ডা. ঈশিতা বিশ্বাস
প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬ ১৩:৪৬ পিএম
চল্লিশ বছর পার হওয়ার পর নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত
রাবেয়া খন্দকার সম্প্রতি ৪৬ বছরে পা দিয়েছেন। ছেলেমেয়ে, স্বামী নিয়ে সাজানো-গোছানো সংসার। খাওয়া-দাওয়া নিয়ে খুব একটা সমস্যা তার কখনও হয়নি, তবে ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটিতে বেশ অনীহা কাজ করত। ভাবতেন ভালোই তো আছেন, তেমন তো সমস্যা হচ্ছে না। কিছুদিন আগে থেকে খেয়াল করছেন তার অন্য সময়ের তুলনায় বেশি ঘাম হচ্ছে, মেজাজেরও বেশ পরিবর্তন হচ্ছে, কেমন যেন অস্থির অস্থির লাগে সব সময়। ডাক্তার দেখিয়ে জানতে পারলেন তার মেনোপজ শুরু হয়ে গেছে; যার কারণে শরীরে এ ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
চল্লিশ বছর বয়সের পর নারীর শরীরে স্বাভাবিকভাবেই কিছু পরিবর্তন আসে। যেমন- হরমোন, মেটাবলিজম, হাড়ের শক্তি, মানসিক স্বাস্থ্যে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই ভয় পেয়ে যান এ ধরনের পরিবর্তন নিয়ে। অথচ বয়স বাড়লেও কোনো পরিবর্তন কখন ও কেন হচ্ছে, এগুলো জানা থাকলে সহজেই নিজের যত্ন নেওয়া যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক এ সম্পর্কে-
হরমোনাল পরিবর্তন
৪০-এর পর অনেকেই পেরিমেনোপজ পর্যায়ে ঢোকেন। এ সময় মাসিক অনিয়মিত হতে পারে। দেখা দিতে পারে হট ফ্ল্যাশ, ঘাম হওয়া, মেজাজ পরিবর্তন, ওজন বৃদ্ধি, চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা।
চিকিৎসা : মেনোপজ কোনো রোগ নয়, এটা শরীরের স্বাভাবিক পরিবর্তন। তবে উপসর্গ বেশি হলে চিকিৎসা বা ব্যবস্থাপনা দরকার হতে পারে। এক্ষেত্রে জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনা যেতে পারে।
লাইফস্টাইল ম্যানেজমেন্ট (প্রথম ধাপ)
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে হার্টের সমস্যা বাড়ে, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল বাড়তে পারে। মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়, তাই সহজে ওজন বাড়ে। এসব সমস্যা দূর করার জন্য সুষম খাদ্যাভ্যাস তৈরি করতে হবে এবং পরিমাণমতো খেতে হবে।
তেল, চর্বি, মিষ্টিজাতীয় খাবার কম খেতে হবে। ডায়েটে শাকসবজি, ফল, প্রোটিন (মাছ, ডাল, ডিম), কম লবণ খাবেন। পর্যাপ্ত পানি পান করবেন।
নিয়মিত ব্লাড প্রেশার, সুগার, লিপিড প্রোফাইলসহ নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা জরুরি।
নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষার মধ্যে ম্যামোগ্রাম (ব্রেস্ট চেক) করতে হবে।
ওজন ও মেটাবলিজম
৪০ বছরের পর আমাদের মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়, ফলে সহজেই ওজন বাড়ে। তাই এ সময়ে নিয়মিত ব্যায়াম ও সুষম খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত জরুরি।
মানসিক স্বাস্থ্য : ৪০ বছরের পর নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যে কিছু স্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। যেমন- মুড সুইং, হরমোনাল ওঠানামার কারণে হঠাৎ ভালো লাগা, খারাপ লাগা হতে পারে।
২. দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ : পরিবার, সন্তান, ক্যারিয়ার, ভবিষ্যৎÑ এসব নিয়ে চাপ বাড়তে পারে। কখনও কখনও অকারণে টেনশন বা অস্থিরতা অনুভূত হয়।
৩. বিষণ্নতা দেখা দেয়
৪. আত্মবিশ্বাস কমে যায়
৫. ঘুমের সমস্যা হতে পারে
কী করলে ভালো থাকা যায়
যে পরীক্ষাগুলো করা প্রয়োজন
কীভাবে সুস্থ থাকবেন
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং কনসালট্যান্ট : আজগর আলী হাসপাতাল