আফসানা মিমি
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬ ১৪:৩৯ পিএম
শীত ধীরে ধীরে বিদায় নিচ্ছে। বাতাসে আর সেই কনকনে ঠান্ডা নেই, রোদে বাড়ছে উষ্ণতা। দিনের বেলায় গরম লাগছে, আবার রাতে হালকা ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। এই সময়টাকেই বলা যায় মৌসুম পরিবর্তনের সময়Ñ যখন শীত থেকে বসন্ত, তারপর গ্রীষ্মের দিকে যাত্রা শুরু হয়। এই পরিবর্তন শুধু আবহাওয়ায় নয়, সরাসরি প্রভাব ফেলে আমাদের ত্বক ও চুলের ওপর। হঠাৎ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার তারতম্যে অনেকের ত্বক হয়ে ওঠে রুক্ষ, কারও দেখা দেয় ব্রণ, র্যাশ বা চুলকানি। আবার চুল হয়ে যায় শুষ্ক, ভাঙতে থাকে কিংবা অতিরিক্ত তেলতেলে হয়ে যায়। তাই শীত কমে যাওয়ার এই সময়টায় আলাদা করে যত্ন নেওয়া খুবই জরুরি।
বর্তমান ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেক সময় নিজের যত্ন নেওয়ার কথা ভুলে যাই, কিন্তু শরীর সুস্থ না থাকলে সৌন্দর্যও টেকসই হয় না। তাই মৌসুম বদলের এই সময়টায় ত্বক ও চুলের প্রতি সচেতন হওয়া মানেই ভবিষ্যতের অনেক সমস্যা থেকে নিজেকে আগেভাগেই রক্ষা করা।
ত্বকের যত্ন
ক্লিনজিংয়ে আনুন পরিবর্তন
শীতকালে আমরা সাধারণত খুব ক্রিমি বা ময়েশ্চারাইজিং ক্লিনজার ব্যবহার করি। কিন্তু শীত কমলে ত্বকে ঘাম ও তেলের পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে আগের মতো ভারী ক্লিনজার ব্যবহার করলে পোর বন্ধ হয়ে ব্রণ বা ব্ল্যাকহেডের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই সময় হালকা জেল বা ফোম বেসড ক্লিনজার ব্যবহার করা ভালো, যা ত্বক পরিষ্কার রাখবে কিন্তু শুষ্ক করবে না।
হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন
অনেকেই শীতের ভারী ক্রিম একইভাবে ব্যবহার করতে থাকেন, যা এই সময়ের জন্য ঠিক নয়। এতে ত্বকে অতিরিক্ত তেল জমে নানা সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই শীত শেষে লোশন বা জেল টাইপ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন, যা ত্বককে হাইড্রেট রাখবে কিন্তু ভারী লাগবে না।
সানস্ক্রিন লাগিয়ে নিন
শীত কমার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের তাপ অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু আমরা অনেক সময় ভাবি, শীত তো শেষ, সানস্ক্রিনের দরকার নেই। আসলে এই সময় সানস্ক্রিন সবচেয়ে বেশি জরুরি। নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ত্বক ট্যান, পিগমেন্টেশন, রোদে পোড়া ও অকাল বলিরেখা থেকে রক্ষা পায়।
এক্সফোলিয়েশন করুন সপ্তাহে একবার
মৌসুম বদলের সময় ত্বকে মৃত কোষ জমে ত্বক নিস্তেজ ও ক্লান্ত দেখাতে পারে। সপ্তাহে একবার হালকা স্ক্রাব বা এক্সফোলিয়েন্ট ব্যবহার করলে ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল থাকে। তবে খুব বেশি ঘষাঘষি করা যাবে না, এতে ত্বক সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে।
পানি ও খাবারের দিকে নজর দিন
ত্বকের সৌন্দর্য শুধু বাহ্যিক যত্নে নয়, ভেতরের যত্নেও নির্ভর করে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা খুব জরুরি। পাশাপাশি ফল, সবজি, বাদাম, দই ও সবুজ শাকসবজি খেলে ত্বক ভেতর থেকে সুস্থ থাকে।
চুলের যত্ন
শ্যাম্পু করুন
শীত কমলে মাথার ত্বক বেশি ঘামতে শুরু করে, ফলে চুল তাড়াতাড়ি তেলতেলে হয়। আবার অনেকের খুশকি বা চুলকানির সমস্যাও দেখা দেয়। খুব বেশি শ্যাম্পু করলে চুল রুক্ষ হয়ে যায়, আবার খুব কম করলে ময়লা জমে। সপ্তাহে ২-৩ বার মাইল্ড শ্যাম্পু করাই সবচেয়ে ভালো।
কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন
অনেকে মনে করেন চুল তেলতেলে হলে কন্ডিশনার দরকার নেই। কিন্তু কন্ডিশনার চুলের ড্যামেজ কমায় এবং চুলকে নরম ও মসৃণ রাখে। মাথার ত্বকে না দিয়ে চুলের মাঝ থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো।
হেয়ার মাস্ক ও তেল ব্যবহার
সপ্তাহে একবার হালকা হেয়ার মাস্ক বা প্রাকৃতিক তেল ব্যবহার করলে চুল পুষ্টি পায়। নারকেল তেল, অলিভ অয়েল বা আমন্ড অয়েল চুলের জন্য খুবই উপকারী। এতে চুল ভাঙা কমে, রুক্ষতা দূর হয় এবং চুলে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা আসে।
হিট স্টাইলিং কমান
এই সময় চুল এমনিতেই দুর্বল থাকে। অতিরিক্ত হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার বা কার্লার ব্যবহার করলে চুলের ক্ষতি আরও বেড়ে যায়। যতটা সম্ভব প্রাকৃতিকভাবে চুল শুকাতে দিন এবং হিট স্টাইলিং এড়িয়ে চলুন।
খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব
চুল ভালো রাখতে শুধু বাহ্যিক যত্ন নয়, পুষ্টিকর খাবারও জরুরি। ডিম, মাছ, ডাল, বাদাম, ফল ও শাকসবজি নিয়মিত খেলে চুল পড়া কমে এবং চুল শক্ত ও স্বাস্থ্যবান হয়।
কিছু সাধারণ পরামর্শ
খুব গরম পানি দিয়ে মুখ বা চুল ধোয়া এড়িয়ে চলুন। বাইরে থেকে এসে মুখ পরিষ্কার করুন। দীর্ঘ সময় মেকআপ রাখা ঠিক নয়, বিশেষ করে গরমে। রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই মুখ ও চুল পরিষ্কার রাখুন। পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ কম রাখাও ত্বক ও চুল ভালো রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।