রকিবুল হাসান
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬ ১২:২৩ পিএম
আমরা বছরের পর বছর ধরে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির ওপর নির্ভর করে আসছি। বর্তমানে সেই জায়গা দখল করে নিচ্ছে সোডিয়াম আয়ন (Sodium-ion) ব্যাটারি। ২০২৬ সালের শুরুতে সোডিয়াম আয়ন ব্যাটারি প্রযুক্তি আর কেবল ল্যাবরেটরির গবেষণায় সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন বাণিজ্যিকভাবে বাজারে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। বিশেষ করে Samsung এবং Xiaomi-এর মতো বড় ব্র্যান্ডগুলো তাদের সাশ্রয়ী (Budget) এবং মিড-রেঞ্জ ডিভাইসে এই ব্যাটারি ব্যবহারের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু কেন এটি প্রযুক্তিপ্রেমীদের নতুন পছন্দ হয়ে উঠছে? আসুন জানার চেষ্টা করি।
সোডিয়াম ব্যাটারির গঠন ও প্রযুক্তি অনেকটা প্রচলিত লিথিয়াম ব্যাটারির মতোই, তবে এখানে প্রধান পার্থক্য হলো এর মূল উপাদানে। লিথিয়ামের বদলে এতে ব্যবহার করা হয় সাধারণ লবণ বা সোডিয়াম (Na)। লিথিয়াম একটি দুর্লভ ধাতু, যার দাম অনেক বেশি। অন্যদিকে সোডিয়াম আসলে সাধারণ লবণের একটি উপাদান, যা পৃথিবীতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। সোডিয়াম ব্যাটারি তৈরি করা লিথিয়ামের চেয়ে প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ সস্তা। এর ফলে ফোনের দাম, বিশেষ করে বাজেট ফোনগুলোর দাম অনেকটাই কমে আসবে।
লিথিয়াম ব্যাটারির একটি বড় সমস্যা হলো প্রচণ্ড ঠান্ডায় এটি দ্রুত চার্জ হারায়। আপনি যদি পাহাড়ি এলাকায় বা শীতপ্রধান দেশে ঘুরতে যান, দেখবেন আপনার ফোনের চার্জ হুট করেই কমে গেছে। সোডিয়াম ব্যাটারি মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়ও ৯০ শতাংশ কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে পারে। অর্থাৎ হাড়কাঁপানো শীতেও আপনার ফোন বা ইলেকট্রিক বাইক আপনাকে বিপদে ফেলবে না।
লিথিয়াম ব্যাটারিতে অনেক সময় আগুন লাগার বা বিস্ফোরণের ঝুঁকি থাকে (যেমনটা আমরা কিছু স্মার্টফোন বা ই-বাইকের ক্ষেত্রে দেখেছি)। অন্যদিকে সোডিয়াম আয়ন ব্যাটারি রাসায়নিকভাবে অনেক বেশি স্থিতিশীল। এটি লিথিয়ামের মতো সহজে উত্তপ্ত হয় না বা এতে আগুন ধরার ঝুঁকি প্রায় নেই বললেই চলে। বাড়িতে সোলার প্যানেলের সঙ্গে ব্যবহারের জন্য এটি এখন সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প।
সোডিয়াম আয়নের চলাচলের গতি লিথিয়ামের চেয়ে বেশি, তাই এটি খুব দ্রুত চার্জ নিতে পারে। ২০২৬ সালের ল্যাব টেস্ট ও প্রোটোটাইপ অনুযায়ী, একটি সোডিয়াম ব্যাটারি মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ হতে পারে। এ ছাড়া দ্রুত চার্জ হওয়ার সময় (Fast Charging) এই ব্যাটারি লিথিয়ামের তুলনায় কম গরম হয়, যা ব্যাটারির স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি কমায়।
আমরা জানি যে, ১-২ বছর ব্যবহারের পর ফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ কমে যায়। কারণ সাধারণ লিথিয়াম ব্যাটারি ৫০০ থেকে ১০০০ বার ফুল চার্জ দিলে এর ক্ষমতা কমতে শুরু করে। কিন্তু ভালো মানের সোডিয়াম ব্যাটারি ৪০০০ থেকে ৫০০০ বার বা তারও বেশিবার চার্জ দেওয়া যায়। কারণ সোডিয়াম ব্যাটারির ‘চার্জ সাইকেল’ বা আয়ু লিথিয়ামের তুলনায় বেশি। এর মানে হলো, আপনার ডিভাইসের ব্যাটারি ১০ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত নতুনের মতো সার্ভিস দিতে সক্ষম। ২০২৬ সালে বাজারে আসা Elecom-এর সোডিয়াম পাওয়ার ব্যাংকের একটি বড় উদাহরণ, যার আয়ু প্রায় ১৩ বছর দাবি করা হচ্ছে।
যদিও সোডিয়াম ব্যাটারি সস্তা এবং নিরাপদ, তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরিÑ এটি লিথিয়ামের মতো ওজনে হালকা নয়। তাই আপনি যদি খুব স্লিম বা পাতলা ফোন পছন্দ করেন, তবে আপনাকে হয়তো লিথিয়াম ব্যাটারির জন্য বেশি টাকা গুনতে হবে। কিন্তু আপনি যদি একজন সাধারণ ব্যবহারকারী হন, যার কাছে ফোনের দাম এবং স্থায়িত্ব বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তবে ২০২৬ সালে আপনার প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত সোডিয়াম আয়ন ব্যাটারিচালিত ডিভাইস।