× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চার গণিতকন্যার ইউরোপ জয়

ফারহাত মাইশা

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:২৭ পিএম

প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের মেয়েরা অর্জন করেছে দুটি পদক- একটি রৌপ্য ও একটি ব্রোঞ্জ।

প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের মেয়েরা অর্জন করেছে দুটি পদক- একটি রৌপ্য ও একটি ব্রোঞ্জ।

ফ্রান্সের বোর্দো শহরে অনুষ্ঠিত ইউরোপিয়ান গার্লস ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াডের (ইজিএমও) ১৫তম আসরে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে বাংলাদেশ দল। এবারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের মেয়েরা অর্জন করেছে দুটি পদক- একটি রৌপ্য ও একটি ব্রোঞ্জ।

রৌপ্যপদক জিতেছেন মনামী জামান এবং ব্রোঞ্জপদক পেয়েছেন সাজি সেহনাই। আন্তর্জাতিক এই আসরে বাংলাদেশের মোট স্কোর ছিল ৪৫, যার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ৩৪তম।

পদকজয়ীদের পাশাপাশি বাংলাদেশ দলের অন্য সদস্য ছিলেন- কৃতিকা চক্রবর্তী ও নাহিয়ান পারিন। দলটির নেতৃত্ব দেন অতনু রায় চৌধুরী এবং উপদলনেতা হিসেবে ছিলেন সাদিয়া হামিদ কাজী। বাংলাদেশের এই অর্জন আন্তর্জাতিক গণিত অঙ্গনে দেশের মেয়েদের সক্ষমতার আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকল। দলের মধ্যে সবচেয়ে ভালো করেছেন রৌপ্যপদকজয়ী মনামী জামান। প্রত্যেককে মোট ৬টি সমস্যার সমাধান করতে হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ও চতুর্থ সমস্যার সমাধানে সর্বোচ্চ ৭ নম্বর করে মোট ১৪ পেয়েছেন মনামী। পাশাপাশি দ্বিতীয় ও পঞ্চম প্রশ্নে পেয়েছেন ২ করে মোট ৪ নম্বর। তার মোট নম্বর ১৮। এই আসরে তার অবস্থান ৫৮তম। এর আগে ২০২৪ সালের আসরে অনারেবল মেনশন পেয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে সাজি সেহনাই পেয়েছেন মোট ১৬ নম্বর। ২০২৫ সালের আসরে পদকহীন থাকলেও থেমে যাননি তিনি। প্রথম সমস্যায় সর্বোচ্চ ৭ নম্বর, তৃতীয় সমস্যায় ১ এবং চতুর্থ ও পঞ্চম সমস্যায় ৪ নম্বর করে মোট ৮ নম্বর পেয়েছেন। এই আসরে তার অবস্থান ৭৭তম। মনামী জামানের থেকে ২ নম্বর কম পেয়ে তিনি অর্জন করেছেন ব্রোঞ্জপদক।

দলের বাকি দুই সদস্যের মধ্যে কৃতিকা চক্রবর্তী দ্বিতীয় ও তৃতীয় সমস্যার প্রত্যেকটিতে ১, চতুর্থ সমস্যায় ৩ এবং পঞ্চম সমস্যায় ২ নম্বর পেয়েছেন। তার মোট নম্বর ৭ এবং এই আসরে অবস্থান ১৭৩তম। আর নাহিয়ান পারিন শুধু তৃতীয় সমস্যায় ৪ নম্বর পেয়েছেন। আসরে তাঁর অবস্থান ২০২তম।

ইউরোপিয়ান গার্লস ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াড (ইজিএমও) হলো ইউরোপের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ গণিত প্রতিযোগিতা, যা বিশেষভাবে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সেই ছাত্রীদের জন্য আয়োজন করা হয়, যারা পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে গণিতচর্চায় আগ্রহী। যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে এ প্রতিযোগিতার সূচনা হয়। এরপর থেকে এটি ধারাবাহিকভাবে বিস্তৃত হয়েছে এবং বর্তমানে ইউরোপের বাইরের ৬০টিরও বেশি দেশের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক আসরে পরিণত হয়েছে।

অলিম্পিয়াডে প্রতিটি দেশ সর্বোচ্চ চারজন প্রতিযোগী মনোনীত করতে পারে। মোট ছয়টি কঠিন সমস্যা সমাধান করতে হয়। প্রতিটি সমস্যার পূর্ণমান ৭। সেখান থেকেই নির্ধারিত হয় স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জপদক। এ ছাড়া অসাধারণ সমাধানের জন্য দেওয়া হয় বিশেষ সম্মাননাও।

ইজিএমওর মূল লক্ষ্য হলো মেয়েদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা এবং তাদের গণিতচর্চার আরও বিস্তৃত সুযোগ তৈরি করা। এটি তরুণী গণিতবিদদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের মেধা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতাটি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা এবং বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগ তৈরি করে।

এ আয়োজন মেয়েদের বিজ্ঞানচর্চায় আগ্রহী করে তোলে এবং আন্তর্জাতিক ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াডের (আইএমও) মতো বড় আসরে মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রথাগত পাঠ্যসূচির সীমা পেরিয়ে যারা কঠিন গাণিতিক সমস্যার সমাধানে আনন্দ খুঁজে নেয়, তাদের জন্যই ইজিএমও এক অনন্য মঞ্চ। এটি শুধু পদক জয়ের প্রতিযোগিতা নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মেধাবী তরুণী গণিতপ্রেমীদের মিলনক্ষেত্র। এখানে তারা একে অন্যের সঙ্গে পরিচিত হয়, অভিজ্ঞতা বিনিময় করে, নতুন ধারণা শেখে এবং ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণা সঞ্চয় করে।

প্রতিযোগিতার কাঠামোও অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ ও চ্যালেঞ্জিং। প্রতিটি দেশ সর্বোচ্চ চারজন প্রতিযোগী পাঠাতে পারে। দুই দিনে মোট ছয়টি কঠিন সমস্যা সমাধান করতে হয়, যেখানে প্রতিটি প্রশ্নের পূর্ণমান ৭। অর্জিত নম্বরের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয় স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জপদকজয়ীরা। পাশাপাশি অসাধারণ ও সৃজনশীল সমাধানের জন্য দেওয়া হয় বিশেষ সম্মাননা।

সবদিক বিবেচনায় ইজিএমও কেবল একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা নয়, এটি আগামী দিনের নারী বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্ভাবকদের পথচলার আলোকবর্তিকা। আর সেই আলোর পথ ধরে এবার বাংলাদেশের চার কন্যাও উজ্জ্বলভাবে নিজেদের নাম লিখিয়েছে বিশ্বমঞ্চে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা