রবিউল কমল
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:২৪ পিএম
আঁকা : মেহেরুন্নিসা, অষ্টম শ্রেণি, রানী নীহার দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মানিকছড়ি, খাগড়াছড়ি
আজ মাশার খুব আনন্দ হচ্ছে। ক্লাসে ও প্রথম হয়েছে। সেই খুশিতে এ ঘর ও ঘর ছোটাছুটি করছে। মাশার বড় আপু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। তারও আজ আসার কথা। আপু বলেছিল, মাশা প্রথম হলে ট্যাব উপহার পাবে।
একটু পর দরজায় ঠকঠক শব্দ হলো। মাশা দৌড়ে যায় দরজার কাছে। তবে ছিটকিনি বেশ ওপরে! মাশার হাত অত দূরে যাচ্ছে না! তাই মাকে ডাকল।
‘মা, মা দরজাটা খুলে দাও।’
মা এসে দরজা খুললেন। ঘরে ঢুকল বড় আপু। পিঠে ঝোলানো ব্যাগ। মাশা আপুর কাছে গেল। আপু বলল, ‘মাশা প্রথম হয়েছে। আমি খুব খুশি।’
হসিমুখে মা বললেন, ‘আমরা সবাই খুশি।’
আপু মাশার হাতে একটি ব্যাগ দিল। রঙিন কাগজ দিয়ে মোড়ানো। ব্যাগ খুলে মাশা খুব খুশি। দৌড়ে যায় নিজের ঘরে। আবার দৌড়ে আসে বসার ঘরে। ওর খুব আনন্দ হচ্ছে।
মা জানতে চান, ‘কী এমন উপহার দিলে যে, মাশা এত খুশি?’
আপু বলল, ‘আমি বলেছিলাম, ও প্রথম হলে ট্যাব উপহার দেব, আসার পথে কিনে আনলাম।’
‘এখন ওকে এসব দেওয়া ঠিক হবে না। লেখাপড়ার ক্ষতি হবে।’
‘ক্ষতি কেন হবে? যখন ছুটি থাকবে তখন ব্যবহার করবে।’
দরজাটা খোলাই ছিল এত সময়। অফিস থেকে ফিরে ঘরে ঢুকলেন বাবা। ব্যাগটা টেবিলে রেখে তিনিও সোফায় বসলেন।
বাবা বললেন, ‘সবাই দেখছি অনেক খুশি। কী নিয়ে কথা হচ্ছে?’
আপু বলল, ‘মাশাকে ট্যাব উপহার দিয়েছি, তাই মা রাগ করছে।’
আপুর কথা শুনে বাবাও একটু রাগ করলেন। বাবা বলেন, ‘মাশা অনেক ছোট। এখন এসব দেওয়া ঠিক হবে না। এগুলো শিশুদের ক্ষতি করে।’
আপু বলল, ‘সবকিছুর ভালো ও খারাপ দিক থাকে। ট্যাব, মোবাইল এগুলোর অনেক ভালো দিকও আছে। ইন্টারনেট থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবে। প্রযুক্তির ভালো দিক শিশুদের শেখাতে হবে। তাহলে প্রযুক্তি মেধা বিকাশে সহায়তা করবে।’
কিন্তু আপুর কথায় কাজ হলো না। বাবা বললেন, ‘এখন মাশার এসব দরকার নেই।’
আপু কিছুক্ষণ ভাবল। তারপর বলল, ‘তোমরা চিন্তা করো না। দুই মাস ব্যবহার করুক। ক্ষতি হলে আর ব্যবহার করবে না।’
তখন সেখানে মাশা হাজির। হাসতে হাসতে বলল, ‘আব্বু আমি এই ট্যাবটা নেব। যখন পড়া থাকবে না তখন ব্যবহার করব।’
মা ও বাবা আর কিছু বললেন না। আপু কয়েক দিন বাড়িতে থাকলেন। তখন মশা অনেক কিছু শিখল।
চার মাস পেরিয়ে গেল...
মাশাদের ঘরের পেছনে একটু ফাঁকা জায়গা আছে। ওদিকটাতে এ বাড়ির কেউ তেমন যায় না। বাবা আজ সেখানে গেলেন। তিনি তো অবাক! তারপর ডাকলেন মাকে।
বাবা বললেন, ‘দেখে যাও, মাশা কী করেছে!’
মা ছুটতে ছুটতে সেখানে এলেন। মা-ও অবাক!
মা বলেন, ‘কীভাবে সম্ভব! এসব কীভাবে করেছে?’
সেই ছোট ফাঁকা জায়গাতে অনেকগুলো ফুল গাছ। কিছু গাছে রঙিন ফুল ফুটেছে। একটি লতা গাছ বেড়া বেয়ে উঠেছে। বেড়া সবুজ সবুজ পাতায় ভরে গেছে। বাতাসে সবুজ পাতা দুলছে।
মা-বাবা বসার ঘরে বসে আছেন। তারা ভাবছেন, কীভাবে ফুল বাগান করল মাশা?
কলিংবেলটা বেজে ওঠে। বাবা দরজা খুললেন। বাইরে মাশার সাথে বড় আপু দাঁড়িয়ে আছে।
আপু সোফায় বসল। মাশা আপুর পাশে বসল।
মা বললেন, ‘মাশা, তুমি এত ফুলগাছ কোথায় পেয়েছ?’
বাবা প্রশ্ন করলেন, ‘হ্যাঁ, তোমাকে এসব কে এনে দিয়েছে?’
আপু বলল, ‘সবকিছু মাশা নিজে করেছে। ওকে কেউ এনে দেয়নি।’
বাবা বললেন, ‘তোমার কথা বুঝলাম না!’
আপু হাসতে হাসতে বললেন, ‘এটাই তো প্রযুক্তির ভালো দিক। ট্যাবের জাদু।’
মাশা বলল, ‘আব্বু আমি বীজ থেকে গাছ বানিয়েছি।’
মাশার বলেন, ‘সে তো কঠিন কাজ। তুমি শিখলে কীভাবে?’
মাশা বলল, ‘স্কুল থেকে সবাইকে বীজ দিয়েছিন। স্যার বলেছিলেন, এগুলো থেকে বাগান বানাতে হবেÑ যার বাগান সুন্দর হবে, সে পুরস্কার পাবে।’
‘আমি বীজগুলো বাড়িতে আনি। এরপর এই ট্যাবে টিউটোরিয়াল দেখি। রহিমা ফুপু মাটি কুপিয়ে দিয়েছিল। আমি সেখানে বীজ বুনি। তারপর প্রতিদিন নিয়ম করে পানি দিতাম। একসময় বীজ ফুটে চারা হলো।’
মা বললেন, ‘বাহ! তোমার তো দারুণ বুদ্ধি।’ আর বাবা বললেন, ‘আমি তো ভাবতেই পারছি না! প্রযুক্তি দিয়ে এত কিছু করা যায়?’
আপুর চোখেমুখে বিজয়ের হাসি। আপু বলল, ‘আমি তো আগেই বলেছি, প্রযুক্তির ভালো দিক শিশুদের শেখাতে হবে। তাহলে ওদের মেধার বিকাশ ভালো হবে। ওরা অনেক কিছু শিখতে পারবে।’
মাশা উঠে দাঁড়াল। তারপর বাবার কাছে গিয়ে বলল, ‘জানো আব্বু, আমি এখন অনেক ইংরেজি শব্দ জানি। যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগের অঙ্ক শিখেছি। নামতা পারি। অনেকগুলো কবিতা আবৃত্তি করতে পারি। এই ট্যাবে আরও অনেক কিছু শেখা যায়।’
মা মাশাকে ডাকলেন। তারপর মাশাকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। আর মাশা আপুর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে।
মাশা বলল, ‘ধন্যবাদ আপু।’