প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৫২ পিএম
বিছানার চাদর কখন পাল্টাবেন
সুস্থ থাকার জন্য ঘরে-বাইরে স্বাস্থ্যকর খাবার খাচ্ছেন, মেনে চলছেন নানা নিয়মও। এরপরও দেখলেন শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, শরীরে অ্যালার্জি বা চুলকানির সমস্যা দেখা দিচ্ছে। খেয়াল করেছেন এই সমস্যাগুলো বিছানার চাদর নিয়মিত না বদলানোর কারণে হচ্ছে কি না? সারা দিনের ক্লান্তির পর বিছানায় এসে শুয়ে পড়ার পর ধীরে ধীরে এতে ঘাম ও ধুলোর আস্তরণ জমতে থাকে। নিয়মিত চাদর ও বালিশের কভার না বদলালে এগুলো জমতে থাকে চাদরে। এ থেকে আক্রান্ত হয় ত্বক, শরীরের নানা অঙ্গ পরিবর্তন বুঝতে থাকে ধীরে ধীরে। শরীর খারাপ হয় বলে মনও ভালো থাকে না।
২০০৬ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, পুরনো বালিশে বাসা বাঁধে কোটি কোটি ফাঙ্গাস, যার মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ হলো Aspergillus fumigatus। ঘুমের সময় ঘাম ও ধূলিকণার উপস্থিতি ফাঙ্গাস বৃদ্ধিতে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে। যদিও সুস্থ শরীর অনেক সময় এই জীবাণুগুলো সামলে নিতে পারে। কিন্তু হাঁপানি, সাইনোসাইটিস বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য এটি ভয়াবহ হতে পারে। এমনকি ফুসফুস পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
চাদর বদলানো জরুরি কেন
১) যে চাদরের ওপর আমরা শুই সেখানে শরীর থেকে ধুলা-গায়ের ঘাম জমে যায়। ধীরে ধীরে এ থেকে ব্যাকটেরিয়া ও পোকামাকড় হতে থাকে। এতে অ্যালার্জি বা চুলকানি বেড়ে যায়। যারা এসব সমস্যায় ভুগছেন তারা যদি বেশিদিন একই চাদর ব্যবহার করেন, তবে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়বেন।
২) শরীরে জমে থাকা ঘাম ও নিঃসৃত তেল, মৃত কোষ চাদরে জমে থাকে, যা বাজে গন্ধও সৃষ্টি করে। বিশেষ করে বালিশের কভার এভাবে ব্যবহার করতে থাকলে চুল পড়া, চুলের আগায় ফাটা সৃষ্টি হওয়া ও ত্বকে ব্রণ হওয়ার সমস্যা বেড়ে যায়।
৩) অনেকের চুলে খুশকির সমস্যা হয়।
৪) নিয়মিত না বদলানোর কারণে ফলিকুলাইটিস নামক চর্মরোগ হতে পারে। এর প্রভাবে শরীরের বিভিন্ন জায়গা লাল হয়ে ফুলে যায়। লাল গোল চাকতির মতো দাদও হতে পারে।
৫) স্ট্রেপটোকক্কাস-জাতীয় ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে ইম্পেটিগো নামক রোগ হতে পারে। এই ব্যাকটেরিয়া শরীরের যেকোনো ক্ষতস্থান দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে ভেতরে বাসা বিস্তার করে। একসময় এটি বাড়তে থাকে, যা ভীষণ অস্বস্তির কারণ হয়। এ ধরনের রোগে শরীরে হলুদ দাগ দেখা যায়। শিশুরা এতে বেশি আক্রান্ত হয়।

কতদিন পরপর বদলানো উচিত
স্বাভাবিক নিয়মে দুই সপ্তাহ পরপর চাদর বদলানো উচিত। তবে এটা মূলত নির্ভর করে আবহাওয়ার ওপর। এক সপ্তাহ পরপরও ধোয়া প্রয়োজন হয় অনেক সময়। শীতকালে তাপমাত্রা কম থাকায় ঘাম কম হয়, যার দরুন চাদর একটু বেশি সময় ব্যবহার করা যায়। তবে গরমকালে প্রতি সপ্তাহেই ধুতে হবে। যারা অ্যালার্জিতে ভুগছেন বা চর্মরোগের সমস্যা আছে, সাথে পোষ্য নিয়ে ঘুমান তাদের এক সপ্তাহে দুইবার ধুলে বেশি ভালো। ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর সুযোগ একদমই কমে যাবে এতে।
কী করা উচিত
১) অনেকেই বাইরে থেকে ফিরে বিছানায় শুয়ে পড়েন। এই কাজটি ভুলেও করবেন না। দিনভর বাইরে থেকে শরীরে নানা ময়লা লেগে থাকে। শুয়ে পড়লে ময়লা চাদরে লেগে যাবে, যা পরবর্তীতে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাইরে থেকে এসে ভালোভাবে গোসল করে, বাইরের কাপড় বদলে তবেই বিছানায় যান। যে কাপড় পরে বাইরে গিয়েছিলেন সেটাও ধুয়ে ফেলুন।
২) ঘুমাতে যাওয়ার মুহূর্তেই শরীরে ক্রিম বা লোশন মাখবেন না। এতে চাদর ও বালিশের কভারে সব লেগে যায়। চেষ্টা করুন অন্তত ১৫ মিনিট বা আধা ঘণ্টা আগে লাগাতে।
৩) বিছানায় যাওয়ার আগে মেকআপ ভালোভাবে উঠিয়ে নিন।
৪) বিছানায় বসে খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকলে বদলে ফেলুন।
৫) চাদর ও বালিশের কভার গরম পানিতে ধুয়ে ইস্ত্রি করলে জীবাণু আরও ভালোভাবে ধ্বংস হয়।
৬) বালিশ ধোয়া সব সময় কার্যকর নাও হতে পারে। হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট আছে এমন ব্যক্তিদের প্রতি ৩–৬ মাস অন্তর বালিশ বদলানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্যদের ক্ষেত্রে প্রতি দুই বছর পর নতুন বালিশ ব্যবহার করা উচিত।
৭) শিশু প্রস্রাব করলে চাদর সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেলতে হবে।
স্বাস্থ্যকর ঘুমের জন্য শুধু বিছানার আরামদায়ক হওয়াই যথেষ্ট নয়, পরিচ্ছন্নতাও ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।