এআই নেবে পরীক্ষা
ফারুক হাসান
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৫৯ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী তৈরি করেছেন একটি উদ্ভাবনী অ্যাপ- ‘টেস্টমিত্র এআই’
যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি হলো নিজের দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করা। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা পরিশ্রম করলেও বুঝতে পারেন না- ঠিক কোথায় তারা পিছিয়ে আছেন। এই সমস্যার সমাধান দিতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী তৈরি করেছেন একটি উদ্ভাবনী অ্যাপ- ‘টেস্টমিত্র এআই’।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের হাসিবুল আসিফ, মার্কেটিং বিভাগের নয়ন পাল এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সারাফ লামইয়া- এই তিনজনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছে প্লাটফর্মটি। তাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি স্মার্ট সমাধান তৈরি করা, যা শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিকে করবে আরও সংগঠিত, বিশ্লেষণভিত্তিক এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক।
‘টেস্টমিত্র এআই’ মূলত ‘কারেক্ট ইঙ্ক’ নামের একটি উদ্যোগের অংশ। শুরুতে হাসিবুল আসিফ ও সারাফ লামইয়া মিলে এই উদ্যোগ গড়ে তোলেন। আসিফ দেখতেন অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট এবং সার্বিক পরিচালনা, আর সারাফ দায়িত্বে ছিলেন কনটেন্ট অর্থায়ন ও মার্কেটিংয়ের। পরে এই দলে মার্কেটিং লিড হিসেবে যোগ দেন নয়ন পাল। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ক্লাবে কাজ করতে গিয়েই তাদের পরিচয় ও পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে এই উদ্যোগের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তিনজনই কোচিং ও টিউশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেখান থেকেই তারা একটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা লক্ষ্য করেন- অনেক শিক্ষার্থী কঠোর পরিশ্রম করলেও নিজেদের দুর্বলতা বুঝতে পারেন না। এই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই জন্ম নেয় ‘টেস্টমিত্র এআই’-এর ধারণা।
এই প্লাটফর্মে শিক্ষার্থীরা আগের বছরের প্রশ্ন অনুশীলন করতে পারে, নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন প্রশ্নপত্র তৈরি করতে পারে এবং এআইয়ের সহায়তায় সমস্যার সমাধানও পেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিটি পরীক্ষার পর ব্যবহারকারী বিস্তারিত বিশ্লেষণ দেখতে পারে- কোন বিষয়ে বেশি ভুল হচ্ছে, কোথায় আরও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এর ভিত্তিতে অ্যাপটি একটি পারফরম্যান্স-ভিত্তিক স্টাডি প্ল্যানও তৈরি করে দেয়। বর্তমানে ‘টেস্টমিত্র এআই’-এর ব্যবহারকারী সংখ্যা দুই হাজারের বেশি। উদ্যোক্তারা যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তাই শুরুতে নিজ ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের জন্য তিন মাস বিনামূল্যে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
তবে শুরুটা সহজ ছিল না। একটি ছোট দল হিসেবে অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট, গবেষণা, বিপণন, এমনকি ব্যবহারকারীদের ফিডব্যাক সংগ্রহ- সবকিছুই তাদের নিজেদের সামলাতে হয়েছে। ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে বারবার ফিডব্যাক নিয়ে পরিবর্তন আনতে হয়েছে। সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই আজ প্লাটফর্মটি আরও পরিণত।
বর্তমানে দল বড় হওয়ায় কাজগুলো ভাগ করে করা সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যতে ‘টেস্টমিত্র এআই’-এ গেমিফিকেশন, এক্সাম ক্যালেন্ডার এবং আরও ইন্টারেক্টিভ ফিচার যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কার্যকর ও আকর্ষণীয় একটি প্রস্তুতি প্লাটফর্ম তৈরি করাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য। উদ্যোক্তারা চান বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও উন্নত ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলা। কারেক্ট ইঙ্কও একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে শেখা ও শেখানোর পদ্ধতিটা তারা আরও সহজ করতে চান।