শ্রীলঙ্কা ভ্রমণ পরিকল্পনা
সবুজ পাহাড়, নীল সমুদ্র আর হাজার বছরের ঐতিহ্যে ভরপুর দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা এখন বাংলাদেশি ভ্রমণপ্রেমীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য
সবুজ পাহাড়, নীল সমুদ্র আর হাজার বছরের ঐতিহ্যে ভরপুর দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা এখন বাংলাদেশি ভ্রমণপ্রেমীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। প্রতি বছরই হাজারো পর্যটক এখানে ছুটে যান প্রকৃতি আর সংস্কৃতির টানে। আপনার ভ্রমণকে সহজ ও ঝামেলামুক্ত করতে নিচে দেওয়া হলো ১০টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-
১. যাত্রার সময় ও ফ্লাইট সুবিধা
ঢাকা থেকে কলম্বো যেতে সরাসরি ফ্লাইটে সময় লাগে ৩-৪ ঘণ্টা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে। আগে টিকিট কাটলে খরচ অনেকটাই কমানো সম্ভব। শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনস, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস, থাই এয়ারওয়েজ, ফিটস এয়ার, ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়াসহ বেশ কিছু এয়ারলাইনস প্রতিদিন বিরতি দিয়ে ও বিরতিহীন ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
২. সাত দিনের আদর্শ ভ্রমণ পরিকল্পনা
এক সপ্তাহে আপনি সহজেই সমুদ্র ও পাহাড় দুই অভিজ্ঞতাই নিতে পারবেন। যেমন : কলম্বো, গল, ক্যান্ডি, নুয়ারা এলিয়া, এল্লা, মিরিসা ও ওয়েলিগামে সব মিলিয়ে বৈচিত্র্যময় সফর উপভোগ করতে পারবেন।
৩. স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থা
শ্রীলঙ্কায় মোটরবাইক, স্কুটি বা টুকটুক ভাড়া সহজলভ্য। নিজে চালাতে চাইলে আগে থেকে পারমিট নিতে হবেÑ আপনার বাংলাদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলে ওয়েবসাইটে (www.srilankabikerent.com/) আবেদন করে পারমিট পেতে পারেন। পারমিটের জন্য ব্যয় হবে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা।
৪. ইটিএ (ETA) বাধ্যতামূলক
শ্রীলঙ্কায় প্রবেশের আগে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ETA) নিতে হবে। এটি অনলাইনে বা দূতাবাসের মাধ্যমে করা যায়।
৫. ভিসা খরচ ও প্রক্রিয়া
সার্কভুক্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশিদের জন্য ETA ফি তুলনামূলক কম। নিজে করলে খরচ কম, আর এজেন্সির মাধ্যমে করলে কিছু অতিরিক্ত চার্জ যুক্ত হয়। দুভাবে ইটিএ সংগ্রহ করতে পারবেন। শ্রীলঙ্কা সরকারের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে (eta.gov.lk/slvisa) আবেদন করে অথবা সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনের মাধ্যমে ভিসা আবেদন জমা দিয়ে অনুমতি নেওয়া যাবে। বাংলাদেশে ঢাকার গুলশান-২-এ শ্রীলঙ্কার হাইকমিশন।
৬. মুদ্রা বিনিময়
বাংলাদেশি টাকার চেয়ে শ্রীলঙ্কান রুপির মান কম। ভালো রেট পেতে ডলার নিয়ে গিয়ে বিমানবন্দরেই এক্সচেঞ্জ করা সুবিধাজনক।
৭. খরচের পরিকল্পনা
শ্রীলঙ্কায় দৈনন্দিন খরচ তুলনামূলক বেশি। পানি থেকে শুরু করে খাবারÑ সবকিছুতেই বাজেট একটু বেশি ধরে পরিকল্পনা করা উচিত।
৮. আবহাওয়া অনুযায়ী প্রস্তুতি
নুয়ারা এলিয়ার মতো পাহাড়ি এলাকায় ঠান্ডা বেশি থাকে, তাই গরম কাপড় নিন। কিন্তু অন্য এলাকায় আবার বেশ গরম থাকে। তাই আবহাওয়া অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে। আর এল্লার ট্রেনযাত্রা মিস না করাই ভালোÑ এটি বিশ্বের অন্যতম সুন্দর রেলভ্রমণ অভিজ্ঞতা।
৯. প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস
ইমিগ্রেশনে সমস্যা এড়াতে অফিসের এনওসি, হোটেল বুকিং, রিটার্ন টিকিট ও ভ্রমণ পরিকল্পনার প্রিন্টকপি সঙ্গে রাখুন। ইমিগ্রেশন আপনার হোটেল বুকিং দেখতে চাইবে। ডকুমেন্টস আর কথায় মিল না থাকলে আপনাকে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে।
১০. ডলার এনডোর্সমেন্ট
ভ্রমণের আগে পাসপোর্টে ডলার এনডোর্স করা বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ডলার এনডোর্স করা যায়, এটি আগেই সম্পন্ন করে নিন। সঠিক পরিকল্পনা আর প্রস্তুতি থাকলে শ্রীলঙ্কা ভ্রমণ হতে পারে আপনার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।