লেখা ও আঁকা : পূর্ণতা রানী দাস
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:১৮ পিএম
শনিবার। ছুটিতে সবাই গ্রামের বাড়িতে এসেছে। এমনিতে তো এক সাথে সবার দেখা সাক্ষাৎ হয় না। তাই বছরের শেষে এই ছুটির জন্যই সবাই অপেক্ষা করে। তো এই বাড়িতে এলে দিন যে কখন রাত হয় তা খেয়ালই থাকে না। এইখানে সবাই শহরের মতো এত রাত জাগে না। তাই সন্ধ্যা হলেই খেয়েদেয়ে সবাই ঘুমিয়ে পড়ে।
যেহেতু সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। তাই আমিও শুয়ে পড়লাম। আমার তো এই সময় ঢাকায় থাকলে পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয় কিন্তু তখনই আমার ঘুম পায়। আর এইখানে পড়াশোনা কিছুই নেই, তা-ও ঘুম আসছে না। মা হঠাৎ আমার দিকে ঘুরে বললÑ কী রে ঘুমাস না কেন? আয় ঘুম পাড়িয়ে দিই। এই বলে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। কিন্তু আমার তো ঘুম আসছে না। আমি বললাম একটা গল্প বলো না মা। মা বলল, আচ্ছা তাহলে কীসের গল্প শুনবি বল। আমি বললাম, আজকে বিকেলে এই গ্রামে শিয়াল আছে এমন কথা শুনেছি। মা তুমি কি এই গ্রামের শিয়াল নিয়ে কোনো ঘটনা শুনেছ? মা বলল ‘হ্যাঁ, জানি তো। মা তুমিও শিয়াল দেখেছ? মা বলল, না বাবা শিয়ালকে দেখিনি আর দেখতেও চাই না। ছোটবেলায় এই শিয়ালের অনেক গল্প শুনেছি। তাই নাকি মা! আমাকে একটা বলো না প্লিজ…। একটাই কিন্তু আর না কেমন? আমি চুপ করে শুয়ে গল্প শুনতে লাগলাম।
তবে শোন, এই গ্রামেরই দুইটা দুষ্ট মেয়ে ছিল। যারা রাতদিন দুষ্টামি করত। প্রায় প্রতিদিনই তাদের নামে বাসায় নালিশ আসত। আজ কারও এটা চুরি করেছে তো অন্যদিন কাউকে ভূতের ভয় দেখিয়েছে। আর সবচেয়ে যেই ভয় সবাইকে দেখাত সেটা হলো শিয়ালের ডাক। এই ডাক তারা খুব ভালো করে কপি করত। তাই প্রায়ই শিয়ালের ডাক শুনে মানুষ যখন লাঠি নিয়ে দৌড়ে আসত এসে দেখত ওই দুই মেয়ে খিলখিল করে হাসছে। ব্যস, সবাই রেগে আগুন হয়ে যেত। এইভাবে তারা প্রায়ই শিয়ালের ডাক ডাকত আর মানুষ দৌড়ে আসত। মানুষ একটা সময় ভেবেই নিল যে এই গ্রামে যে শিয়ালের ডাক শোনা যায় তা আসলে এদের দুষ্টামি।
যাই হোক একদিন সেই দুজন মেয়ে গ্রামের একজনের নৌকা চুরি করে সন্ধ্যায় বেরিয়ে পড়ল। তারা ঠিক করল গ্রামের পাশের জঙ্গলে যাবে। ব্যস, সেই নৌকা নিয়ে যখন জঙ্গলে হাজির হলো তখন প্রায় রাত হয়ে গেছে। একজন সাহস করে বলল, রাত হয়ে গেছে চল গ্রামে ফিরে যাই। কিন্তু আরেকজন সাহস করে জঙ্গলে নেমে পড়ল। একটু হাঁটতেই সে কোনো কিছুর সাউন্ড শুনতে পেল। পেছনে ঘুরতেই দেখে এক জোড়া চোখ তার দিকেই তাকিয়ে আছে। আরে এ তো দেখি শিয়াল! ভয়ে সে যখনই দৌড়ে পালাতে যাবে অমনি শিয়াল তার ডাক ছেড়ে হামলে পড়ল। আরেকজন যে নৌকায় ছিল সে তখন নৌকা নিয়েই গ্রামে পালিয়ে এলো। গ্রামে এসে চিৎকার করে সবাইকে ডাকল। তার চিৎকার শুনে সব গ্রামবাসী দৌড়ে এলো ও সব ঘটনা শুনে নৌকা নিয়ে ওই জঙ্গলের দিকে গেল। কিন্তু সারা রাত খুঁজেও ওই মেয়েকে আর পাওয়া গেল না। এরপরও তাকে আর কেউ দেখেনি। তবে অনেকেই ভাবে এই গ্রামে যেহেতু শিয়াল ছিল না। তাই হয়তো ওই মেয়েটাই এখনও গ্রামের রাস্তায় শিয়ালের ডাক ডেকে বেড়ায়। তাই রাতে কেউ বের হয় না। এতক্ষণ চুপ করে থেকে আমি বললাম, থাক মা আমি আর এই শিয়ালের গল্প শুনব না। যদি রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে ওই মেয়েটা আমাদের গল্প শুনে ফেলে তাইলে তো এই বাড়িতেও আসবে। মা শুনে হা হা করে হেসে দিলেন। বললেন, ঠিক ঠিক। তবে আয় শিয়াল আসার আগেই আমরা ঘুমিয়ে পড়ি।
চতুর্থ শ্রেণি, বটমলী হোম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা