আফসানা মিমি
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:১৭ পিএম
গরমে ত্বকের ধরন অনুযায়ী প্রসাধনীর বদল করতে হবে
দেশে গরমের তীব্রতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই অতিরিক্ত তাপমাত্রা শুধু আমাদের স্বস্তি কমায় না, ত্বকের ওপরও ফেলে সরাসরি প্রভাব। শীতকালের তুলনায় গরমে ত্বক বেশি তেলতেলে হয়, ঘাম বেশি হয়, পোরস বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্রণ, র্যাশ বা ট্যানের সমস্যা বেড়ে যায়। তাই ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে স্কিনকেয়ার ও প্রসাধনী ব্যবহারে কিছু প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা জরুরি। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে গরমেও ত্বক সতেজ ও উজ্জ্বল রাখা সম্ভব।
ফেসওয়াশ বা ক্লিনজার
গরমকালে স্কিনকেয়ারের প্রথম ধাপই হওয়া উচিত সঠিক ক্লিনজিং। অতিরিক্ত ঘাম, ধুলাবালি ও ত্বকের তেল জমে পোরস বন্ধ হয়ে গেলে ব্রণ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই ভারী বা ক্রিম-বেসড ফেসওয়াশ বাদ দিয়ে জেল বা ফোম-বেসড ক্লেনজার ব্যবহার করা ভালো। এগুলো ত্বককে গভীরভাবে পরিষ্কার করে, কিন্তু অতিরিক্ত শুষ্ক করে না। দিনে অন্তত দুইবার মুখ পরিষ্কার করা জরুরি, আর যারা বাইরে বেশি সময় থাকেন তারা প্রয়োজনে তিনবারও মাইল্ড ক্লেনজার ব্যবহার করতে পারেন।
টোনার
টোনার ব্যবহারে অনেকেই গুরুত্ব দেন না। গরমে একটি অ্যালকোহল-ফ্রি, হালকা টোনার ত্বকের জন্য বেশ কার্যকর। এটি ত্বকের পিএইচ ব্যালান্স ঠিক রাখে, পোরসকে টাইট করতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে রাখে। বিশেষ করে তেলতেলে বা মিশ্র ত্বকের জন্য টোনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসাধনী।
ময়েশ্চারাইজার
ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারে গরমে সবচেয়ে বেশি ভুল হয়ে থাকে। অনেকেই মনে করেন, গরমে ত্বক এমনিতেই তেলতেলে থাকে, তাই ময়েশ্চারাইজার দরকার নেই। কিন্তু বাস্তবে ত্বকের হাইড্রেশন সব ঋতুতেই গুরুত্বপূর্ণ। গরমে শুধু ময়েশ্চারাইজারের ধরন বদলাতে হবে। ভারী, অয়েল-বেসড ক্রিমের বদলে লাইটওয়েট, ওয়াটার বা জেল-বেসড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক আর্দ্র থাকবে, কিন্তু ভারী লাগবে না।
সানস্ক্রিন
সানস্ক্রিন গরমের স্কিনকেয়ারের অপরিহার্য অংশ। সূর্যের ক্ষতিকর ইউভি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করতে হলে এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহার করতেই হবে। শুধু বাইরে যাওয়ার আগে একবার লাগালেই হবে না, প্রতি ২-৩ ঘণ্টা পর পর পুনরায় ব্যবহার করতে হবে। এতে ট্যান, পিগমেন্টেশন এবং আগাম বলিরেখার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
সিরাম
গরমে সিরাম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সচেতন হওয়া জরুরি। ভারী ও তেলযুক্ত সিরামের পরিবর্তে হালকা, দ্রুত শোষিত হয় এমন সিরাম ব্যবহার করা ভালো। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সিরাম ত্বককে উজ্জ্বল করে এবং সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ত্বককে গভীরভাবে হাইড্রেট রাখে। তবে একসঙ্গে অনেক ধরনের সিরাম ব্যবহার না করে প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত রাখা ভালো।
মৃত কোষ তুলে ফেলার জন্য প্রসাধনী
এক্সফোলিয়েশন বা ডেড স্কিন পরিষ্কার করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য এমন প্রসাধনী বেছে নিতে হবে যেগুলো ত্বককে শুষ্ক করে না। গরমে ঘাম ও তেল জমে ত্বকের উপরিভাগে ডেড সেল জমতে পারে, যা ত্বককে নিস্তেজ দেখায়। তাই সপ্তাহে ১ থেকে ২ বার হালকা এক্সফোলিয়েশন করা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত স্ক্রাবিং ত্বককে সংবেদনশীল করে তুলতে পারে, তাই এ ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।
সাজসজ্জার প্রসাধনী
মেকআপের ক্ষেত্রেও গরমে কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। ভারী ফাউন্ডেশন বা ক্রিমি মেকআপ প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে তা সহজেই গলে যেতে পারে এবং ত্বককে অস্বস্তিকর করে তোলে। তাই হালকা, ম্যাট ফিনিশ প্রোডাক্ট ব্যবহার করা ভালো। টিন্টেড ময়েশ্চারাইজার বা বিবি ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বক স্বাভাবিক ও ফ্রেশ দেখায়, আবার অতিরিক্ত ভারীও লাগে না।
কিছু পরামর্শ
গরমে ত্বকের যত্ন শুধু বাহ্যিক প্রোডাক্টেই সীমাবদ্ধ নয়। কিছু নিয়ম এক্ষেত্রে অবশ্যই মেনে চলতে হবে-
অপ্রয়োজনীয় বেশি প্রোডাক্ট ব্যবহার না করে নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যত্ন নিলে ত্বক থাকবে সুস্থ, পরিষ্কার ও প্রাণবন্ত। ঋতুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই ছোট ছোট পরিবর্তনই এনে দিতে পারে বড় ধরনের ইতিবাচক ফলাফল।