× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

একদিনের নিশ্চিত সুখ দেবে পদ্মার হাউজবোট

মোহাম্মদ আলম

প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬ ১২:৫৪ পিএম

একদিনের নিশ্চিত সুখ দেবে পদ্মার হাউজবোট

পদ্মা স্নানে দেহমনে সুচি শুভ্রতার অনুভূতি জাগে। মনপুরা চরে হাউজ বোট থামিয়ে পদ্মার শীতল জলের ছোঁয়ায় মনেপ্রাণে এক অপার্থিব প্রশান্তির নহর বয়ে যায়। তীর থেকে দৌড়ে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া বা পাদ্মার অথৈ জলে সাঁতার- সেই কবেকার কিশোর বেলার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। এ যেন কর্মব্যস্ততায় হাঁপিয়ে ওঠা বন্দি জীবনে ক্ষণিকের স্বস্তি।

বিলাসবহুল হাউজবোটে পদ্মা নদীতে ভ্রমণের সুখময় স্মৃতি কি আর লিখে প্রকাশ করা যায়। যদি একদিনের জন্য সুখি হতে চান তবে হাউজবোটে পদ্মায় ভেসে পড়ুন।  

‘ভ্রমণ মানে ঘুরে বেড়ানো’- বুদ্ধদেব গুহ বা আল মাহমুদ কবি সাহিত্যিকরা এভাবেই বলেন। ভ্রমণের শখ নেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আর নৌকা ভ্রমণ বাঙালির মজ্জাগত। বিলাসবহুল হাউজবোটে ভ্রমণ একটু বেশিই আনন্দময়। সারাবেলা বন্ধু পরিজন নিয়ে কাছাকাছি সময় কাটানোর এর চেয়ে ভালো কিছু হতে পারে না।

ঢাকার কাছেই ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য হাউজবোটে পদ্মায় ঘুরাঘুরির সুব্যবস্থা রয়েছে। ঢাকা জেলায় দোহার উপজেলার নারিশা পশ্চিম চর থেকে মাওয়া ব্রিজ পর্যন্ত প্যাকেজ ট্যুর। 

নারিশা পশ্চিম চর ঘাটে বেলা দশটায় বোটে চেক ইন দিয়ে ভ্রমণ শুরু। রোদ ঝলমলে সকাল। পদ্মার ছোট ছোট ঢেউয়ে রোদের রূপালি নাচন মনেপ্রাণে দোলা দেয়। পদ্মার হিমেল হাওয়ার ঝাপটা লাগে দেহমনে। কঠিন হৃদয়ে নিমিশেই কোমলতা নেমে আসে।

সবুজ কার্পেটে মোড়া হাউজবোটের ছাদ। ছাদে ঝলমলে রোদে বসিয়ে সকালের নাস্তা পরিবেশন করা হয়। খিচুরির সাথে গরুর মাংস ভুনা, আলু ভর্তা, সাথে ছিল টাটকা শসা ও লেবু। বোট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক আতিথিয়েতা ও পরিবেশনার গুণে অতিথি সবারই দিলখুশ।

বোটে ওঠার পর থেকেই ছবিতে স্মৃতি ধরে রাখার একরকম প্রতিযোগিতা চলছিল। বোট ধীর গতিতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার ভ্রমণে পদ্মা ব্রিজের কাছে পৌঁছায়। কিছুক্ষণ পদ্মা ব্রিজের নিচে কাটিয়ে মনপুরা চরে হাউজবোট থামে। মনপুরা চরে নেমে পদ্মায় গোসল করা হয়েছে। পদ্মা স্নানের আধ্যাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক মাহাত্ব্য রয়েছে। পদ্মা ভ্রমণে কোনভাবেই স্নানের সুযোগ হাত ছাড়া করা ঠিক না। 

মনপুরা থেকে বোট ছেড়ে আসার পর দুপুরের খাবার পরিবেশন করা হয়। পদ্মার ইলিশ মাছ ভাজা, মুরগির মাংসের ঝোল, সবজি। কড়া ঝালে কচি চিংড়ির শুটকি বেশ লেগেছে। ডেজার্টে লালমোহন মিষ্টি। 

হাউজবোট পদ্মার জলরাশি কেটে সামনে এগিয়ে চলছিল। ‘এ কুল ভেঙে ওকুল তুমি গড়ো’ এটাই নদীর আসল রূপ। পদ্মায় প্রতিবছরই নতুন নতুন চর জাগে। বিকালে তেমনি একটা অজানা চরে অতিথিদের নামিয়ে দেওয়া হয়ে। সেখানে ফুটবল বা দৌড়াদৌড়ি খেলাধুলার ব্যবস্থাও ছিল। সন্ধ্যা নামার আগেই আবার বোটে ফিরে আসা হয়। সন্ধার পর বোটের ছাদে পদ্মার মাছের বারবিকিউ ভ্রমণে বাড়তি আনন্দ যোগ করেছে। 

যেভাবে যাবেন

রাজধানীর গুলিস্তান থেকে দোহারের বাস চলাচল করে। বাসে বা ব্যক্তিগত গাড়িতে নারিশা পশ্চিম যেতে হবে। দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার পথ। ‘পদ্মা হাউজ বোট বুকিং এন্ড রিভিউ’ ট্যুর লিখে ফেসবুক বা অনলাইনে সার্চ দিলেই বিস্তারিত পাওয়া যাবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা