× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ঈদে নয় বাড়তি খরচ

আফসানা মিমি

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬ ১৪:১৪ পিএম

ঈদে নয় বাড়তি খরচ

ঈদ মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসব ঘিরে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার এক বিশেষ আবহ তৈরি হয়। নতুন পোশাক কেনা, বাজার করা, অতিথি আপ্যায়ন, উপহার দেওয়া— সব মিলিয়ে ঈদের প্রস্তুতি শুরু হয় বেশ আগে থেকেই। তবে এই আনন্দঘন সময়েই অনেক পরিবার বাড়তি খরচের চাপে পড়েন। পরিকল্পনা ছাড়া খরচ করলে ঈদের পর অনেক সময় আর্থিক সংকটও তৈরি হয়। তাই কিছু সচেতনতা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে ঈদের আনন্দ বজায় রেখেই বাড়তি খরচ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

বাজেট পরিকল্পনা জরুরি

ঈদের খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রথম ধাপ হলো একটি নির্দিষ্ট বাজেট তৈরি করা। ঈদের আগে বসে পরিবারের আয় ও সম্ভাব্য ব্যয়ের একটি তালিকা তৈরি করা উচিত। পোশাক, খাবার, উপহার, যাতায়াত, দান-সদকা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতগুলো আলাদা করে নির্ধারণ করলে মোট খরচ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। বাজেট অনুযায়ী চলার অভ্যাস তৈরি হলে অপ্রয়োজনীয় খরচ অনেকটাই কমে আসে।

কেনাকাটায় আগাম পরিকল্পনা

ঈদের কেনাকাটা অনেকেই শেষ মুহূর্তে করতে পছন্দ করেন। কিন্তু শেষ সময়ে বাজারে ভিড়, তাড়াহুড়া এবং সীমিত সময়ের কারণে অনেক সময় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি দামে পণ্য কিনতে হয়। আবার তখন বিভিন্ন আকর্ষণীয় পণ্য দেখে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটাও হয়ে যায়। তাই আগে থেকেই পরিকল্পনা করে ধীরে-সুস্থে কেনাকাটা করা ভালো। এতে সময় যেমন বাঁচে, তেমনি খরচও নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

তালিকা করে কেনাকাটা

বাড়তি খরচ কমানোর একটি সহজ উপায় হলো তালিকা তৈরি করে কেনাকাটা করা। কেনাকাটার আগে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর একটি তালিকা তৈরি করলে বাজারে গিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। অনেক সময় দোকানে গিয়ে নতুন বা আকর্ষণীয় পণ্য দেখে আমরা এমন কিছু কিনে ফেলি, যা পরে তেমন প্রয়োজনীয় মনে হয় না। তালিকা মেনে কেনাকাটা করলে এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এড়ানো সম্ভব।

পোশাক কেনায় সংযম

ঈদের সঙ্গে নতুন পোশাকের সম্পর্ক অনেক পুরনো। তবে অনেক সময় আনন্দের বশে আমরা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পোশাক কিনে ফেলি। অথচ সব পোশাক ব্যবহার করার সুযোগও হয় না। তাই পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পোশাক কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে খুব বেশি পোশাক না কিনে প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত কেনাকাটা করাই ভালো।

খাবার প্রস্তুতিতে পরিকল্পনা

ঈদের সময় বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি করা হয় এবং অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাবার তৈরি করা হয়, যার একটি অংশ পরে নষ্ট হয়ে যায়। এতে যেমন খাবারের অপচয় হয়, তেমনি অর্থেরও অপচয় ঘটে। তাই অতিথির সংখ্যা ও পরিবারের প্রয়োজন বিবেচনা করে খাবারের পরিকল্পনা করা উচিত। এতে খরচ যেমন কমে, তেমনি অপচয়ও কমানো সম্ভব।

উপহার নির্বাচনে আন্তরিকতা

ঈদের সময় আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের মধ্যে উপহার বিনিময়ের একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে। তবে উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে দামের চেয়ে আন্তরিকতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অনেকেই সামাজিক চাপের কারণে দামি উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেন, যা অপ্রয়োজনীয় আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। ছোট কিন্তু প্রয়োজনীয় বা অর্থবহ উপহার অনেক সময় বেশি আনন্দ এনে দেয়।


অনলাইন কেনাকাটায় সতর্কতা

বর্তমানে অনলাইন কেনাকাটার জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মে নানা ধরনের ছাড় ও অফার দেওয়া হয়। এসব অফার অনেক সময় আকর্ষণীয় মনে হলেও সব পণ্য যে প্রয়োজনীয়, তা নয়। তাই কোনো পণ্য কেনার আগে ভেবে দেখা উচিত সেটি সত্যিই প্রয়োজন আছে কি না। শুধু ছাড়ের লোভে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা থেকে বিরত থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।

ভ্রমণ পরিকল্পনায় সচেতনতা

ঈদের ছুটিতে অনেকেই পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন। ভ্রমণের ক্ষেত্রেও আগে থেকে পরিকল্পনা করলে খরচ অনেকটাই কমানো যায়। শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিলে যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই সময়মতো পরিকল্পনা করে সীমিত বাজেটের মধ্যেই আনন্দদায়ক ভ্রমণ আয়োজন করা যেতে পারে।

ঈদের আনন্দের আসল অর্থ

ঈদের আনন্দের মূল বিষয়টি হলো পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, ভালোবাসা ভাগাভাগি করা এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করা। অতিরিক্ত খরচ করলেই যে ঈদের আনন্দ বাড়বে— এমন ধারণা সঠিক নয়। বরং সীমিত বাজেটের মধ্যেও সুন্দরভাবে ঈদ উদযাপন করা সম্ভব, যদি সেখানে আন্তরিকতা ও পারিবারিক বন্ধন থাকে।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা