সাদিয়া সিদ্দিকা
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬ ১৪:১৩ পিএম
বাঙালি নারীর উৎসবের আমেজ মানেই নতুন পোশাকের ঘ্রাণ। আর ঈদের সকালে আরাম এবং আভিজাত্যের মিশেলে সালোয়ার-কামিজের চেয়ে জুতসই পোশাক আর কী হতে পারে! এবারের ঈদ যেহেতু গরমে, তাই ফ্যাশন হাউসগুলো পোশাকে যেমন রঙের বৈচিত্র্য এনেছে, তেমনি ডিজাইনেও রেখেছে সৃজনশীলতার ছোঁয়া।
কামিজে ফিরছে ভিন্টেজ লুক
এবারের ঈদের কামিজের ডিজাইনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে এর দৈর্ঘ্যে। গত কয়েক বছরের শর্ট কামিজের ধারা কাটিয়ে এবার আবার লম্বা বা লং-কাট কামিজের জয়জয়কার। তবে এটি গতানুগতিক সোজা কাটের নয়। কামিজের নিচের অংশে (হেমলাইনে) অসমান কাট বা ‘অ্যাসিম্যাট্রিকাল কাট’ এখন বেশ জনপ্রিয়।
ডিজাইনের ক্ষেত্রে সুতি, লিনেন এবং অর্গানজা কাপড়ের ওপর ব্লকের কাজ, হাতের কাজ এবং কারচুপির সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে গলার কাছে এবং হাতায় ভারী কারুকাজ থাকলেও কামিজের বাকি অংশ রাখা হচ্ছে ছিমছাম। এবার প্যাস্টেল কালার যেমনÑ ল্যাভেন্ডার, মিন্ট গ্রিন, পাউডার ব্লু এবং পিচ রঙের পোশাকের চাহিদা তুঙ্গে।
সালোয়ারে বৈচিত্র্যের ছড়াছড়ি
কামিজের চেয়েও এবারের ঈদে বেশি এক্সপেরিমেন্ট হচ্ছে সালোয়ার বা নিচের পোশাকটি নিয়ে। কয়েক বছর ধরে চলা ন্যারো শেপ বা লেগিংসের আবেদন এখন ফিকে হয়ে আসছে। তার জায়গা দখল করে নিয়েছে চওড়া ঘেরের সালোয়ার।
প্যালাজো ও ডিভাইডার : এবার ঘেরওয়ালা প্যালাজোর চল ফিরে এসেছে। তবে সাধারণ প্যালাজোর চেয়ে ‘ডিভাইডার’ স্টাইলের প্যান্টগুলো বেশি দেখা যাচ্ছে, যা দেখতে স্কার্টের মতো মনে হয়।
টিউলিপ ও আফগানি প্যান্ট : তরুণীদের মাঝে এবার আফগানি স্টাইলের ঢোলা সালোয়ার বেশ জনপ্রিয়। গোড়ালির কাছে কুঁচি দেওয়া এই সালোয়ারগুলো-কামিজের সাথে একটি বোহেমিয়ান লুক তৈরি করে। এ ছাড়া টিউলিপ কাটের সালোয়ারও ট্রেন্ডে রয়েছে।
লেস ও প্যানেল ডিজাইন : সালোয়ারের নিচের অংশে নেটের কাপড়, অর্গানজা বা চিকন লেস দিয়ে কয়েক স্তরে প্যানেল তৈরি করা হচ্ছে। অনেকে আবার টিস্যু কাপড়ের ওপর সুতোর কাজ করে সালোয়ারে আভিজাত্য ফুটিয়ে তুলছেন।
ওড়না যখন স্টাইল স্টেটমেন্ট
একটা সময় ছিল যখন ওড়নাকে কেবল পোশাকের অনুষঙ্গ মনে করা হতো। কিন্তু এবারের ঈদে ওড়নাই হচ্ছে পোশাকের মূল আকর্ষণ। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে কামিজ ও সালোয়ার একদম একরঙা বা সাধারণ, কিন্তু ওড়নাটি ভীষণ জমকালো।
অর্গানজা ও টিস্যু সিল্ক : ডিজিটাল প্রিন্টের অর্গানজা ওড়না এখন ট্রেন্ডের শীর্ষে। ওড়নার চারদিকে বড় বড় ফুলের মোটিফ এবং জমকালো লেস বা ঝালর ব্যবহার করা হচ্ছে।
কন্ট্রাস্ট ওড়না : একই রঙের পোশাকের সাথে সম্পূর্ণ বিপরীত রঙের ওড়না পরার ট্রেন্ডটি এবারও বজায় থাকছে। যেমনÑ হালকা হলুদ কামিজের সাথে গাঢ় বেগুনি বা ফিরোজা রঙের ওড়না দারুণ মানিয়ে যাচ্ছে।
হাতের কাজের ওড়না : ব্লক প্রিন্টের ওপর কাচের কাজ (Mirror work) বা নকশিকাঁথা স্টিচের ওড়নাগুলোও আভিজাত্যের নতুন সংজ্ঞা দিচ্ছে। বিশেষ করে সুতি বা লিনেন কামিজের সাথে সিল্কের ভারী ওড়না এক ধরনের রাজকীয় ভাব ফুটিয়ে তোলে।
ফেব্রিক ও ম্যাটেরিয়াল
গরমে ঈদ হওয়ায় সুতি কাপড়ের কোনো বিকল্প নেই। তবে উৎসবে একটু গর্জিয়াস লুক পেতে ফ্যাশন ডিজাইনাররা এবার ব্যবহার করছেন সিল্ক, ভিসকস এবং অরগ্যান্ডি। কামিজের হাতায় বেল-স্লিভ বা পাফ-স্লিভের ব্যবহার এবারও চোখে পড়ার মতো। এ ছাড়া থ্রি-পিসের গলায় বড় বোতাম বা ট্যাসেলের ব্যবহার পোশাককে করছে আরও আধুনিক।
রূপটান ও অনুষঙ্গ
ঈদের পোশাকে যখন সালোয়ার ও ওড়নার প্রাধান্য বেশি থাকে, তখন গয়নায় থাকা চাই মুন্সিয়ানা। লং কামিজের সাথে বড় ঝুমকা বা চাঁদবালি এখন ট্রেন্ড। সাথে হাতে একগুচ্ছ কাচের চুড়ি থাকলে তো কথাই নেই। সালোয়ার যদি আফগানি বা টিউলিপ হয়, তবে পায়ে নাগরা বা কোলহাপুরি জুতো বেশ মানানসই।
ফ্যাশন মানেই কেবল অন্ধ অনুকরণ নয়, বরং নিজের ব্যক্তিত্বের সাথে মানানসই পোশাক খুঁজে নেওয়া। এবারের ঈদের সালোয়ার আর ওড়নার ট্রেন্ডে যে বৈচিত্র্য এসেছে, তা যেমন আরামদায়ক তেমনি রুচিশীল। রঙের পরিমিত ব্যবহার আর সঠিক কাটের মেলবন্ধনেই সার্থক হয়ে উঠুক আপনার ঈদের সাজ।