× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাঘের গুহায় ভেড়া

জারাদ ত্রিস্তান

প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬ ১৩:০৯ পিএম

আঁকা : মেহেরুন্নিসা, অষ্টম শ্রেণি, রানী নীহার দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়মানিকছড়ি, খাগড়াছড়ি

আঁকা : মেহেরুন্নিসা, অষ্টম শ্রেণি, রানী নীহার দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়মানিকছড়ি, খাগড়াছড়ি

মা ভেড়া, ছানা ভেড়া। থাকে সবুজ পাহাড়ের পাদদেশে তৃণভূমিতে। অন্য ভেড়াদের সঙ্গে চরে বেড়িয়ে ঘাস খায়।

মা-ছানাতে সুখে দিন কাটায়। এক সকালে মায়ের ব্যা, ব্যা, মেহ, মেহ চিৎকারে ঘুম ভেঙে গেল ছানা ভেড়ার। চোখ খুলে দেখতে পেল এই তৃণভূমির সকল ভেড়া, ছাগল, গরু এবং অন্যসব প্রাণী ছুটে পালাচ্ছে। চারদিকে মানুষ নামের কতগুলো জন্তুও দেখা যাচ্ছে! 

আর চারপাশে বিকট শব্দ। 

‘তাড়াতাড়ি ওঠ বাবা, তাড়াতাড়ি ওঠ, আমাদের এখন পালাতে হবে, দেরি হয়ে যাবে ওঠো বাবা।’

মায়ের ডাকে ঘুম থেকে লাফিয়ে ওঠে মায়ের পেছন পেছন দৌড়াতে শুরু করলে ছানা ভেড়া। দৌড়াতে দৌড়াতেই প্রশ্ন করল, ‘আমরা কোথায় যাচ্ছি মা? সবাই পালাচ্ছে কেন? আর কী বা হচ্ছে এখানে?’

ছুটতে ছুটতেই মা উত্তর দিল, ‘মানুষ নামের দু’পেয়ে জন্তুগুলো এসে বড় বড় পাহাড় কেটে ফেলছে। আবার আমাদের অনেককে ধরেও নিয়েছে। চারদিকে ধুলা উড়ছে, গাছপালা সব ভেঙে ভেঙে পড়ে যাচ্ছে। আমাদের এই বাসস্থান আর থাকার মতো নেই। আরও কোনো ক্ষতি হওয়ার আগে আমাদের পালিয়ে যেতে হবে এখান থেকে অনেক দূর।’ এগুলো মা এবং ছানা ভেড়া দুজনই জোরে জোরে ছুটতে ছুটতে পৌঁছে গেল এক গহিন জঙ্গল। জঙ্গলের গাছের ভেতর দিয়ে সূর্যের আলো মাটিতে পড়ে না। পুরো জঙ্গল গা ছমছম অন্ধকার। হঠাৎ করে তারা খেয়াল করল তাদের অন্য সঙ্গী-সাথীরাও পেছনে নেই। 

অজ্ঞতা মা এবং ছানা এই বনের ভেতর ঢুকে গেল। ছানা হাঁটতে হাঁটতে কাহিল হয়ে পড়ছে। তাই সে ধপ করে বসে পড়ল একটা বড় গাছের নিচে। হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, ‘আর পারছি না মা, খুব যে খিদে পেয়ে গেছে।’ 

মারও খুব ক্ষুধা পেয়েছে। তাই দুজনে মিলে জঙ্গলের ছোট ছোট গাছের পাতা এবং পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝরনার পানির নিয়ে পেট ভরিয়ে ফেলল। এরপর হাঁটতে হাঁটতে জঙ্গলের মাঝে খুঁজে পেল তারা এক গুহা। গুহার চার দিকটা খুব সুন্দর। নানা রঙের বনফুল ফুটে আছে চারদিকে।


তারা কখনও জঙ্গলে আসেনি। তাই এই গুহা সম্পর্কে কিছুই বুঝতে পারল না। ভাবল এটাই তাদের থাকার জন্য উপযুক্ত স্থান। তাই দুজন মিলে এই গুহার মধ্যে ঢুকে পড়ল। গুহাটা বেশ বড় এবং ছিমছাম। তাদের বেশ পছন্দ হলো। 

মা ভেড়া এবং ছানা ভেড়া দুজনই খুব ক্লান্ত। দুজনেই ঘুমিয়ে পড়ল। ঘুম ভাঙল হালুম হালুম শব্দে। চোখ খুলে দেখে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক বিকট প্রাণী। ছানা চিনতে না পারলেও মা ঠিকই চিনতে পারল প্রাণীটাকে, ‘বাঘিনী’। বাঘিনীর পেছন থেকে উঁকি মারছে আরেক ব্যাঘ্র শাবক। 

মা এবং ছানার জবুথবু হয়ে বসে পড়ল। ছানা তো ভয়ে মার গায়ের ভেতর ঢুকে যায় পারলে। মা নিজেও ভয়ে থরথর করে কাঁপছে। 

‘হালুম হালুম.... তোদের কত বড় সাহস, তোরা কিডা আমার গুহার ভেতর ঢুকে ঘুমাচ্ছিস। বনের রানীর গুহায় ঢুকে ঘুমানো সাহস তোদের হয় কী করে?’

‘ব্যা ব্যা ... আমাদের ক্ষমা করুন বাঘিনী, আমরা বুঝতে পারিনি যে বাঘের গুহা। আসলে আমরা পাহাড়ের পাদদেশের তৃণভূমিতে চড়ে অভ্যস্ত তো, তাই জঙ্গলে কোনটা বাঘের গুহা সেটা চিনতে পারিনি।’

‘অন্যায় করে আবার চেটাং যেটাং কথা, আমার গুহায় ঢকে আমার সাথে তর্ক করছে...।’

এমন সময় বাঘের খেয়াল হলো ভেড়ার সাথে আমার একটা বাচ্চাও আছে, ‘ও বাবা তুই একা নয় দেখছি, ভালোই হলো একটা ছোট রসালো বাচ্চাও পেয়ে গেছি। আজ আমাদের রাতের খাবারটা যা দারুণ হবে...।’

ভয়ে কেঁপে উঠল ভেড়া। তবে এখন কিনা বাঘের আহার হতে হবে তাদের।

‘আমাদের ক্ষমা করে দিন, দয়া করে আমাদের খাবেন না…।’

‘ওমা, তুমি যে কী করো না, দেখতে পারছ না তারা দুজন কত দূর থেকে ছুটে ছুটে এসেছে। তারা তো আমাদের অতিথি। আর তুমিই বলো একজন মা তার ছানাকে নিয়ে বিপদ থেকে বাঁচতে এসেছে। তুমি আমার মা হয়ে এই ভেড়া বাচ্চা তার মায়ের ক্ষতি করবে কীভাবে গো?’ বলে উঠল, ছোট্ট ব্যাঘ শাবক। 

ছানার কথায় হুঁশ ফিরল মা বাঘের। ঠিকই তো, সে যেমন তার ছানাকে ভালোবাসে তেমন নিশ্চয়ই এই ভেড়া মাও নিজের ছানাকে খুব ভালোবাসে। পৃথিবীর সকল মা-ই তো তাদের ছানাকে ভালোবাসে। চেষ্টা করে তাদের সন্তানকে যত্ন করে রাখার। তাই বাঘিনীর মনে দয়া জাগল। 

‘ঠিক আছে তোদের আমি খাব না। তোর আর তোর ছানার ওপর আমার ভারী দয়া হচ্ছে…।’

‘অনেক ধন্যবাদ বাঘিনী, অনুমতি দিন আমরা এখন চলে যাই।’

কিন্তু বাঘিনীর এই কথাটাকে দারুণ পছন্দ হয়ে গেছে। খেয়াল করল তার শাবক এই ভেড়ার বাচ্চার সাথে খেলার জন্য ছটফট করছে। তাই সে বলল, ‘কত দূর থেকে তোমরা এসেছ এই বনে, বনের রানী হিসেবে আমার বনের অতিথি তোরা। থেকেই যা আমাদের সাথে। দুই মা এবং দুই ছানা মিলে এই গুহাতেই থাকি।’

বাঘিনীর কথায় খুব খুশি হলো ভেড়া। তারপর তারা থেকে গেল বাঘিনী ও বাঘিনী শাবকের সঙ্গে। আগের চেয়ে মাংস খাওয়া অনেক কমিয়ে দিয়েছে বাঘিনী। মাঝে মাঝে ছোটখাটো ইঁদুর খায়। ভেড়াদের সাথে থাকতে থাকতে বিভিন্ন ধরনের ঘাস লতাপাতা এবং মূলের স্বাদ দারুণ লাগছে। আর ব্যাঘ্র শাবক ছানা ভেড়ার সাথে দারুণ বন্ধুত্ব গড়ে তুলছে। গুহায় বসে দুই মা অর্থাৎ মা ভেড়া আর মা বাঘিনী গল্প করে আর ঘাস লতাপাতা ফুল মিলিয়ে গ্রিন সালাদ তৈরি করে। আর বাইরে অন্য পশুদের সাথে খেলে ছানা ভেড়া এবং ব্যাঘ্র শাবক। এখন আরও অনেক বন্ধু হয়েছে তাদের জঙ্গলে। সবার সাথে মিলেমিশে থাকার শিক্ষা এখন তাদেরকে দেয় বাঘিনী মা। এবং দুই মা তাদের সন্তানদেরকে যত্ন করে আগলে রাখে। 

এই বাঘিনী মা এবং ভেড়া মার মতো বিশ্বের সকল মাকে ছানা ভেড়া, ব্যাঘ্র শাবকের পক্ষ থেকে মা দিবসের শুভেচ্ছা। 

ষষ্ঠ শ্রেণি, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কাকরাইল, ঢাকা

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা