দিলরুবা নীলা
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৪৪ পিএম
আঁকা : মেহেরুন্নিসা, অষ্টম শ্রেণি, রানী নীহার দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মানিকছড়ি, খাগড়াছড়ি
মিনুর আজ মন খারাপ। কারণ আজ সে স্কুলে যেতে পারেনি। যাবে কী করে? সকাল থেকেই যে ভয়ানক বৃষ্টি হচ্ছে। মিনুর স্কুলে যেতে ভীষণ ভালো লাগে। স্কুলে কত মজা! বন্ধুদের সাথে দেখা হয়। একসাথে লেখাপড়া। আবার টিফিন হলেই স্কুলমাঠে খেলা যায়। আর বাসায়! একটুও মজা নেই শুধু পড়া আর পড়া। মিনুর কোনো ছোট ভাইবোনও নেই যে তার সাথে বাসায় বসে খেলবে।
মা রান্নাঘরে রান্না করছে। মিনু দৌড়ে যায় মায়ের কাছে।
মা, আমার মন খারাপ।
আমার মিনুসোনার কেন মন খারাপ? মা মিনুর চুলে হাত বিলি কাটতে কাটতে জিজ্ঞেস করেন।
স্কুলে যেতে পারলাম না তাই।
ওহ বুঝতে পেরেছি। এতে মন খারাপের কিছু নেই। আজ তোমার বন্ধুরা কেউই স্কুলে যেতে পারেনি নিশ্চয়ই। তবে তোমার মন ভালো করার জন্য আমি একটা কাজ করছি।
কী করছ, মা? মিনু জানতে চায়।
আজ তোমার জন্য তোমার প্রিয় ভুনা খিচুড়ি আর গরুর মাংস রান্না করছি।
সত্যি, মা?
অবশ্যই সত্যি।
আমার সোনা মা। বলেই মিনু মাকে জড়িয়ে ধরে।
যাও এখন গিয়ে হোমওয়ার্কগুলো করে ফেল।
মায়ের কথামতো মিনু নিজের ঘরে যায়। কিন্তু আজ তার পড়তে ইচ্ছে করছে না। তার ছবি আঁকতে ইচ্ছে করছে। মিনু ওর ঘরের দক্ষিণের জানালা খুলে দেয়। আর একরাশ ঠান্ডা হাওয়া এসে মিনুর মুখে লাগে। মিনুর মন ভালো হয়ে যায়। সে বৃষ্টির ছবি আঁকতে বসে। বৃষ্টি দেখতে দেখতে বৃষ্টির ছবি আঁকা বেশ মজার।
হঠাৎ মিনু জানালা দিয়ে দেখে ওদের বারান্দায় ছোট্ট একটা পাখির ছানা চুপচাপ বসে আছে। মিনু দৌড়ে বারান্দায় যায়। দেখে ছোট্ট একটা চড়ুইছানা। জবজবে ভিজে বারান্দার এক কোণে বসে আছে। মিনু ছানাটির কাছে যায়। কিন্তু ছানাটি মোটেও নড়াচড়া করে না।
সে কি মারা গেল? মিনু ভয় পেয়ে যায়।
নাহ মারা যায়নি। মিনু পরম মমতায় বাচ্চাটিকে তার ঘরে নিয়ে আসে। একটি তোয়ালে দিয়ে শরীর মুছে দেয়। তারপর মায়ের কাছে নিয়ে যায়।
মা দেখো চড়ুই ছানা।
কোথায় পেলে মিনু এটা?
আমাদের বারান্দায়।
এটাকে গরম ছেঁকা দিতে হবে। মা একটা টুকরা কাপড় এনে মিনুর হাতে দেন। আর মিনুকে দেখিয়ে দেন কী করে ছেঁকা দিতে হয়।
মিনুর মা চুলার আগুন থেকে কাপড় গরম করে মিনুর হাতে দেন। মিনু সে কাপড় পরম মমতায় চড়ুই ছানার শরীরে চেপে চেপে ধরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই চড়ুই ছানাটা নড়াচড়া শুরু করে।
মিনুর মায়ের খিচুড়ি রান্না শেষ। মিনু টেবিলে মায়ের সঙ্গে খেতে বসছে। মিনুর পাশেই টেবিলে একটা ছোট বাটিতে চড়ুই ছানাকে খিচুড়ি দেওয়া হয়েছে। চড়ুই ছানা বারবার খাবার মুখে নিচ্ছে আর মিনুর দিকে কৃতজ্ঞতার দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে।
বৃষ্টি শেষ। চারদিকে হালকা রোদ উঠছে। মিনু ঘর থেকে বের হয়ে আসে। চড়ুই ছানাকে এখন বিদায় দিতে হবে। মিনু জানে পাখিদের আটকে রাখতে নেই। খোলা আকাশই ওদের বাড়ি।
মিনু হাতের তালুতে চড়ুই ছানাটিকে রাখতে সে দ্রুত উড়ে চলে যায়। মিনু আনন্দিত চোখে তার চলে যাওয়া দেখে আর ভাবে বাবা কখন অফিস থেকে আসবে। বাবাকে আজকের ঘটনা না বলা পর্যন্ত তার মোটেও শান্তি লাগবে না।
ওহ তার আগে তো ডায়েরিতে লিখতে হবে। মিনুর ভালো কাজের ডায়েরিতে আরেকটা ভালো কাজ এক্ষুনি যোগ করতে হবে।