ফারুক হাসান
প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬ ১১:৩৭ এএম
বাংলাদেশি দলটি দুর্যোগ মোকাবিলা ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি একটি বহুমুখী রোভার উপস্থাপন করবে
বাংলাদেশের একটি দল ‘আকাশ পাঠাব’ আগামী ১৬-১৭ মে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় Codeavour International 7.0 প্রতিযোগিতায় দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ উদ্ভাবকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক আসরে বাস্তব জীবনের সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান উপস্থাপন করা হয়। সেখানে বাংলাদেশি দলটি দুর্যোগ মোকাবিলা ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি একটি বহুমুখী রোভার উপস্থাপন করবে।
কঠিন ও দুর্গম পরিবেশে চলাচলের উপযোগী করে তৈরি এই রোভারটিতে রয়েছে ট্যাংকভিত্তিক চলাচল ব্যবস্থা এবং প্রতিবন্ধকতা এড়ানোর সক্ষমতা। এতে যুক্ত আছে লাইভ ক্যামেরা স্ট্রিমিং সুবিধা, যার মাধ্যমে দূর থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যায়। পাশাপাশি একটি রোবটিক বাহু রয়েছে, যা ব্যবহার করে দূর থেকে বিভিন্ন বস্তু নিয়ন্ত্রণ বা সরানো সম্ভব। এ ছাড়া গ্যাস, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা সেন্সরের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক পরিবেশগত তথ্য সংগ্রহ করা যায়।
হার্ডওয়্যার সুবিধার পাশাপাশি রোভারটিতে রয়েছে ম্যানুয়াল ও স্বয়ংক্রিয়- দুই ধরনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যা জরুরি পরিস্থিতি ও গবেষণামূলক কাজে সমানভাবে কার্যকর। এই প্রকল্পে সহযোগিতা করছে মার্সিডিজ-বেঞ্জ, র্যানকন মোটরস, প্রাইম ব্যাংক এবং প্রাইম নাউ। তাদের সহায়তায় দলটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাফওয়ান সাদাদ, যিনি মেকানিক্যাল লিড হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। প্রোগ্রামিংয়ের দায়িত্বে আছেন মুহতাসিম রহমান এবং সেফটি অফিসার হিসেবে আছেন আবিদুর রহমান। তারা বাংলাদেশের রোবটিকস ও উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে প্রস্তুত।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই আন্তর্জাতিক আসরে অংশগ্রহণ তাদের জন্য কেবল একটি প্রতিযোগিতামূলক সুযোগ নয়, বরং এটি বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিশ্বদরবারে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তারা আশা করছে, এই অংশগ্রহণ দেশের তরুণ প্রজন্মকে উদ্ভাবনী কাজে আরও উৎসাহিত করবে। প্রতিযোগিতায় ‘Akash Pathabo’ তাদের উদ্ভাবিত একটি মাল্টি-পারপাস রোভার প্রজেক্ট উপস্থাপন করবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি এই রোভারটি ট্যাংক-মুভমেন্টভিত্তিক। ফলে দুর্গম এলাকায় সহজে চলাচল করতে সক্ষম। এতে সংযোজিত রয়েছে অবস্ট্যাকল এভয়ডেন্স প্রযুক্তি, লাইভ ক্যামেরা ফিড এবং একটি রোবটিক আর্ম, যার মাধ্যমে দূর থেকে বিভিন্ন বস্তু নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
এ ছাড়াও রোভারটিতে গ্যাস, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা পরিমাপের জন্য একাধিক সেন্সর ব্যবহৃত হয়েছে, যা পরিবেশগত তথ্য সংগ্রহ করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রদর্শন করতে পারে। ম্যানুয়াল ও স্বয়ংক্রিয়Ñ উভয় মোডে পরিচালনার সুবিধা থাকায় এটি বাস্তব পরিস্থিতিতে কার্যকরভাবে ব্যবহারযোগ্য বলে মনে করছেন দলটির সদস্যরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও প্রস্তুতির মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের সেরাটা তুলে ধরতে প্রস্তুত। দলটির সদস্যরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, তাদের এই অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে দেশের আরও তরুণদের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে আগ্রহী করে তুলবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।