জাহিদ খান
প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬ ১১:১৬ এএম
বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে ইংরেজি ভাষা আর শুধু একটি বিদেশি ভাষা নয়; এটি জ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা ও পেশাগত উন্নয়নের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। উচ্চশিক্ষা, আন্তর্জাতিক চাকরি, এমনকি অনলাইন দুনিয়ায় সক্রিয় থাকতে গেলেও ইংরেজিতে দক্ষতা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো- আমাদের দেশের অনেক শিক্ষার্থী বছরের পর বছর ইংরেজি পড়েও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভাষাটি ব্যবহার করতে পারেন না। এর প্রধান কারণ হচ্ছে সঠিক পদ্ধতিতে চর্চার অভাব এবং ভয় বা সংকোচ। তবে কিছু কার্যকর কৌশল অনুসরণ করলে ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জন কঠিন কিছু নয়। প্রথমত, ভাষা শেখার মূল চাবিকাঠি হলো নিয়মিত চর্চা। অনেকেই মনে করেন, শুধু বই পড়ে বা ক্লাস করলেই ইংরেজি আয়ত্ত করা সম্ভব। বাস্তবে তা নয়। ভাষা একটি দক্ষতা, যা প্রতিনিয়ত ব্যবহার করতে হয়।
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে ইংরেজি পড়া, লেখা, শোনা ও বলার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। এমনকি দৈনন্দিন কাজের মধ্যেও ইংরেজি ব্যবহার করার চেষ্টা করলে শেখা সহজ হয়। যেমনÑ নিজের সঙ্গে ইংরেজিতে ভাবা, ছোট ছোট বাক্যে কথা বলা ইত্যাদি। দ্বিতীয়ত, শব্দভান্ডার বা ভোকাবুলারি সমৃদ্ধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই নতুন শব্দ শেখেন, কিন্তু তা ব্যবহারের অভাবে দ্রুত ভুলে যান। তাই নতুন শব্দ শেখার পাশাপাশি তা দিয়ে বাক্য গঠন করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্রতিদিন অন্তত পাঁচ থেকে দশটি নতুন শব্দ শেখা এবং সেগুলো দিয়ে নিজের মতো করে বাক্য তৈরি করা ভালো অভ্যাস। একটি ব্যক্তিগত খাতা বা নোটবুক রাখতে পারেন, যেখানে নতুন শব্দ, তার অর্থ ও ব্যবহার লিখে রাখবেন। তৃতীয়ত, শোনা ও বলার দক্ষতা উন্নত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
ইংরেজি সংবাদ, সিনেমা, টিভি সিরিজ, পডকাস্ট বা ইউটিউব ভিডিও নিয়মিত শোনা হলে উচ্চারণ, শব্দের ব্যবহার এবং বাক্য গঠনের ধারণা স্পষ্ট হয়। প্রথম দিকে সাবটাইটেল ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে ধীরে ধীরে তা ছাড়ার চেষ্টা করতে হবে। পাশাপাশি নিজের উচ্চারণ ঠিক রাখতে অনুকরণ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। চতুর্থত, লেখার দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত অনুশীলন অপরিহার্য। প্রতিদিন ডায়রি লেখা, ছোট প্রবন্ধ তৈরি করা বা সামাজিক মাধ্যমে ইংরেজিতে পোস্ট দেওয়া এই ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। এতে করে চিন্তাভাবনা ইংরেজিতে প্রকাশ করার দক্ষতা বাড়ে। শুরুতে ভুল হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সেগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে ধীরে ধীরে উন্নতি সম্ভব।
পঞ্চমত, ব্যাকরণের গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে ব্যাকরণ শেখা যেন বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়। বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যাকরণ শেখা সবচেয়ে কার্যকর। উদাহরণভিত্তিক অনুশীলন, অনলাইন কোর্স বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সহজভাবে ব্যাকরণ আয়ত্ত করা যায়।
এ ছাড়া একটি ইংরেজি-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। বন্ধুদের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলা, ইংরেজি বই পড়া বা ইংরেজি কনটেন্টে নিজেকে যুক্ত রাখা শেখার গতি বাড়ায়। প্রয়োজনে স্পিকিং পার্টনার বা ভাষা শেখার গ্রুপে যোগ দেওয়া যেতে পারে।
সবশেষে আত্মবিশ্বাস ও ধৈর্যই সফলতার মূল চাবিকাঠি। অনেকেই ভুল করার ভয়ে ইংরেজিতে কথা বলতে চান না, যা শেখার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মনে রাখতে হবে, ভুল থেকেই শেখা সম্ভব। তাই নির্ভয়ে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জন একটি ধীর ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। একদিনে সাবলীল হওয়া সম্ভব নয়, তবে নিয়মিত চর্চা, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং ইতিবাচক মনোভাব থাকলে যে কেউই ইংরেজিতে পারদর্শী হয়ে উঠতে পারে। এখন সময় নিজেকে প্রস্তুত করার। কারণ এই দক্ষতাই ভবিষ্যতের পথকে আরও প্রশস্ত করে দিতে পারে।