× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রক্তচন্দ্রের বৈশাখ

তৌকির মুহাইমিন

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:২৫ পিএম

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:২৫ পিএম

আঁকা : নুরাত ইসলাম, শ্রেণি : তৃতীয়, সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

আঁকা : নুরাত ইসলাম, শ্রেণি : তৃতীয়, সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

নীল খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠে। প্রতিদিন সকালে ওঠার কারণ, সকাল দেখতে তার খুব ভালো লাগে। পাখির ডাক, আকাশজুড়ে রক্তিম আলো, নতুন ফুলের জেগে ওঠা এগুলো দেখতে নীলের খুব ভালো লাগে। তাছাড়া আজ তো পহেলা বৈশাখ, নীলের তো বৈশাখী শোভাযাত্রাতে যেতে হবে। কিন্তু নীল মুখোশ কিনতে ভুলে গেছে। তাই সে তাড়াতাড়ি করে বৈশাখী মেলায় চলে গেল মুখোশ কেনার জন্য। কিন্তু মেলার সব দোকান তখন বন্ধ। হঠাৎ দূরে একটা ছোট্ট দোকান দেখে নীল সেখানে যায়। গিয়ে দেখে ছোট্ট একটা দোকানে পুরনো কিছু মুখোশ নিয়ে জরাজীর্ণ চেহারার একজন বৃদ্ধ মানুষ বসে আছেন। নীল সেখানে গিয়ে মুখোশ চাইতেই বৃদ্ধ বললেন, ওহ, নীল এসেছ? আমি তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। এই বলে নীলকে একটা ধূসর ও লাল রঙের মুখোশ দেয়। নীল অবাক হয়। কারণ এই বৃদ্ধকে সে আগে কখনও দেখেনি। তাহলে বৃদ্ধ তাকে কীভাবে চেনেন? এরপর মুখোশের দাম দিতে গেলে বৃদ্ধ কিছুতেই দাম নিতে চাইলেন না। বাধ্য হয়ে নীল দাম না দিয়েই সেখান থেকে চলে এলো। কিছুদূর যাওয়ার পর নীল পেছনে তাকিয়ে দেখলো দোকানটা আর ওখানে নেই। নীল ভাবল এটা হয়তো তার মনের ভুল। তারপর নীল বৈশাখী শোভাযাত্রাতে অনেক মজা করল কিন্তু সবার সাথে মজা করতে করতে মুখোশ পরতেই সে ভুলে গিয়েছিল। তারপর বাড়িতে এসে তার মায়ের হাতের রান্না করা ইলিশ মাছসহ অনেক মজার মজার খাবার খেল। তারপর তার খুব ক্লান্ত লাগছিল। তাই সে ঘুমিয়ে পড়ল।

ঘুম থেকে উঠে সন্ধ্যায় সে মুখোশ নিয়ে বৈশাখী মেলায় গেল। মেলায় গিয়ে দেখে সবাই খুব আনন্দ করছে। নীল সবার সাথে অনেক আনন্দ করছিল। হঠাৎ করে দেখে সবাই স্থির হয়ে গেছে। কিন্তু নীল নড়তে পারছে। চাঁদের দিকে তাকিয়ে দেখে যে, চাঁদটা একদম লাল হয়ে আছে। গল্পের বইয়ে নীল পড়েছে যে, একে বলে রক্তচন্দ্র। এমন সময় তার কাঁধে সে একটা হাতের স্পর্শ অনুভব করে। পেছনে তাকিয়ে দেখে দীপ্তিময় এক লোক তাকে বলছেন, ‘নীল প্রতিবছর এই গ্রামকে তোমার ছায়া ভূতের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। তুমি মুখোশ পড়ে নাও।’ নীল জিজ্ঞেস করে, আমি কেন? তখন তার মায়ের কথা মনে করে। তার মা ছোটবেলায় ভাত খাইয়ে দেওয়ার সময় তাকে বলেছিল যে, তাদের বংশের ছেলেদের পৃথিবীতে অনেক দায়িত্ব আছে। কিন্তু তারা তা পালন না করায় তাদের শক্তি শেষ হয়ে গেছে। তখন নীল মুখোশটা পড়ে নেয়। মুখোশ পড়ার সাথে সাথে সে নিজের ভেতরে অদ্ভুত এক শক্তি অনুভব করে।

হঠাৎ করে মাটি ভেদ করে ছায়া ভূতেরা বের হতে থাকে। নীল তাদের সাথে যুদ্ধ করতে করতে সবাইকে পরাস্ত করতে থাকে। এর মধ্যে বড় একটা ছায়া ভূত আসে এবং বলে আমার হাতেই তোমার মৃত্যু হবে নীল। নীল তাকিয়ে দেখে এটা তার মিষ্টি আন্টি যাকে সে অনেক ভালোবাসত। মিষ্টি আন্টি জানত যে নীল অন্ধকার অনেক ভয় পায়। তাই সে সবকিছু অন্ধকার করে দেয়। নীল ভয় পেয়ে যায়। এমন সময় সে ওই দীপ্তিময় লোকটির কণ্ঠ শুনতে পায় যে বলছে, ‘ভয় পেয়ো না, নীল। সাহস রাখো।’ তারপর নীল বলে, এখন আর আমি অন্ধকারে ভয় পাই না। তারপর সে দেখতে পায়, সব ছায়া ভূতগুলো চলে যাচ্ছে এবং মাটি ঠিক হয়ে যাচ্ছে। চাঁদটাও আবার সাদা হয়ে গেছে। সবাই আগের মতো আনন্দ করছে যেন কিছুই হয়নি। দূর থেকে দীপ্তিময় লোকের কণ্ঠে সে আবার শুনতে পেলো, নীল! প্রতিবছর পহেলা বৈশাখ তোমাকে এই গ্রাম রক্ষা করতে হবে। নীল বলল, আমি প্রস্তুত। 

ষষ্ঠ শ্রেণি, বরিশাল জিলা স্কুল


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা