× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বাড়ি বাড়ি গিয়ে চুল কাটেন কিস্কু

প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী

প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬ ১৩:২১ পিএম

বাড়ি বাড়ি গিয়ে চুল কাটেন কিস্কু

‘চুল কাটালে এক আনা, চুল-দাড়ি দুই আনা, একসঙ্গে দুই করালে মালিশ বিনামূল্যে।’- গ্রামবাংলায় আগে এভাবেই ডেকে ডেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চুল-দাড়ি কাটতেন সেসময়ের নাপিতরা; যা কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে। এখন এমন চিত্র শুধুই দেখা মিলে ঠাকুমার ঝুলি কার্টুনে। বর্তমানে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাপিতদের দেখা মিলে শুধুই বাহারি সাজে সজ্জিত সেলুনে। গ্রামগঞ্জের হাটবাজারে কিছু নাপিত দেখা গেলেও তারা আর বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজের সন্ধান করেন না। কিন্তু হারিয়ে যাওয়া পুরনো সেই দৃশ্যে দেখা গেল মারচে লিউস কিস্কুকে। না তিনি সেই যুগের কোনো নাপিত নয়, তিনি বর্তমান আধুনিক যুগেরই একজন। বংশপরম্পরায় নাপিত না হলেও জীবিকার তাগিদে বেছে নিয়েছেন এই কর্ম। গ্রামে গ্রামে ঘুরে তিনি কাটছেন চুল, দাড়ি-গোঁফ। সঙ্গে নিয়ে যান একটি চুল-দাঁড়ি কাটাযন্ত্রের ব্যাগ ও একটি প্লাস্টিকের চেয়ার। সেসব নিয়ে সারা দিনে প্রায় ৪-৫টি গ্রামে ঘুরেন তিনি। আর ঘুরে ঘুরে যা কাজ করে অর্থ পান তা দিয়েই চলে এই ভ্রাম্যমাণ নাপিতের সংসার।

নাপিতের নাম মারচে লিউস কিস্কু, বয়স মাত্র ৩৮ বছর। তিনি দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার আলাদীপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর সূর্যপাড়া গ্রামের মৃত চরকা কিস্কুর ছেলে। স্ত্রী বাহামনি মুর্মু ও এক বছর বয়সী ছেলে মতিরাম কিস্কুকে নিয়ে তার সংসার। অভাবের এই সংসারে বাহামনি মুর্মুও বসে নেই, তিনিও ডাক পেলে ছুটেন কৃষিকাজে।

জানা যায়, বংশীয় পেশা কৃষি ও গৃহস্থের কাজ হলেও ২৫ বছর বয়সে নাপিতের কাজ শেখেন মারচে লিউস কিস্কু। এরপর নিজেই একটি বাঁশবেড়া চালা দিয়ে বড় একটি আয়না টানিয়ে বাড়ির সামনের মোড়ে শুরু করেন সেলুন ব্যবসা। কিন্তু গ্রামে লোকজন কম। বাহিরে কেউ আসে না সেখানে কাজ করাতে। তাই সারা দিন যা আয় হচ্ছিল তা দিয়ে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়ে তার। তাই পরে শুরু করেন ভ্রাম্যমাণ চুল-দাড়ি কাটার ব্যবসা। সকাল হলেই একটি চুল-দাড়ি কাটাযন্ত্রের ব্যাগ ও একটি প্লাস্টিকের চেয়ার নিয়ে ছোটেন এ গ্রাম থেকে ও গ্রামে। প্রতিদিন ৪ থেকে ৫টি গ্রাম ঘুরে করেন কাজের সন্ধান। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার নানা বয়সী পুরুষের চুল-দাড়ি কেটে মোটামুটি যা রোজগার হয়, তা দিয়েই চলছে এখন তার সংসার।

উপজেলার বাসুদেবপুর সূর্যপাড়া গ্রামের মানেস হেম্ব্রমের খোলাতে (উঠানে) গ্রামের লোকজনের চুল কাটার সময় দেখা মেলে মারচে লিউস কিস্কুর। রাজেন কিস্কু নামের একজন গ্রাহকের চুল কাটা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন তিনি। চুল ও দাড়ি কাটার অপেক্ষায় রয়েছে আরও দুজন শিশুসহ চারজন।

মারচে লিউস কিস্কুর গ্রাহক মানেস হেম্ব্রম বলেন, আগে আশপাশের হাটে কিংবা ফুলবাড়ী শহরে গিয়ে চুল ও দাড়ি কাটতে হতো। এতে সবচেয়ে সমস্যায় পড়তে হতো বাড়ির শিশু-কিশোরদের চুল কাটা নিয়ে। কিন্তু এখন মারচে লিউস কিস্কু সেলুনের কাজ শেখে গ্রামে গ্রামে ঘুরে চুল ও দাড়ি কাটার কাজ করায় তার যেমন আয়ের পথ হয়েছে, তেমনি গ্রামের মানুষেরও অর্থ ও সময় দুটোই বেঁচে যাচ্ছে।

পাতরাজ কিস্কু নামের গ্রামবাসী বলেন, আগে ফুলবাড়ী পৌর শহরের সেলুনে গিয়ে চুল ও দাড়ি কাটতে হতো। এতে অনেক বেশি টাকা ব্যয় হতো। এ ছাড়া ছিল যাতায়াত ভাড়া। কিন্তু কিস্কুর এখন গ্রামে এসে চুল ও দাড়ি কেটে দেওয়ায় যাতায়াত ভাড়ার অর্থ যেমন বেঁচে যাচ্ছে, তেমনি অল্প টাকায় নিজের চুল ও দাড়িয়ে কেটে নেওয়া যাচ্ছে।

মারচে লিউস কিস্কু বলেন, ছোটকাল থেকেই কৃষিকাজে তার মন বসত না। এজন্য তিনি ভিন্ন পেশার খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেন সেলুনের কাজ শিখবেন। যোগাযোগ করেন ফুলবাড়ী পৌর শহরের এক সেলুনের দোকানে। কাজ শেখান বাবদ পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন ওই সেলুন মালিক। কিন্তু টাকার অভাবে সেখানে কাজ শেখা হয়নি কিস্কুর। এর ছয় মাস পরই তার বন্ধু লেজারুস কিস্কু ভারতের মুম্বাই থেকে সেলুনের কাজ শিখে ফিরে আসে গ্রামে। পরে সেলুনের দোকান দেন উপজেলার আটপুকুর হাটে। সেই বন্ধুর কাছে সপ্তাহে শনি ও মঙ্গলবার দুই দিন কাজ শেখেন মারচে লিউস কিস্কু। ছয় মাস কাজ শেখার পর নিজের গ্রামের মোড়ে একটি প্লাস্টিকের চেয়ার বসিয়ে শুরু করেন সেলুনের ব্যবসা। কিন্তু এতে তেমন আয়-রোজগার না হওয়ায় শুরু করেন গ্রামে গ্রামে গিয়ে চুল ও দাড়ি কাটার কাজ। এতে বড়দের চুল কাটার মজুরি ৩০ টাকা. দাড়ি কাটা ২০ টাকা এবং বাচ্চাদের চুল কাটা ২০ টাকা নিয়ে থাকেন। তবে অনেকেই এর চেয়ে কমও মজুরি দেন। এতে করে দিনে গড়ে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হয়। এ ছাড়া তার স্ত্রীও কৃষিকাজ করায় সেখান থেকেও বাড়তি আয় আসে। সব মিলিয়ে স্বামী-স্ত্রী ও এক ছেলে নিয়ে তাদের সংসার স্বাচ্ছ্যন্দেই চলে যাচ্ছে। 


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা