× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ভিপিএন অ্যাপে নিরাপত্তা ঝুঁকি

খালিদ হাসান

প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬ ১২:২১ পিএম

ভিপিএন অ্যাপে নিরাপত্তা ঝুঁকি

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য ভিপিএন বা ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক দিন দিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ভিপিএন মূলত ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট সংযোগকে এনক্রিপ্ট করে এবং আইপি ঠিকানা লুকিয়ে রেখে নিরাপদভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুযোগ দেয়। অনেকেই মনে করেন, ভিপিএন ব্যবহার করলেই সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকা যায়। কিন্তু বাস্তবে সব ভিপিএন অ্যাপ সমানভাবে নিরাপদ নয়। বিশেষ করে অনেক ফ্রি ভিপিএন অ্যাপে নানা ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকতে পারে, যা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

ফ্রি ভিপিএন

ভিপিএন অ্যাপ ব্যবহারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ এবং বিক্রি করা। অনেক ফ্রি ভিপিএন সেবা ব্যবহারকারীদের ব্রাউজিং হিস্ট্রি, আইপি ঠিকানা, লোকেশন এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে। পরে এসব তথ্য বিজ্ঞাপন কোম্পানি বা তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করা হয়। ফলে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ব্যবহারকারী মনে করেন তিনি নিরাপদ আছেন, কিন্তু বাস্তবে তার তথ্য অন্যদের হাতে চলে যেতে পারে। কিছু ভিপিএন অ্যাপের মধ্যে ম্যালওয়্যার বা ক্ষতিকর সফটওয়্যার থাকতে পারে। অনেক সময় অজানা বা অবিশ্বস্ত উৎস থেকে ডাউনলোড করা ভিপিএন অ্যাপ ব্যবহার করলে ফোন বা কম্পিউটারে ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। এই ম্যালওয়্যার ব্যবহারকারীর ডিভাইসের তথ্য চুরি করতে পারে, এমনকি ডিভাইসের কার্যক্ষমতাও নষ্ট করতে পারে। তাই যেকোনো ভিপিএন অ্যাপ ব্যবহার করার আগে তার নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্রি ওয়াইফাই

অনেক ভিপিএন অ্যাপ প্রকৃতপক্ষে শক্তিশালী এনক্রিপশন ব্যবহার করে না। এনক্রিপশন হলো এমন একটি প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে তথ্যকে গোপন রাখা হয় যাতে অন্য কেউ তা পড়তে না পারে। কিন্তু কিছু নিম্নমানের ভিপিএন সেবা এই এনক্রিপশন যথাযথভাবে প্রয়োগ করে না। ফলে ব্যবহারকারীর ডেটা সহজেই হ্যাকারদের হাতে পড়তে পারে। বিশেষ করে পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করার সময় এই ঝুঁকি আরও বেশি হয়ে যায়।

ধীরগতি ইন্টারনেট

ভিপিএন ব্যবহার করলে অনেক সময় ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে। কারণ ভিপিএন ব্যবহার করার সময় ডেটা সরাসরি গন্তব্যে না গিয়ে একটি মধ্যবর্তী সার্ভারের মাধ্যমে যায়। এই অতিরিক্ত পথের কারণে ডেটা আদান-প্রদানে সময় বেশি লাগে এবং ইন্টারনেট ধীর হয়ে যেতে পারে। যদিও এটি সরাসরি নিরাপত্তা ঝুঁকি নয়, তবে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতার ওপর প্রভাব ফেলে।

ফাইল অ্যাকসেস

তবে কিছু ভিপিএন অ্যাপ অতিরিক্ত পারমিশন বা অনুমতি চায়। যেমন ফোনের কনট্যাক্ট, মেসেজ বা ফাইল অ্যাকসেস করার অনুমতি। এ ধরনের পারমিশন অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় হয় এবং ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তাই কোনো অ্যাপ ইনস্টল করার আগে তার পারমিশন ভালোভাবে পরীক্ষা করা জরুরি।

এই ঝুঁকিগুলো থেকে বাঁচতে ব্যবহারকারীদের সচেতন হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু বিশ্বস্ত এবং পরিচিত ভিপিএন সেবা ব্যবহার করা উচিত, যেমন প্রোটন ভিপিএন। এ ছাড়া অ্যাপ ডাউনলোড করার সময় অবশ্যই অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর ব্যবহার করা উচিত এবং অ্যাপের রিভিউ ও রেটিং পরীক্ষা করা উচিত। ভিপিএন প্রযুক্তি ইন্টারনেট নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম হলেও সব ভিপিএন সমানভাবে নিরাপদ নয়। তাই সচেতনভাবে সঠিক ভিপিএন নির্বাচন করা এবং অজানা বা সন্দেহজনক অ্যাপ ব্যবহার থেকে বিরত থাকা ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা