× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

টিয়া ও টুইয়ের গুপ্তধন উদ্ধার

লেখা ও আঁকা : সিম্মল ধূলি

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৫৩ পিএম

টিয়া ও টুইয়ের গুপ্তধন উদ্ধার

টিয়া ও টুইয়ের বন্ধুত্ব

রক্তি নদীর পাশে ছবির মতো এক সুন্দর গ্রাম বৌলাশির। এই নদীর পানির রঙ নীল। পেছনে সবুজ পাহাড়। এই গ্রামে বাস করত এক জেলে পরিবার। তারা মাছ ধরত। সেই পরিবারের ছোট মেয়ের নাম টিয়া। তার বই পড়ার অনেক শখ। কিন্তু তারা গরিব হওয়ার কারণে বই কিনতে পারে না। একদিন সে তাদের বাড়ির পাশের নদীর ধারে গেল। সে দেখল তার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে এক ডলফিন। সে প্রথমে চমকে উঠল। কিন্তু পরে তাকে জিজ্ঞেস করে তোমার নাম কী? ‘সে বলল, আমার নাম টুই।’ টিয়া বলল, ‘আমার নাম টিয়া। তুমি কি আমার বন্ধু হবে?’ টুই বলল, ‘আচ্ছা হব।’

ব্রিটিংগোর সাথে দেখা

তারপর তারা নদীর দিকে অনেক সময় তাকিয়ে থাকল। হঠাৎ নদী থেকে এক অদ্ভুত প্রাণী উঠে এলো। প্রাণীটির মাথা ব্যাঙের ছাতার মতো আর শরীর টকটকে লাল ও চিকন। একদম কঙ্কালের মতো। টিয়া ভয় পেয়ে দৌড় দিল। টুই বলল, ‘ভয় পেয়ো না। এদের নাম ব্রিটিংগো, এরা গভীর পানিতে থাকে।’ টিয়া বলল, ‘ওরা কেন মাটিতে এসেছে?’

‘নদীর পানি দূষিত বলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তাই আমরা মাঝে মাঝে মাটিতে আসি। বলল টুই। টিয়া টুইকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘মানুষ নদীতে প্লাস্টিক ফেলে। পানিতে কত প্রাণী থাকে তাদের কথা ভাবে না।’ ডলফিন টুইকে বিদায় দিল। টিয়া বাড়ি ফিরে এলো।

গুপ্তধনের খোঁজে

টিয়ার খুব শখ একদিন গুপ্তধন খুঁজে বের করবে। সে পরের দিন আবার ওখানে গেল। টুই উঠে এলো। টিয়া টুইকে বলল, ‘জানো টুই, আমার না গুপ্তধন খোঁজার অনেক দিনের ইচ্ছা।’ টুই বলল, ‘তা তো আমারও ইচ্ছা। চলো আমরা একসাথে গুপ্তধন খুঁজি।’ টিয়া বলল, ‘কিন্তু আমরা খুঁজব কোথায়?’ টুই বলল, ‘রক্তি নদীর নিচে। পানির তলায়। আমি অনেক আগে শুনেছিলাম পানির নিচে যেখানে অনেক আগে নৌকা-জাহাজ ডুবে যায় সেখানে গুপ্তধন থাকে। টিয়া বলল, ‘অক্সিজেন ছাড়া আমি কীভাবে এত সময় পানির নিচে থাকব। তখন টুই বলল, ‘পানির নিচে শ্বাস নেওয়ার জন্য তোমাকে একটা জিনিস দেব।’

টুই তখন পানির নিচে ডুব দিল। তারপর একটি বাতাসভর্তি ফুলকা নিল আর ওপরে উঠে এলো। টিয়ার মুখে ফুলকাটি দিল। তার পর একসাথে পানির নিচে ডুব দিল। 

পানির তলায় নোরাহা রাজ্য

টিয়া ও টুই পানির তলায় ব্রিটিংগোদের নোরাহা রাজ্যে গেল। ব্রিটিংগোদের রানীর নাম ঝিমসা। টিয়া প্রথম রানী ঝিমসাকে দেখে ভয় পেল। টুই বলল, ‘ভয় পেয়ো না সে খুব ভালো।’ 

নোরাহা রাজ্যে যেখানে পুরনো জাহাজ ও নৌকা আছে তাকে ব্রিটিংগোরা নোকারি নামে ডাকে। নোকারিতে কমলা রঙের জলবিড়ালরা থাকে। রানী ঝিমসা জলবিড়ালদের বলল, টুই ও টিয়াকে নোকারিতে নিয়ে যেতে। জলবিড়ালদের বলল, ওদেরকে শেওলা দিয়ে বানানো খাবার খাওয়াতে।’ টুই ও টুনি শেওলা দিয়ে তৈরি খাবারটি খেয়ে রওনা দিল। 

জলবিড়ালের সাথে গুপ্তধন আবিষ্কার

জলবিড়াল পানিতে থাকে। কান দিয়ে তারা সাঁতার কাটে। তারা ইশারা ভাষায় কথা বলে। জলবিড়ালের সাথে টুই ও টিয়া ভাঙা জাহাজ দেখতে পেল। মানুষের কঙ্কাল দেখতে পেল। তারা চাবি খুঁজে পেল না। জলবিড়ালরা বলল, ‘এটি খুলতে একটি কোড লাগে। তারা অনেক বুদ্ধি খাটিয়ে কোড বের করে সিন্দুক খুলল। সিন্দুকের ভেতর অনেক আগের দিনের পয়সা ও নষ্ট টাকা ছিল। সিন্দুকের ভেতর একটা লোকের ছবি ছিল। ছবির লোকটি হঠাৎ কথা বলা শুরু করল। বলো, ‘তোমরা এখানে কী খুঁজতে এসেছ?’ এই কথা শুনে তারা ভয়ে ফিরে গেল।

পলিথিন দানবের কবলে

কিছুদূর আসার পথে তারা আর সামনে যেতে পারল না। সামনে বিরাট এক পলিথিনের দানব। প্লাস্টিকের অনেক পলিথিন জমে একটা দানব হয়েছে। দানবের গা থেকে পচা গন্ধ বের হচ্ছে। টিয়ার ফুলকার অক্সিজেন শেষ হয়ে গেল। সে শ্বাস নিতে পারল না। টুই তাকে পিঠে করে নোরাহা রাজ্যে এলো। পরের দিন টুই টিয়াকে পিঠে করে নদীর ধারে দিয়ে এলো। রানী ঝিমসা টিয়াকে কতগুলো বীজ দিয়ে দিল।

বীজ বুনল সবাই মিলে

গ্রামে ফিরে টিয়া সবাইকে নিয়ে নদীর তীরে গেল। বলল, ‘এখন থেকে আমরা নদীতে পলিথিন ফেলব না। এতে নদীর তলার অনেক প্রাণী মারা যায়। তাদের কষ্ট হয়।’ তারপর গ্রামবাসীকে নিয়ে রানী ঝিমসার দেওয়া বীজগুলো বুনল। নদীর ডলফিন টুই এসে বীজের ওপর পানি ছিটিয়ে দিল। এভাবে রক্তি নদীর তীরে একটা বন গড়ে উঠল।



শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা