির্ভরশীল শ্রমিক থেকে স্বাধীন নৌকার মালিক এবং ভবিষ্যতের সম্প্রদায়ের দাতা হিসেবে রূপান্তরিত করার মাধ্যমে তাদের সামাজিক মর্যাদা এবং পেশাদারিত্বের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছে ।
স্বচ্ছতা ও দাতাদের অর্থের সঠিক ব্যবহার (Donor Efficiency) এই প্রকল্পে তহবিলের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। রুহুননেসা ট্রাস্ট এবং স্বপ্নডানা ফাউন্ডেশন থেকে প্রাপ্ত তহবিলের সম্পূর্ণ অংশ সরাসরি নৌকা ক্রয়ে বরাদ্দ করা হয়েছে । দাতাদের অর্থের কোনো অংশই ইভেন্ট-এর জন্য ব্যবহার করা হয় না । অন্যদিকে, জেসিআই ঢাকা মেট্রো নিরাপত্তা, পরিবহন এবং ব্র্যান্ডিং-এর মতো সমস্ত আনুষঙ্গিক খরচ নিজেদের ফান্ড থেকে বহন করছে, যা নিশ্চিত করে যে মূল বাজেটে হাত না দিয়েই প্রকল্পটি অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে বাস্তবায়িত হচ্ছে ।
এই প্রকল্পটি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সাথে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।