প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬ ১৩:৪২ পিএম
সকালে হাঁটার সময় অসুস্থ না হতে চাইলে মানতে হবে কিছু নিয়ম
সকালে হাঁটলে শরীর ভালো থাকে এ কথা আমরা সবাই জানি। সুস্থ থাকার জন্য সব বয়সীর মর্নিং ওয়াকের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে সকালে হাঁটতে গেলে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারণ এ সময় বাইরে তেমন রোদও থাকে না, এ সময় হাঁটলে শরীরের ভেতর থেকে গরমে ক্লান্তি এসে পড়ে। দিনের একদম শুরুতেও হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়ে যায়।
সকালের ঠান্ডা ভাবই কি ক্ষতির কারণ
রোদ চড়ার আগেই হাঁটতে বেরিয়ে পড়লে গরমের প্রভাব এড়ানো যায় এমনটাই সবার ধারণা। কিন্তু হিটওয়েভ বা তাপপ্রবাহের সময় শরীর রাতভর তাপ আর আর্দ্রতার চাপে থাকে। যার কারণে ঘুমের মধ্যেও শরীর ঠিকমতো ঠান্ডা হতে পারে না। এই জমে থাকা তাপই তৈরি করে কিউমুলেটিভ হিট স্ট্রেস, যার ফলে সকালে বেরোলেও শরীর ক্লান্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে। যাদের আগে থেকে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হার্টের সমস্যা থাকে তারা হাঁটা শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, অস্বাভাবিক ঘামের সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন। এগুলো হিট এগজশনের প্রাথমিক ইঙ্গিত, যা অল্প সময়েই মারাত্মক হিটস্ট্রোকে পরিণত হতে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে
তীব্র গরমে সকালের হাঁটাও সবার জন্য সমান নিরাপদ নয়। বিশেষ করে-
এই অবস্থায় সূর্যের তাপ তেমন প্রখর না হলেও, শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।
পানিতেই সুরক্ষা
গরমে টিকে থাকার সবচেয়ে সহজ কিন্তু কার্যকর উপায় নিয়মিত পানি পান করা। শুধু তৃষ্ণা পেলেই পানি পান করবেন এ অভ্যাস সুস্থ থাকার জন্য যথেষ্ট নয়; তার আগেই শরীরে পানির দরকার হয়। কারণ ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে শুধু পানি নয়, প্রয়োজনীয় লবণও বেরিয়ে যায়। ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা ঘোল শরীরকে দ্রুত চাঙ্গা করে। তবে সফট ড্রিংকস, অতিরিক্ত চিনি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা ভালো। এসব শরীরকে আরও ডিহাইড্রেট করে তোলে, যা অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা বাড়ায়।
শরীরের সংকেত বুঝুন
গরমজনিত অসুস্থতা হঠাৎ করে একদিনে হয় না, শরীর আগে থেকেই সতর্ক করে। সেই সতর্কতা সময়মতো বুঝতে হবে। যেমনÑ
এই লক্ষণগুলো দেখলেই দেরি না করে ঠান্ডা জায়গায় নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি।
অভ্যাসের বদল
আবহাওয়ার পরিবর্তন দ্রুত হচ্ছে। তাই সময় দেখে নয়, পরিস্থিতি বুঝে চলাটাই এখন জরুরি। তীব্র গরমে সূর্য ওঠার পর হাঁটতে না বেরোনোই ভালো। বের হওয়ার আগে পানি পান করে নিন, হালকা পোশাক পরুন, আর শরীরের কথা শুনুন। সম্ভব হলে ঘরের ভেতরেই শরীরচর্চা বা ব্যায়ামের বিকল্প বেছে নিন।
জলবায়ু বদলের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসও বদলাতে হবে। যে সকালের হাঁটা একসময় নিশ্চিন্ত মনে হতো, এখন তা-ই হয়ে উঠতে পারে বিপদের কারণ। নিজের শরীরকে অবহেলা নয়, বোঝার চেষ্টা করুন। কারণ এই গরমে সচেতন থাকাটাই সুস্থভাবে বাঁচার সবচেয়ে বড় উপায়।