হাবিব ওসমান, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:১৬ পিএম
মুরগির বাচ্চা উৎপাদনে খুশি খাতুনের মাসে আয় লাখ টাকা
দৃঢ় মনোবল, অদম্য সাহস আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বেসরকারি চাকরি ছেড়ে নিজ গ্রামেই খামার গড়ে সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের শিক্ষিত নারী উদ্যোক্তা খুশি খাতুন। ছোট পরিসরে মাত্র ১২টি মুরগি দিয়ে যাত্রা শুরু করা তার উদ্যোগ আজ একটি সফল ও সম্ভাবনাময় খামারে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে তার খামারে বিভিন্ন জাতের কয়েক হাজার মুরগির বাচ্চা উৎপাদন হচ্ছে এবং সেখান থেকে প্রতি মাসে তিনি আয় করছেন লাখ লাখ টাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবনের একটি পর্যায়ে স্থায়ী চাকরি থাকা সত্ত্বেও নিজের কিছু করার স্বপ্ন থেকেই খামার করার সিদ্ধান্ত নেন খুশি খাতুন। শুরুতে পরিবার ও সমাজের অনেকের কাছ থেকেই নানা প্রশ্ন ও সংশয়ের মুখে পড়তে হলেও নিজের আত্মবিশ্বাস ও পরিশ্রমের ওপর ভর করেই তিনি এগিয়ে যেতে থাকেন। ধীরে ধীরে খামারের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও পদ্ধতি ব্যবহার করে মুরগির বাচ্চা উৎপাদনের উদ্যোগ নেন তিনি।
প্রথমদিকে মাত্র ১২টি ব্রয়লার মুরগি দিয়ে শুরু করা এই উদ্যোগ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিস্তৃত হতে থাকে। বর্তমানে তিনি গ্রামাঞ্চল থেকে ডিম সংগ্রহ করে আধুনিক ইনকিউবেটর মেশিনের মাধ্যমে বিভিন্ন জাতের মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করছেন। তার খামার থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার মুরগির বাচ্চা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি কিছু বাচ্চা বড় করে সেখান থেকেও নিয়মিত মাংস বাজারজাত করা হচ্ছে। মাসে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কেজি মুরগির মাংস স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন তিনি।
খামারে বর্তমানে টাইগার, দেশি, ব্রাহমা, ফাহমি, তিতির, সোনালি, কালার বার্ড, টার্কিসহ প্রায় ১২ জাতের মুরগির বাচ্চা উৎপাদন ও পালন করা হচ্ছে। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত পরিচর্যা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার তার খামারকে একটি লাভজনক উদ্যোগে পরিণত করেছে।
শুধু নিজের সাফল্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি খুশি খাতুন। তার খামারে স্থানীয় কয়েকজন নারী ও যুবক নিয়মিত কাজ করছেন। এর ফলে এলাকায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তার এই সফলতা দেখে অনেক তরুণ-তরুণী এখন খামারভিত্তিক উদ্যোক্তা হওয়ার বিষয়ে আগ্রহী হচ্ছেন।
উদ্যোক্তা খুশি খাতুন বলেন, শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। নানা বাধা ও সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েই আমাকে এগিয়ে যেতে হয়েছে। তবে নিজের স্বপ্ন ও আত্মনির্ভরশীল হওয়ার ইচ্ছাই আমাকে সব সময় অনুপ্রাণিত করেছে। পরিশ্রম ও ধৈর্য থাকলে যে কেউ সফল হতে পারে। ভবিষ্যতে আমি আরও বড় পরিসরে খামার গড়ে তুলতে চাই এবং এই খাতে আরও মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করতে চাই।
শৈলকুপা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাসেল আহমেদ বলেন, খুশি খাতুন একজন পরিশ্রমী ও উদ্যমী উদ্যোক্তা। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, খুশি খাতুনের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, বরং এটি গ্রামাঞ্চলের তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি অনুপ্রেরণার গল্প। তার অদম্য চেষ্টা ও পরিশ্রম প্রমাণ করেছে, সাহস আর পরিকল্পনা থাকলে গ্রামেও গড়ে তোলা যায় সফলতার নতুন দৃষ্টান্ত।